গত ২৯ মার্চ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে একদিকে যেমন শোকের ছায়া নেমে আসে, তেমনি অপরদিকে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিশেষভাবে দাদা অনির্বাণের হৃদয়ে গভীর দাগ রেখে গেছে। এক মাস হয়ে গেল ভাইকে হারিয়েছেন তিনি। এই এক মাসে বহু পরিকল্পনা আর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হওয়ার আগেই থমকে গেছে। এদিন অনির্বাণ বলেন, “আজ ভোটের দিন, কিন্তু ভাইয়ের চলে যাওয়ার পর আমার মন যেন কোথাও থেমে গিয়েছে। এমন কিছুই ভাবিনি যে, ভাইকে ছাড়া দিন কাটাতে হবে।”
অনির্বাণ জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে বাড়ির না বাইরে থাকলেও মা আর ভাইয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ছিল। ভাই, সহজ-প্রিয়াঙ্কা মায়ের সঙ্গেই ছিল। “ভাই সবসময় মা-র খেয়াল রাখত, সব কিছু দেখাশোনা করত। আমার কাছে থাকলে নিশ্চিন্ত থাকতাম। এখন মনে হচ্ছে ভাইয়ের অভাব অনুভব করছি প্রতিটি মুহূর্তে,” বলেছেন তিনি। ১৭ মার্চ, যখন অনির্বাণ আয়ারল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছিলেন, ভাই তাঁকে বিমানবন্দরে ছাড়তে গিয়েছিল। তখন কি তিনি জানতেন, এর পরবর্তী দিনগুলোতে তাদের আর কোনো শারীরিক সাক্ষাৎ হবে না?
ভাইয়ের মৃত্যুর পর, তার কাছে থাকা অনেক স্মৃতি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে অনির্বাণের মনে। ছোটবেলায় ভাইয়ের সঙ্গে খেলা, মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো—সব কিছুই আজ স্মৃতি হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, “ভাইকে খুঁজে পাই না, সে চলে গেছে। সে ছিল আমার জীবনের অমূল্য অংশ।” তার ভাষায়, রাহুলের মৃত্যু শুধু তার পরিবারেই নয়, বরং পুরো সমাজের জন্যও একটি বড় ক্ষতি। “আমরা অনেক পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু সেগুলো আর বাস্তবে পরিণত হয়নি,” বলেন অনির্বাণ।
এছাড়া, সহজের নিয়েও রাহুলের অনেক পরিকল্পনা ছিল, যেমন নতুন একটি চ্যানেল চালু করা, যার নাম ‘অবাক পৃথিবী’ রাখতে চেয়েছিল সে। তার এই উদ্যোগটি ছিল তথ্যচিত্র বানানোর এবং সারা সপ্তাহের অদ্ভুত ঘটনাগুলি নিয়ে আলোচনা করার। এইসব চিন্তা-ভাবনা নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কিছু দিন আগে পর্যন্ত আলোচনা করেছিলেন অনির্বাণ। তিনি জানান, ভাইয়ের সঙ্গে এইসব বিষয় নিয়ে কাজ করা তাদের জীবনের বিশেষ এক মুহূর্ত ছিল। “এটা আমাদের প্রথম বড় কাজ ছিল একসঙ্গে,” বলেন অনির্বাণ।
এখন, এই শোকের মধ্যে একমাত্র শান্তির আশ্রয় হলো তার মা। মহালয়ার দিন ভোর পাঁচটায় জন্ম রাহুলের, তখন ঠাকুরদা তার নাম রেখেছিলেন ‘অরুণোদয়, এবং সেই নামটি আজও তাদের হৃদয়ে অমলিন। ছোট ভাইপোও সহজের মধ্যেও নাকি রাহুলের অনেক ছাপ দেখেছেন অনির্বাণ, ওর থেকে অনেক কিছু শিখছেন বলেও জানিয়েছেন। “ভাইয়ের অপ্রকাশিত কাজগুলি আমাদের জন্য এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে,” বলেছেন অনির্বাণ। যদিও মা এখনো এই শোক থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না, তিনি জানিয়েছেন, এই পুজোয় কলকাতায় থাকবেন না।
আরও পড়ুন: ২২ বছরে গড়া ভাবমূর্তি, এক সিদ্ধান্তেই ভেঙে দিল ‘টলি কুইন’-এর বাংলার ঘরের ‘লক্ষ্মী মেয়ে’ ইমেজ! আগে থেকেই সাজানো সমীকরণ, নাকি মল্লিক পরিবারও সামলাতে পারল না প্রলোভনের টান? জানেন, কেন রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন কোয়েল মল্লিক?
মাকে আয়ারল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন অনির্বাণ, কিন্তু পাসপোর্টের সমস্যা। “ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মা-কে নিয়ে যাব আয়ারল্যান্ডে, যাতে তার কিছুটা ভালো লাগে,” বলেছেন তিনি। রাহুল বই পড়তে খুব ভালোবাসতেন, মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও চারটে শুকতারা কিনেছিল সে। তিনটে বই নিজের কাছে রেখে একটা দিয়েছিল অন্য কাউকে। কিন্তু বাকিগুলো পড়া হয়নি একবারও। তাই শেষকৃত্যের সময় বইগুলো ছবির সামনে রেখেছিলেন অনির্বাণ। তিনি বলেছেন হয়তো বাবার মতো হওয়া সম্ভব নয়, তবে সহজে পাশে থাকবেন আজীবন।






