“যেন পাড়ার ক্লাব যে দলবেধে পিকনিক খেলতে গেছে, কোথায় সেই প্রোডিউসাররা?” “রাহুলের ফাইল এবার খোলা হবে, ওর পরিবার তো জাস্টিসই পেল না” টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে পা রাখতেই হুংকার পাপিয়া অধিকারীর! বিজেপি আমলে কি শাস্তি পাবে, অভিনেতার মৃ’ত্যুর আসল দোষীরা?

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিনোদন জগতেও। নতুন বিজেপি সরকার আসায় রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ও বিভিন্ন পুরনো ঘটনার তদন্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই আবার সামনে উঠে এল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা এই বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে ফের সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। তাঁর দাবি, এতদিন নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি, তাই নতুন পরিস্থিতিতে রাহুলের মৃত্যুর ফাইল আবার খুলে দেখা প্রয়োজন।

চলতি বছরে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু টলিউডে তীব্র শোকের আবহ তৈরি করেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। টলিউডের একাংশ অভিযোগ তোলে, শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের একাধিক গাফিলতি ছিল। এমনকী একটি রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে শুটিং করতে গেলে যে নিয়ম ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তা আদৌ মানা হয়েছিল কি না সেই প্রশ্নও ওঠে। সম্প্রতি ফের সেই পুরনো ক্ষত উস্কে দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। অভিনেতার পরিবার থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির একাংশও চাইছে, পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক এবং দায়ীদের সামনে আনা হোক।

এই পরিস্থিতিতেই আজ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে পা রাখতেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন পাপিয়া অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “রাহুল তো জাস্টিস পায়নি তাই ওর ফাইল অবশ্যই আবার খোলা হবে। কী পেল ওর পরিবার? সুবিচার আমাদের দিতেই হবে।” তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয়, তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন শুটিং ইউনিট ও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও। পাপিয়ার কথায়, “একটা রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে শুটিং করতে হলে যে সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেগুলো কিছুই মানা হয়নি। যেন পড়ার ক্লাব যে চল রে একটু দলবেধে পিকনিক পিকনিক খেলতে যাই!

সেটা কখনোই হতে পারে না। একটা শুটিংয়ের পেছনে অনেক অনেক মানুষদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার পরিশ্রম থাকে। যারা সেদিন দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে সামনে আসতে হবে এবার। কোথায় সেই প্রোডিউসাররা?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই ইস্যুতে পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্য নতুন নয়। অভিনেতার শেষযাত্রার দিনও তিনি বিজয়গড়ে রাহুলের বাড়িতে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সেই সময় স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও তুমুল উত্তেজনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেখান থেকে ফিরে যেতে হয়।

আরও পড়ুনঃ পাল্টির ধুম লেগেছে! “আমি খুব ভীত…আমার কেরিয়ারে কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়েছে” এবার তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন সোহম চক্রবর্তী? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রূপা গাঙ্গুলির কাছে কী বিশেষ আবেদন করলেন অভিনেতা?

সেই ঘটনার পর থেকেই এই মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে। যদিও পাপিয়া এবার দাবি করেছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, একজন শিল্পীর ন্যায়বিচারের দাবিতেই এই লড়াই চালিয়ে যেতে চান। তাঁর বক্তব্য, রাহুলের পরিবার ঠিক কী পেয়েছে এবং তারা আদৌ সুবিচার পেয়েছে কি না, সেটাও সামনে আনা প্রয়োজন। শুধু রাহুলের ঘটনাই নয়, ভবিষ্যতে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। তাঁর মতে, টলিউডে কাজ করা শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা এবং নির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, বারবার দুর্ঘটনা বা গাফিলতির অভিযোগ সামনে এলেও অনেক সময় তা চাপা পড়ে যায়। তাই নতুন প্রশাসনিক পরিবেশে এই সমস্ত বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা ফের বাংলার বিনোদন জগতের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page