বিপদের সময় যে পাশে এসে দাঁড়ায়, সেই-ই প্রকৃত আপন, এই চিরন্তন কথাটাই যেন আবার নতুন করে প্রমাণিত হলো বাংলা বিনোদন জগতে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জী-র অকাল প্রয়াণে যখন টলিউড জুড়ে শোকের ছায়া, ঠিক সেই সময়ই সামনে উঠে এসেছে সম্পর্ক, দায়িত্ব আর মানবিকতার এক অন্য ছবি। গত কয়েকদিন ধরে যেমন শোক, তেমনই নানা মতভেদ আর বিতর্কে উত্তাল ছিল ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু এই অস্থির সময়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাঁকে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখা গেছে, তিনি হলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যেন এক নিঃশব্দ অভিভাবক হয়ে দাঁড়িয়েছেন সকলের পাশে।
রাহুলের মৃত্যুর দিন থেকেই এক মুহূর্তের জন্যও পিছিয়ে যাননি প্রসেনজিৎ। শোকাহত পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের পাশে ছায়ার মতো থেকেছেন তিনি। শুধু মানসিক সমর্থনই নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে তাঁকে। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার অধীনে যে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, সেই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ, এফআইআর দায়ের থেকে শুরু করে ঘটনাস্থল তালসারি পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া সবকিছুতেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন প্রসেনজিৎ। একজন সিনিয়র শিল্পী হিসেবে তাঁর এই উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টি কেড়েছে সকলের।
এই কঠিন সময়ে বহু শিল্পীই পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু একজন অভিভাবকের মতো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রসেনজিৎ, এ কথা বলাই যায়। টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে সহ-অভিনেতা-অভিনেত্রী, সকলের কথাই ভেবেছেন তিনি। পরিস্থিতি সামলানো, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, সবকিছুতেই তাঁর নেতৃত্ব স্পষ্ট। আর এই পুরো লড়াইয়ে তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। একসঙ্গে তাঁরা যেন দেখিয়ে দিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রি মানে শুধু কাজ নয়,একটা পরিবারও।
এতদিন অনেক সময় নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণাকে। কেউ কেউ তাঁদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন। কিন্তু বাস্তবের এই কঠিন মুহূর্তে তাঁদের কাজই যেন সব কিছুর জবাব দিয়ে দিয়েছে। যখন চারদিকে অনিশ্চয়তা, দোষারোপ আর বিভাজনের ছবি, তখন তাঁরা এগিয়ে এসে তৈরি করেছেন একতার বার্তা। মানুষের পাশে থাকা, দায়িত্ব নেওয়া,এই গুণই তাঁদের নতুন করে সম্মান এনে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ভালো কাজ করেছেন বলেই তো মানুষ ভোট দিচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আবার মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চাই” “ভাতাতে সামাজিক উন্নতি না হলেও, অনেকের উপকার হচ্ছে” বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অকপট বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী!
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু শুধু শোক নয়, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের সম্পর্কের আসল চেহারাটাও সামনে এনে দিয়েছে। আর সেই ছবিতে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বিপদের সময়ে যাঁরা এগিয়ে আসেন, তাঁরাই আসল নেতৃত্ব দেন, এই ঘটনাই যেন আবার মনে করিয়ে দিল, তারকারা শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও নায়ক হতে পারেন।






