টলিউডের অন্যতম চর্চিত জুটি ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) ও দেবশ্রী রায় (Debashree Roy)। নব্বইয়ের দশকে তাঁদের প্রেম ও বিয়ে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ১৯৯২ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন বছরের মাথায় ১৯৯৫ সালে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন দু’জনে। বহু বছর পর সেই সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন প্রসেনজিতের বোন ‘পল্লবী চট্টোপাধ্যয়’ (Pallavi Chatterjee)। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি এমন কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন, যা অনেকের কাছেই ছিল এতদিন অজানা। বিশেষ করে তাঁদের বিয়ের সময় পরিবারের ভূমিকা নিয়ে তাঁর মন্তব্য এখন নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
পুরনো সেই অধ্যায় ঘিরে ফের আলোচনায় টলিপাড়া। পডকাস্টে পল্লবী জানান, “খুব অল্প মেয়াদ ছিল সেই বিয়ের। দেবশ্রীর পরিবার আমাদের খুব কাছের ছিল। বিয়ের সময় দেবশ্রী নিঃসন্দেহে আমার দাদার থেকে বড় সুপারস্টার ছিল।” এরপর তিনি আরও বলেন, “আমি বা মা কেউই সেই বিয়ের অংশ ছিলাম না। আমরা আসলে জানতামই না। আমরা অন্য কারও থেকে জেনেছিলাম। বাড়িতে কেউ একটা এসে বলেছিল, ওঁদের তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মাকে বলেছিল।” এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই অবাক হয়েছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা হলেও পরিবারের অজান্তে বিয়ের ঘটনা এত স্পষ্টভাবে আগে সামনে আসেনি।
পল্লবীর দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রসেনজিৎ ও তাঁর মায়ের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্যও তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “এই নিয়ে দাদার সঙ্গে মায়েরও কিছু মনোমালিন্য হয়েছিল। মাত্র ১ বছরই ওদের সম্পর্ক ছিল। তারপর ভাই আবার আমাদের পরিবারে ফিরে আসে। এরপর মা যখন মারা যা, তখন অপর্ণার সঙ্গে ভাইয়ের ডেটিং চলছিল।” যদিও প্রসেনজিৎ ও দেবশ্রী নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে শোনা যায়, ছোটবেলার বন্ধুত্ব থেকেই তাঁদের প্রেমের শুরু। পরে তাড়াহুড়ো করেই তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে পৌঁছায় সেই দাম্পত্য।
তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে সেই সময় নানান জল্পনা তৈরি হয়েছিল। টলিপাড়ার একাংশের মতে, পেশাগত সাফল্য ও প্রতিযোগিতার বিষয়টি সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে দেবশ্রী রায়ের ‘উনিশে এপ্রিল’ ছবির সাফল্য এবং জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছিল। পাশাপাশি এমন অভিযোগও শোনা গিয়েছিল যে, দেবশ্রীকে অভিনয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে প্রসেনজিৎ একসময় জানিয়েছিলেন, সন্তান নেওয়ার বিষয়ে দু’জনের মতের অমিল ছিল। বিচ্ছেদের সময় আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমি সুস্থ জীবন চেয়েছিলাম।
সেটা ও দেয়নি। তাই ওর জন্য অপেক্ষা করার পর, আরেক জনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। যে আমাকে আবার স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছে। সবাইকে ছেড়েও চুমকির থেকে পেয়েছি অপমান। আমাদের সন্তান চাওয়া নিয়েও মনোমালিন্য ছিল।” দেবশ্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ১৯৯৭ সালে অপর্ণা গুহঠাকুরতাকে বিয়ে করেন প্রসেনজিৎ। এই সংসারে জন্ম হয় তাঁদের কন্যা প্রেরণার। তবে ২০০২ সালে সেই সম্পর্কও ভেঙে যায়। বর্তমানে অপর্ণা ও প্রেরণা দেশের বাইরে থাকেন। পরে একই বছরে অভিনেত্রী অর্পিতা পালকে বিয়ে করেন প্রসেনজিৎ। তাঁদের ছেলে তৃষাণজিৎ, যাকে পরিবারের সদস্যরা মিশুক নামেও ডাকেন।
আরও পড়ুনঃ ‘সেদিন অপমানে চোখে জল এসেছিল…কাজ করতে দেওয়া তো দূরের কথা, আমার সঙ্গে আরও অনেক অন্যায় হয়েছে’ এত বঞ্চনা সহ্য করেও কেন মমতার ডাকে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে গেলেন সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়? সমালোচনার মুখে কী বললেন অভিনেত্রী-আবৃত্তিকার?
অন্যদিকে দেবশ্রী রায় আর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেননি। পডকাস্টে প্রসেনজিতের দ্বিতীয় বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েও কথা বলেন পল্লবী। তিনি জানান, “তৃতীয় বউয়ের সঙ্গে এখনো আছেন, আর থাকবেনও। ওঁদের মধ্যে কিছু মতানৈক্য ছিল। খুব কষ্ট পেয়েছিল অপর্ণা। সবে বাচ্চাও হয়েছিল। হতে পারে ওঁর ভালো লাগে একজন স্ত্রী থাকুক এই ব্যাপারটা। বিবাহিত থাকতে চান। এমনিতে খুব ঘরোয়া মানুষ। মাটির মানুষ। ওদের এক ছেলে আছে। ছেলেও ভীষণ ভালো। ওঁর জন্য শুধু বউ আর ছেলে পরিবার নয়, গোটা বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ওঁর পরিবার। আমরা ওঁর পরিবার কি না জানা নেই, কিন্তু টলিউড ইন্ডাস্ট্রি ওঁর পরিবার।” পল্লবীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রসেনজিতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।






