তৃণমূল আমলে টলিউডে রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব এবং শিল্পীদের কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। গত কয়েক বছরে একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দাদাগিরি এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে কাজ বণ্টনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। আরজি কর-কাণ্ডের পর সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়লেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল এবং দেবিকা মুখোপাধ্যায়। একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের একাংশে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে অনেক শিল্পী ভয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতেন, এমনকি মুখ খুলতেও সাহস পেতেন না।
দেবিকা মুখোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “আমিও কিন্তু ভিক্টিমাইজ হয়েছিলাম। আমিও সিরিয়াল পাইনি। আমাকেও কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি সেগুলো কোনওদিন বলার সুযোগ পাইনি।” তাঁর কথায়, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন এক ধরনের দাদাগিরি চলত যেখানে কিছু মানুষ ঠিক করে দিতেন কে কাজ পাবেন আর কে পাবেন না। তিনি বলেন, “দাদাগিরিটা এমন ছিল যে তারাই বলে দিত, ও কাজ করবে, ওকে নিন, একে নেবেন না। আমরা কাজ করতে এসেছি, কিন্তু আমাদের মনের মতো চরিত্র বা কাজ পাওয়া যেত না।” অভিনেত্রীর দাবি, একাধিক জনপ্রিয় এবং সফল ছবিতে অভিনয় করার পরেও সেই সাফল্যের প্রতিফলন কাজের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

শুধু কাজ হারানোর অভিযোগই নয়, সেই সময়ের ভয়ের পরিবেশ নিয়েও মুখ খুলেছেন দেবিকা। তাঁর কথায়, “আমরা কেউ কোনও কথা বলতে পারতাম না। বাড়িতে পরিবার আছে। আমাকে অনেক শো করতে যেতে হয়। যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যায়? সেই ভয়টা তো ছিলই।” তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিল্পী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে বলেও দাবি করেন তিনি। রত্না বলেন, “এখন একদম নির্ভয়ে যাচ্ছি। রাত বারোটা, একটা, দুটোতেও বাড়ি ফিরছি। আগে যেমন ভয় পেতাম, এখন আর সেই ভয়টা নেই।” তাঁর মতে, শিল্পীদের মধ্যে এখন অনেকটাই স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে দেবিকার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন রত্না ঘোষাল। তিনি জানান, শিল্পীদের মধ্যে কাজের সুযোগ বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। অনুষ্ঠানে পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বহু স্মৃতি ফিরে এসেছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে ছবি করেছি। অনেক দিনের সম্পর্ক। আজ সবাইকে একসঙ্গে দেখে অনেক পুরনো কথা মনে পড়ে গেল।” পাশাপাশি মেগা সিরিয়ালে আর কাজ না করার প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকতে হয়, এখন আর সেই ধৈর্য নেই। বয়সও বাড়ছে, তাই আর সেইভাবে কাজ করার ইচ্ছে নেই।”
আরও পড়ুনঃ “পায়ের গোড়ালি ভেঙে ঝুলছিল, চার পাশ থেকে চারটে হাড় বেরিয়ে এসেছিল” ডাক্তার বলেছিলেন হাঁটার আশা প্রায় শেষ! তবু মৃ’ত্যুয’ন্ত্রণার মাঝেও শুটিং বন্ধ করেননি, অপারেশনের ৬ দিনের মাথায় ফ্লোরে ফিরেছেন রীতা দত্ত চক্রবর্তী! অভিনেত্রীর সংগ্রামের কাহিনি অবাক করবে আপনাকেও!
তবে দুই অভিনেত্রীই স্পষ্ট করে জানান, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চান না। রত্না ঘোষাল বলেন, “আজ আনন্দের দিন, রাজনীতির কথা বলতে চাই না। কিন্তু যেটা হচ্ছে সেটা ভালো হচ্ছে। ভালোর জন্য যেটা হবে, সেটাও ভালোই হবে।” তাঁর মতে, টলিউডে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে তা শিল্পীদের জন্য ইতিবাচক ফল নিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে শিল্পীদের যোগ্যতা এবং কাজের ভিত্তিতেই সুযোগ দেওয়া হবে, কোনও গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী মহলের নির্দেশে নয়। রত্না ও দেবিকার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ফের একবার টলিউডের অন্দরের রাজনীতি এবং শিল্পীদের বঞ্চনার অভিযোগকে সামনে নিয়ে এল।






