একসময় ছোটপর্দার জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো রোজগেরে গিন্নি সঞ্চালনা করে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন গায়িকা পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে নিয়মিত দেখা না গেলেও সমাজমাধ্যমে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে তিনি কখনও পিছপা হন না। কখনও বাংলা বিনোদন জগৎ, কখনও শহর কলকাতা নিয়ে তাঁর মতামত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এবার কলকাতায় কাজ করতে আসা গৃহসহায়িকাদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন শিল্পী।
সমাজমাধ্যমে করা তাঁর সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, শহরে কাজ করতে আসা বহু গৃহসহায়িকা নাকি চুরির সঙ্গে জড়িত এবং কাজের চেয়ে অন্য কাজে বেশি সময় ব্যয় করেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং শোনা ঘটনার ভিত্তিতে তিনি এই অভিযোগ তুলেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে একাংশ সমর্থন জানালেও অনেকেই এই মন্তব্যকে একপাক্ষিক এবং অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন। নারী সম্পর্কে এমন সাধারণীকরণ এবং প্রমাণহীন অভিযোগ নিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তাঁর মন্তব্য নিয়ে সরব হয়েছিল বিনোদন দুনিয়া। গত বছর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইতে মুক্তি পাওয়া ডাইনি ওয়েব সিরিজ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। মিমি চক্রবর্তী অভিনীত এবং নির্ঝর মিত্র পরিচালিত এই সিরিজকে তিনি তুচ্ছ করে মন্তব্য করেন, যা ঘিরে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়। তাঁর মন্তব্যে আঘাত পান যাত্রা জগতের অনেকেই, কারণ সিরিজটিকে ‘যাত্রা টাইপ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।
এর জবাবে সরব হন যাত্রা জগতের পরিচিত মুখ কাকলি চৌধুরী। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তায় তিনি যাত্রাশিল্পের মর্যাদা এবং পরিশ্রমের কথা তুলে ধরে পরমার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান। শুধু তিনি নন, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, একজন শিল্পীর উচিত অন্য শিল্পমাধ্যমকে সম্মান করা এবং দায়িত্বশীল মন্তব্য করা। এই ঘটনার পর থেকেই পরমার বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের ধারা আরও তীব্র হয়।
আরও পড়ুনঃ “ম’রে গেলেই ভালো হতো আমার!” সায়কের জীবনের অন্ধকার সময়ের স্মৃতি, ফের উস্কে দিল বিতর্ক! তীব্র সমালোচনার মাঝেও প্রত্যাবর্তনের আশায় অনুরাগীরা!
বারবার বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমাজমাধ্যমে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন এক বিতর্কমুখী ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন। কেউ তাঁর স্পষ্টভাষী মনোভাবের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ বলছেন, জনসমক্ষে এমন মন্তব্য সামাজিক সংবেদনশীলতাকে আঘাত করে। সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আরও একবার দেখিয়ে দিল তাঁর প্রতিটি মন্তব্য কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্পীর স্বাধীন মতপ্রকাশ আর সামাজিক দায়বদ্ধতার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত, সেই প্রশ্নই আবার সামনে এনে দিল এই বিতর্ক।






