কিছুদিন আগেই সদ্য প্রয়াত অভিনেতা ‘রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rahul Arunoday Banerjee), পরিচালক ‘রাজ চক্রবর্তী’র (Raj Chakraborty) সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর শুটিংয়ের সময় পরিচালক এবং তাঁর মধ্যে যে অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। রাহুল স্পষ্ট করেছিলেন, তাঁর কাছে তখনকার সময় খুব সহজ ছিল না। একজন নবীন অভিনেতার জন্য এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত চাপসৃষ্ট। রাজ ক্রমশ তাঁর উপর বিশ্বাস হারাচ্ছিলেন, এক পর্যায়ে তাঁকে ‘অসৎ’ মন্তব্যে করায়, রাহুলের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করেছিল।
আজ অভিনেতার অকাল প্রয়াণের খবর শুনে পুরো টলিপাড়া স্তব্ধ। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন তালসারিতে জলে নামার সময় হঠাৎ রাহুল ডুবে যান। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জীবন থেমে যায়। সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, শুটিং প্রায় শেষ হওয়ার সময় রাহুল আরও কিছু শট দিতে চেয়েছিলেন, আর সেই মুহূর্তে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রাহুলের মৃ’ত্যুতে রাজের আবেগও প্রকাশ পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “না, আমি সত্যি ভাবতে পারছি না।

আমি ইলেকশন ক্যাম্পেইনে ছিলাম। শুভশ্রী ফোন করে বলেছে যে ‘রাহুলের এরকম একটা নিউজ পেয়েছি, তুমি কনফার্ম করো।’ আমি প্রথমে ভেবেছি ভুল খবর। আমি ইন্ডাস্ট্রিরও অনেক কে জানতে চাই কিন্তু সবাই বলে ফেক। তারপর আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে জানতে পারি এরকম নিউজ। তারপর তালসারিতে একজন এর থেকে খবর জানি, যে হ্যাঁ এরকম অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে।ট্যালেন্টেড অ্যাক্টর!” এই বার্তায় স্পষ্ট যে, রাহুলের অকাল প্রয়াণ রাজের মধ্যেও প্রগাঢ় আক্ষেপ ও শোক সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুনঃ টলিউডে শোক! প্রয়াত ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ খ্যাত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়! মৃ’ত্যুকালে বয়স ৪২!
প্রসঙ্গত, অভিনয় জীবনের শুরুতেই রাহুল ও রাজের সম্পর্ক যেমন কিছুটা দ্বন্দ্বপূর্ণ ছিল, তেমনি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ তাদের প্রথম হিট। আজ সেই হিটের স্মৃতি আর অকাল প্রয়াণ এক সঙ্গে মিলিয়ে, এই মৃ’ত্যু যেন অদ্ভুতভাবে দূরত্ব ঘুচিয়েছে! দুইজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মানসিক প্রলম্বিত দূরত্ব, আজ রাহুলের প্রয়াণে কিছুটা মুছে গেছে। আক্ষেপ ঝড়ের মতো রাজের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, আর তার মধ্যেই রাহুলের কীর্তি, হাসি এবং অভিনয় জীবনের স্মৃতি বেঁচে আছে।

উল্লেখ্য, আজ দর্শকরা শুধু একজন অভিনেতাকে হারাননি, বরং সেই প্রিয় মুখ, যিনি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁকে হারিয়েছেন। শুটিং সেটের প্রতিটি মুহূর্ত, পর্দায় আবেগময় উপস্থিতি, এবং দর্শকের সঙ্গে তৈরি করা সম্পর্ক, সবই আজ রাহুলকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। মৃ’ত্যুতে ঘুচল দূরত্ব, আর আক্ষেপের মধ্যেও রাহুলের প্রতিভা ও ভালোবাসা টলিপাড়ার মনে চিরকাল অম্লান থাকবে।






