বাংলা সংগীত জগতের পরিচিত মুখ পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকগান, আধুনিক গান, ভক্তিগীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মঞ্চের অনুষ্ঠানে নিজের কণ্ঠের জোরে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। গান গাওয়ার পাশাপাশি নিজের স্পষ্ট বক্তব্যের জন্যও বারবার আলোচনায় উঠে এসেছেন এই গায়িকা। এর আগেও একাধিক সাক্ষাৎকারে মঞ্চে অপমান, কটূক্তি এবং শিল্পীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতি আবারও একটি সাক্ষাৎকারে জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমালোচনাকে কীভাবে দেখেন, তা নিয়ে অকপটে কথা বললেন পৌষালী। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
সাক্ষাৎকারে পৌষালী বলেন, “হাইসিয়াত বোঝা যায় শত্রুর সংখ্যা দেখে! যখন দেখবে তোমার পিছনে লোকের অনেক খারাপ কথা বলছে, চারিদিকে সমালোচনা হচ্ছে বা বেশিরভাগ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই তুমি, তখন বুঝবে তুমি ঠিক পথে যাচ্ছ!” তাঁর মতে, একজন মানুষের সাফল্য যত বাড়ে, তাঁকে নিয়ে সমালোচনাও তত বাড়তে থাকে। অনেকেই অন্যের সাফল্য মেনে নিতে পারেন না। তাই নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য, কটাক্ষ কিংবা অপপ্রচারের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেই সব বিষয়কে গুরুত্ব না দিলেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেই মনে করেন গায়িকা।
এরপর নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে পৌষালী বলেন, “তোমার ভালো হচ্ছে বলেই আর পাঁচজন যারা নিজেদের জীবনে কিছু করতে পারছে না, তারা তোমার সাহস এবং আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে এইভাবে।” তাঁর মতে, অন্যের কথায় ভেঙে পড়ার বদলে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকাই সবচেয়ে জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের সমালোচনা কখনও একজনের সাফল্য নির্ধারণ করতে পারে না। বরং সেই সমালোচনাকে শক্তিতে পরিণত করে নিজের কাজের মাধ্যমে উত্তর দেওয়াই সবচেয়ে বড় জবাব। তাই তিনি সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘এটা কি সত্যিই মহানায়কের মূর্তি?’ ‘এমন সম্মান কোনও কিংবদন্তির প্রাপ্য নয়, এভাবে মহানায়ককে সম্মান জানানো যায় না!’ এটা কে? কার মূর্তি বসিয়ে দিয়েছে? এখনও সময় আছে, ভুল শুধরে নতুন মূর্তি বসান! উত্তম কুমারের আবক্ষমূর্তি নিয়ে ক্ষো’ভে ফেটে পড়লেন রত্না ঘোষাল! প্রতিবাদের সুর আরও জোরালো, কী হবে এবার?
এই প্রসঙ্গেই গায়িকা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একটি বাণীর উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গীতায় একটা কথা লেখা আছে, অন্যের মুখ থেকে বেরোনো তোমার নামে যেকোনও শব্দ বা অন্যের দ্বারা পরিচালিত কাজ ততক্ষণ মূল্যহীন যতক্ষণ না সেটা তুমি গুরুত্ব দাও!” পৌষালীর মতে, জীবনে শান্ত থাকতে হলে অযথা সমালোচনা বা অপমানকে নিজের মনে জায়গা দেওয়া উচিত নয়। অন্য কেউ কী বলল, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ নিজের সম্পর্কে কী ভাবছেন। এই ভাবনাই তাঁকে সব কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি।
পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য সামনে আসার পর সমাজমাধ্যমে তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই তাঁর আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সাফল্যের পথে সমালোচনা আসবেই, সেটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা সকলের থাকা উচিত। গায়িকার এই বক্তব্য শুধুমাত্র শিল্পীজীবনের জন্য নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার বার্তা হয়ে উঠেছে। নিজের অভিজ্ঞতা এবং গীতার বাণী মিলিয়ে সমালোচনার মোকাবিলায় যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তিনি তুলে ধরেছেন, তা ইতিমধ্যেই নেটমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।






