বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেতা ‘পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়’ (Parambrata Chatterjee)। বহুদিন ধরেই তাঁকে পরোক্ষভাবে বিজেপি বিরোধী এবং তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে মনে করতেন অনেকেই। রাজনৈতিক মঞ্চে সরাসরি সক্রিয় না হলেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্য এবং অবস্থান নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছে। এমনকি নির্বাচনের আগে জোর গুঞ্জন উঠেছিল, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম থাকতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হননি। তবে ভোটের আগে তৃণমূলের প্রচারে তাঁকে দেখা যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও বেড়ে যায়। অভিনেতা নিজেও একাধিকবার বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূলের বড় হারের পর তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে!
বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর টলিউডেও পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন অনেক শিল্পী। সেই আবহেই গত পরশু বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের উপস্থিতিতে ফেডারেশনের একটি বৈঠকে হাজির ছিলেন পরমব্রত। সেখানেই তিনি জানান, দীর্ঘদিন তাঁকে কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। এতদিন তিনি বিষয়টিকে ইন্ডাস্ট্রির মতবিরোধ বলে ব্যাখ্যা করলেও এবার সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই শেষ পর্যন্ত তাঁকে “দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চাইতে” হয়েছিল, তারপর আবার কাজ ফিরে পান। অথচ গত ১৫ বছর বাংলায় তৃণমূল সরকারের আমলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর ইঙ্গিত!
ফলে যাঁকে একসময় সমর্থন করেছিলেন, সেই দল হারতেই তাঁর বক্তব্যে বড় বদলের আভাস দেখছেন অনেকে। এরই মধ্যে সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে পরমব্রতের একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও। সেখানে অভিনেতাকে বলতে শোনা যায়, “ব্যক্তিগতভাবে একটা সম্মান ছিল, আছে এবং থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার। বিশেষ করে তাঁর লড়াইয়ের প্রতি, একজন রাজনৈতিক হিসেবেও।” একই সঙ্গে তিনি এসআইআর প্রসঙ্গেও আপত্তির কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, “এসআইআর নিয়েও সমালোচনা ছিল এবং আছে। পুরো পদ্ধতিটাই বিতর্কিত।” তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে শুধুমাত্র সেই কারণেই সরকার বদল হয়েছে, এমনটা তিনি মনে করেন না।
তাঁর কথায়, “আমি বলছি না শুধু এসআইআরের জন্যই এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সেটা একেবারেই না, এটা বলাটা মূর্খামি। রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয়ে যাব না, তবে এসআইআর পদ্ধতিটায় যে এত মানুষ শেষে এসে ভোটের অধিকার হারিয়ে ফেলল, সেটাকে নিয়েই আমার আপত্তি। আর সেটা নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথা হয়েছে অনেকবার।” পরমব্রত আরও জানান, সেই আলোচনা থেকেই তাঁকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অভিনেতার দাবি, “উনি সেখান থেকেই আমায় বলেছিলেন তৃণমূল দলের অংশ হতে, যেটা আমি মুখের উপর প্রত্যাখ্যান করি। নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ভোটের টিকিট দেওয়া হচ্ছিল, বিধায়ক হয়ে লড়তে বলা হয়েছিল কিন্তু আমি নেইনি এবং যাইনি।
আরও পড়ুনঃ “উনি শুধু অভিনেতা নন, হিন্দু বিরোধী রাজনীতির মুখ!” “দেশ জুড়ে ভারত বিরোধী আন্দোলনের অংশ, এখন সন্তানের কথা বলে সহানুভূতি চাইছেন?” বিজেপি বিরোধী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ফলোয়ার পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়! রাজনৈতিক ষ’ড়যন্ত্রের অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভে উত্তাল নেটমাধ্যম!
দু’তিন দিন যদিও ভাবার সময় নিয়েছিলাম, তারপর আমার মনে হয় যে হ্যাঁ, ২০২১ সালে আমি বঙ্গের ভালো ভেবেছি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে, রাজনীতি যদি আমায় করতে হয় তো আরজি কর কাণ্ড বা এসএসসি কাণ্ড ভুলে, এই মুহূর্তে এই দলটার হয়ে বিধায়ক পদে কখনোই দাঁড়াতে পারবো না!” পরমব্রতের এই বক্তব্য সামনে আসার পর থেকেই সমাজ মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে কটাক্ষের ঝড় উঠেছে। কেউ তাঁকে “হিন্দু বিরোধী” বলে আক্রমণ করেছেন, আবার কেউ লিখেছেন, “আগে চটি খেত, এখন পাল্টি খায়।” রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগও তুলছেন অনেকে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রচারে অংশ নেওয়া এবং পরে দল সম্পর্কে সমালোচনামূলক মন্তব্য করায় বিরোধিতা আরও বেড়েছে।






