“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এনিগম্যাটিক এবং ক্যারিসম্যাটিক মানুষ খুব কমই দেখেছি” ভোটের মুখে হঠাৎ কেন এমন মন্তব্য রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের? অভিনেতার কথায় কি শুধুই ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও ইঙ্গিত?

বর্তমান সময়ে বাংলা বিনোদন জগতের অনেক শিল্পীকেই শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা যায় না। সিনেমা, সিরিয়াল বা মঞ্চে কাজ করার পাশাপাশি অনেকেই এখন রাজনীতি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। কেউ সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, আবার কেউ বা নির্দিষ্ট কোনো মতাদর্শকে সমর্থন করে জনসমক্ষে কথা বলেন। ফলে শিল্পীদের ব্যক্তিগত মতামতও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ রাহুল ব্যানার্জি (Rahul Banerjee)দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। খুব ছোটবেলা থেকেই তাঁর অভিনয়ে হাতেখড়ি। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবার থিয়েটার দলের মাধ্যমে মঞ্চে ওঠেন তিনি। পরবর্তীতে রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান। শুধু বড়পর্দায় নয় এরপর টেলিভিশনে ‘দেশের মাটি’ এবং ‘তুমি আসবে বলে’-র মতো সিরিয়ালে অভিনয় করে নিজের জায়গা আরও শক্ত করেন। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা, লেখালেখি এবং পডকাস্ট নিয়েও ব্যস্ত তিনি।

রাজনীতির ক্ষেত্রেও রাহুল নিজের অবস্থান নিয়ে বহুবার খোলাখুলি কথা বলেছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন বলেই জানিয়েছেন, তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মত প্রকাশ করতে কখনও পিছপা হন না। অতীতে “নো ভোট টু বিজেপি” আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁকে যুক্ত থাকতে দেখা গিয়েছিল। নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বামপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও কোনো দলের ভুল দেখেও চুপ করে থাকার পক্ষপাতী নন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-কে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, তাঁদের বড় হওয়ার সময় বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো “এনিগম্যাটিক” এবং “ক্যারিসম্যাটিক” বিরোধী নেত্রী তিনি খুব কমই দেখেছেন। ‘এনিগম্যাটিক’ বলতে এমন একজন মানুষকে বোঝায় যার ব্যক্তিত্বে এক ধরনের রহস্যময় আকর্ষণ থাকে এবং যিনি সহজে অন্যদের দৃষ্টি টেনে নেন। আর ‘ক্যারিসম্যাটিক’ মানে এমন নেতৃত্বের গুণ, যার ব্যক্তিত্ব ও কথাবার্তা মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাবিত করে এবং অনুপ্রাণিত করে। রাহুলের কথায়, সেই সময়ে বাংলার রাজনীতিতে বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি অনেক মানুষের কাছেই বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতোই ছিল।

আরও পড়ুনঃ “এখন দেখা হলেও আর চিনতে পারে না দেব!” “জিৎ কিন্তু ভীষণ ভদ্র ছেলে, কখনও পলিটিক্সে জড়ায় না!” টলিউডের দুই সুপারস্টারকে নিয়ে বি’স্ফোরক মন্তব্য অনামিকা সাহার! তুলনা টেনে ক্ষো’ভ উগরে, আর কী বললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী?

অভিনেতা আরও জানান, ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন তাঁর পরিচিত অনেক মানুষ শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একবার কাছ থেকে দেখার জন্য ভবানীপুরের বাড়িতে চলে যেতেন। আবার একই সঙ্গে তিনি সেই সময়ের রাজনীতির অন্য ছবিটাও দেখেছেন—কেউ কেউ মনে মনে অন্য মতাদর্শে বিশ্বাস করলেও কাজের জায়গায় ভয়ের কারণে অন্য দলের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হতেন। এই অভিজ্ঞতাগুলিই তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা গড়ে তুলেছে বলে জানান রাহুল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোটের আগে এমন মন্তব্য সামনে আসতেই দর্শক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশে নতুন করে নানা জল্পনাও তৈরি হয়েছে—অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, অভিনেতার এই বক্তব্য কি শুধুই ব্যক্তিগত স্মৃতি, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো রাজনৈতিক ইঙ্গিত।

You cannot copy content of this page