“টলিউডে অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি হয়ে গিয়েছিল” দাবি পাপিয়া অধিকারীর ! এবার কি ফিরবে স্বচ্ছতা? শেষ হবে ‘মাফিয়া কালচার’? বদলাতে চলেছে টলিগঞ্জের ক্ষমতার সমীকরণ, যোগ্যতার ভিত্তিতেই কি কাজ পাবেন কলাকুশলীরা? ভোটে জিতে ঠিক কী বার্তা দিলেন তিনি?

বাংলা বিনোদন জগৎ, বিশেষ করে টলিউডকে ঘিরে বহুদিন ধরেই এক অদৃশ্য চাপা অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছিল এখানে নাকি এক ধরনের “মাফিয়া কালচার” কাজ করে। কে কাজ পাবে, কে পাবে না, কোন শিল্পী কোন প্রজেক্টে সুযোগ পাবেন, এসবই নাকি ঠিক হত কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইচ্ছেমতো। অনেক শিল্পী, টেকনিশিয়ান ও নতুন পরিচালকরা বারবার অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক মত বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তাঁদের কাজ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। ফলে প্রতিভার চেয়ে ‘যোগাযোগ’ বড় হয়ে উঠেছিল বলেই দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এই প্রেক্ষাপটেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জ কেন্দ্রে বড়সড় পালাবদল ঘটেছে। প্রায় ২০ বছর পর এই কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। বিপুল ভোটে জয়ের পর তাঁর বাড়ি, ৩৩ নম্বর অঞ্জুমান আরা বেগম রো, এখন কার্যত মানুষের ভিড়ে সরগরম। কেউ ফুলের তোড়া নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন, কেউ আবার নিজেদের অভিমান-অভিযোগ জানাতে। এই জয় শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, টলিগঞ্জ ও টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

জয়ের পর পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্য ইতিমধ্যেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বলেন, অনেক ভুল বার্তা বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা তিনি এতদিন পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারেননি। তাঁর দাবি, সেই ভুল ধারণা ভেঙে এবার তিনি প্রচুর মুসলিম ভোট পেয়েছেন, যা তাঁর জয়ের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, দীর্ঘদিনের ‘দুর্ভেদ্য’ শক্ত ঘাঁটি ভেঙে তিনি এগিয়ে এসেছেন মানুষের সমর্থনেই। তাঁর কথায়, “আমরা মারধর করতে চাই না, আমরা পরিবর্তন চাই” এই বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন।

টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পাপিয়া অধিকারীর মন্তব্য সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর অভিযোগ, এতদিন টলিগঞ্জে এক ধরনের “একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ” চলত, যেখানে প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠীর হাতেই কাজের সুযোগ ও সিদ্ধান্ত সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি পরোক্ষভাবে অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট বাতাবরণ তৈরি করে রাখা হয়েছিল, যার কারণে অনেক যোগ্য শিল্পী ও টেকনিশিয়ানকে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। পাপিয়ার দাবি, সেই “অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের পরিবেশ” এবার বদলাবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কারও ব্যক্তিগত প্রভাব বা রাজনৈতিক ছায়া নয়, যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতেই টলিউডে সুযোগ দিতে হবে। তিনি আরও জানান, অরূপ-স্বরূপদের তৈরি সেই পুরনো কাঠামো ভেঙে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: দুঃসংবাদ! ভোটের ফলাফল নিয়ে উচ্ছ্বাস, সব আনন্দ থামিয়ে দিল মর্মা’ন্তিক সড়ক দুর্ঘ’টনা! প্রাণ গেল জনপ্রিয় অভিনেতার! গুরুতর আ’হত স্ত্রী, হাসপাতালে লড়ছেন মৃ’ত্যুর সঙ্গে! শোকে স্তব্ধ ইন্ডাস্ট্রি!   

এই পরিবর্তনের ফলে টলিগঞ্জে কি সত্যিই নতুন সুযোগের দরজা খুলবে? শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়। পাপিয়ার কথায়, পরিচালক থেকে টেকনিশিয়ান সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন, কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। ফলে অনেকের আশা, এবার হয়তো যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ মিলবে। একই সঙ্গে, পাপিয়া নিজেও জানিয়েছেন সুযোগ পেলে তিনি আবার অভিনয়ে ফিরতে চান, যদিও আপাতত তাঁর প্রধান লক্ষ্য দায়িত্ব সামলানো। সব মিলিয়ে, তাঁর জয় শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয় টলিউডের ভবিষ্যৎ দিক পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।

You cannot copy content of this page