আজ ডিস্কো ড্যান্সার ‘মিঠুন চক্রবর্তী’র (Mithun Chakraborty) জন্মদিনে তাঁকে ঘিরে একগুচ্ছ ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী ‘ঐন্দ্রিলা সেন’ (Oindrila Sen)। তাঁর কথায়, জীবনে খুব কম মানুষই আছেন যাঁদের তিনি হৃদয়ের একেবারে কাছের বলে মনে করেন, আর সেই তালিকায় অন্যতম নাম মিঠুন চক্রবর্তী। তবে তাঁর কাছে তিনি কোনও সুপারস্টার নন, বরং ‘মিঠুন আঙ্কল’। ঐন্দ্রিলা জানান, ছোটবেলায় যখন প্রথম তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়, তখন তিনি বুঝতেই পারেননি মিঠুন চক্রবর্তী কত বড় মাপের তারকা। স্বপন সাহা পরিচালিত ‘অভিমন্যু’ ছবির সেটেই প্রথম দেখা হয়েছিল তাঁদের। সেটে মিঠুন চক্রবর্তীর আগমন নিয়ে চারদিকে বিশেষ প্রস্তুতি এবং উত্তেজনা থাকলেও তাঁর মনে তেমন কোনও আলাদা অনুভূতি ছিল না।
বরং প্রথম থেকেই অভিনেতাকে নিজের পরিবারের একজন সদস্যের মতোই মনে হয়েছিল। ঐন্দ্রিলার কথায়, “মিঠুন আঙ্কলের কাছে কখনও সেই অনুভূতিটা পাইনি যে তিনি মানেই গুরুগম্ভীর একটা ব্যাপার। চিরকাল মনে হয়েছে আমাদের ঘরের লোক, যিনি মুম্বইয়ে থাকেন।” তিনি জানান, মিঠুন চক্রবর্তী শহরে এলেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করতেন। অভিনেতা নিজে ফোন ব্যবহার না করায় যোগাযোগের জন্য তিনি সবসময় প্রদ্যুৎ আঙ্কলকেই ফোন করতেন। ঐন্দ্রিলার মতে, তাঁদের সম্পর্ক এমনই, যার ব্যাখ্যা ভাষায় দেওয়া সম্ভব নয়। তাই যখনই মিঠুন চক্রবর্তীর অসুস্থতার খবর শুনেছেন, তখনই তাঁর খুব কষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, “আঙ্কলের শরীর খারাপ, এটা শুনতে আমার একদম ভালোলাগে না। অদ্ভুত একটা কষ্ট হয়। ঠিক বাবার কিছু হলে যেমনটা হতো।” এই সম্পর্ককে তিনি নিছক সহকর্মীর সম্পর্ক বলে মনে করেন না। অভিনেত্রী আরও জানান, আগে যখন মিঠুন চক্রবর্তী কলকাতায় এসে কোনও হোটেলে থাকতেন, তখন তিনি এবং তাঁর মা নিয়মিত দেখা করতে যেতেন। সেই সময়ের একটি বিশেষ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে ঐন্দ্রিলা বলেন, “যত রাতই হোক না কেন, আঙ্কল আমাদের এগিয়ে দিতে লিফট অবধি এগিয়ে আসতেন। অজান্তেই সেই সময় আমাদের দু’জনেরই চোখের কোণে জল। সেটা যে কেন, আমরা কেউই হয়তো জানি না।”
তাঁর মতে, এই অনুভূতির কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। পাশাপাশি তিনি জানান, মিঠুন চক্রবর্তীর ঘরে তৈরি মাছ এবং মাংসের স্টু খুব পছন্দ। ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর শুটিং চলাকালীন তাঁর মা কস্তুরী সেন বহুবার বাড়ি থেকে চিকেন স্টু রান্না করে পাঠিয়েছেন। অভিনেত্রী জানান, “আমার মায়ের নাম কস্তুরী। ভালোবেসে আঙ্কল কস্তু বলে ডাকে।” বহু বছরের সম্পর্কের নানা ছোট ছোট মুহূর্তও তুলে ধরেছেন ঐন্দ্রিলা। তিনি বলেন, এখনও দেখা হলে আগের মতোই ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন মিঠুন চক্রবর্তীকে। তাঁর মতে, এই সম্পর্কের মধ্যে এক অন্যরকম আদর ও আবদার রয়েছে। শুটিংয়ের সময় মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর খাওয়াদাওয়া, মেকআপ এমনকি জল খাওয়ার দিকেও নজর রাখতেন।
ঐন্দ্রিলার কথায়, “মনে হতো যেন আমিই ওঁর মেয়ে।” শুধু তাই নয়, একদিন ভোরবেলা কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, গোটা পাড়ার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন এবং অনেকেই অভিনেতার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর কাছে ভোলার নয়। মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিনে তাঁর জন্য বিশেষ শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নিজের একটি স্বপ্নের কথাও ভাগ করে নিয়েছেন ঐন্দ্রিলা। তিনি বলেন, “আমি ঠিক করেছি, যখনই বিয়ে করি না কেন, নতুন জীবন শুরুর দিন যাঁকে পাশে থাকতেই হবে, তিনি মিঠুন আঙ্কল।”
আরও পড়ুনঃ শরী’র সঙ্গ দিচ্ছে না আর! গলায় ব্যান্ডেজ, এক সপ্তাহ ধরে তীব্র যন্ত্র’ণায় কাত’রাচ্ছেন সোনু নিগম! ভিডিও বার্তায় উদ্বেগ বাড়ালেন গায়ক, কী হয়েছে জানালেন নিজেই? সুস্থতা কামনায় অনুরাগীরা!
এমনকি কোনও কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁদেরই তাঁর কাছে যেতে হবে বলেও জানান অভিনেত্রী। পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন। ঐন্দ্রিলা বলেন, “ছোট বয়সে যেহেতু কাজ করেছি, তাই আর একটা সিনেমা আমি মিঠুন আঙ্কলের সঙ্গে করতে চাই।” তাঁর বিশ্বাস, সেই সুযোগ এলে মিঠুন চক্রবর্তী আগের মতোই তাঁকে পথ দেখাবেন। সেই স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষাতেই রয়েছেন অভিনেত্রী।






