টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান ‘টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ডস’-এ এ বছর সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের ‘গৃহপ্রবেশ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য এই স্বীকৃতি পান তিনি। অনুষ্ঠানের রেড কার্পেটে নীল শাড়িতে তাঁর উপস্থিতি যেমন নজর কেড়েছিল, তেমনই পুরস্কার গ্রহণের পর দেওয়া তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেই ভিডিও সামনে আসতেই নেটপাড়ায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি এখন টলিপাড়ার অন্যতম চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
পুরস্কার হাতে মঞ্চে উঠে শুভশ্রী প্রথমেই ছবির পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তকে ধন্যবাদ জানান। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, “যাঁকে এই অ্যাওয়ার্ডটা উৎসর্গ করতে চাই, তিনি হলেন আমাদের পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। ইন্দ্রদীপদা এই ছবিটার জন্য আমার জন্য দীর্ঘ ২ বছর অপেক্ষা করেছিলেন। ধন্যবাদ আইডি (ইন্দ্রদীপ), ‘তিতলি’ চরিত্রটা আমার জীবনে দেওয়ার জন্য।” এরপর তিনি ছবির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ‘গৃহপ্রবেশ’-এর গোটা টিমকে ধন্যবাদ জানান।
নিজের বক্তব্যে শুভশ্রী বলেন, “‘গৃহপ্রবেশ’-এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে, রুডি (রুদ্রনীল ঘোষ) সামনে বসে আছে, কৌশিকদা (গঙ্গোপাধ্যায়), সোহিনীদি (সেনগুপ্ত)… হয়তো অনেকের নাম আমি এই মুহূর্তে ভুলে যাচ্ছি, তাঁদের সকলকে আমার ধন্যবাদ। আমাদের গোটা কাস্ট অ্যান্ড ক্রু-কে কৃতজ্ঞতা।” তবে এই দীর্ঘ ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্যেও ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা জিতু কমলের নাম আলাদা করে উচ্চারণ না করায় শুরু হয় বিতর্ক। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে থাকে।
জিতু কমলের অনুরাগীদের একাংশের দাবি, ছবিতে শুভশ্রীর পাশাপাশি জিতুর ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, এমন একটি সাফল্যের মুহূর্তে জিতুর নাম উল্লেখ না করা মোটেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। কেউ কেউ আবার এর পেছনে টলিউডে স্বজনপোষণ বা নেপোটিজমের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন। এক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আর কতটা নিচে নামবেন মিসেস চক্রবর্তী? জিতু কমল এই ছবির প্রধান স্তম্ভ ছিলেন, অথচ ওঁর নামটা মুখে আনতেও আপনার এত অহংকার?” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেও অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “আমরাও ভি’ক্টিমাইজ হয়েছিলাম, আমাদের পরিবার আছে” “রাতে শো করে একা ফিরতে হতো, ভয় পেতাম কারণ…” বিশ্বাস ব্রাদার্সের কো’পের মুখে পড়েছিলেন ‘ছোট বউ’ দেবিকা মুখোপাধ্যায়ও! কর্মহীনতা থেকে আ’তঙ্ক, এতদিন কীভাবে ভুগতে হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে?
অন্যদিকে শুভশ্রীর সমর্থকদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের মতে, পুরস্কার গ্রহণের সময় উত্তেজনা ও আবেগের কারণে অনেক শিল্পীই সহকর্মীদের নাম ভুলে যান এবং শুভশ্রী নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে তিনি হয়তো অনেকের নাম এই মুহূর্তে মনে করতে পারছেন না। ফলে বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃত অপমান হিসেবে দেখা ঠিক নয় বলেই মনে করছেন তাঁরা। তবে জিতুর ভক্তরা সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাঁরা জিতুর পুরনো সাক্ষাৎকার ও ভিডিও সামনে এনে দাবি করছেন, সহকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে জিতু সবসময়ই উদার মনোভাব দেখিয়েছেন। এমনকি দিতিপ্রিয়া রায়ের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজ করা নিয়েও তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তাই শুভশ্রী সত্যিই ভুলে গিয়েছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে জিতুর নাম এড়িয়ে গিয়েছেন, সেই প্রশ্ন নিয়েই এখন টলিপাড়ার অন্দরে জোর চর্চা চলছে।






