“এখন যেহেতু সবার একটি দুটি সন্তান, তাই নিজেদের সমস্ত চাওয়া ও না পাওয়া, সবটাই চাই তার মধ্যে দিয়ে পেতে” বর্তমান অভিভাবকদের মানসিকতা নিয়ে বি’স্ফোরক রজতাভ দত্ত! অজান্তেই কি বেড়ে চলেছে সন্তানের উপর চাপের পাহাড়? কী পরামর্শ দিলেন অভিনেতা?

আজকের ব্যস্ত জীবনে সন্তানকে ঘিরে বাবা-মায়ের আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কম সংখ্যক সন্তানের পরিবারে সেই প্রত্যাশার চাপও অনেক বেশি। কিন্তু এই চাওয়া-পাওয়ার মাঝেই কি হারিয়ে যাচ্ছে সন্তানের নিজের ইচ্ছে? এই নিয়েই সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেতা রজতাভ দত্ত(Rajatava Dutta), যা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে অনেককেই।

আলোচনার শুরুতেই উঠে আসে বর্তমান সময়ের পারিবারিক বাস্তবতা। এখন অধিকাংশ পরিবারেই এক বা দুই সন্তানের বেশি নেই। ফলে বাবা-মায়েরা স্বাভাবিকভাবেই চান, তাদের সব অপূর্ণ ইচ্ছে যেন সন্তানের মাধ্যমে পূরণ হয়। ভালো পড়াশোনা, ভালো ক্যারিয়ার, সমাজে প্রতিষ্ঠা—সবটাই যেন আগে থেকে নির্ধারিত। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে, এই প্রত্যাশা কি কখনো কখনো অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে?

সাক্ষাৎকারে অভিনেতা স্পষ্ট করে জানান, এই প্রবণতা নতুন নয়, তবে এখন তা আরও বেশি চোখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের নিজের পছন্দ বা আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বরং তাকে এমন পথে ঠেলে দেওয়া হয়, যা হয়তো তার জন্য একেবারেই স্বাভাবিক নয়। তবে তিনি এটাও বলেন, সময় বদলাচ্ছে। এখন অনেক বাবা-মা এই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হচ্ছেন এবং সন্তানকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিচ্ছেন।

এখানেই আসে মূল বার্তা—সন্তানকে স্বাধীনভাবে বড় হতে দেওয়া কতটা জরুরি। তার মতে, গাইড করা আর নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে পার্থক্য আছে। সন্তানকে সঠিক দিশা দেখানো দরকার, কিন্তু তার হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। কারণ, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতা থেকেই একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। ছোট থেকেই যদি সেই সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তার উপর প্রভাব পড়তেই পারে।

আরও পড়ুনঃ আনন্দের মাঝেই ফের শর্মা পরিবারে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ! হঠাৎ করেই চরম অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়াত অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলার মা ও বাবা! বিপাকে দিদি ঐশ্বর্য শর্মা, জানালেন কী হয়েছে? এখন কেমন আছেন তাঁরা?

শেষে তিনি একটি বাস্তব কথাই তুলে ধরেন—সব বাবা-মায়েরই ইচ্ছে থাকে সন্তান ভালো থাকুক, সফল হোক। কিন্তু সেই ভালো থাকার সংজ্ঞা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই সন্তানের উপর নিজের স্বপ্ন চাপিয়ে না দিয়ে, তার নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়াই আসল দায়িত্ব। এই বার্তাই যেন আজকের প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়ে উঠছে।

You cannot copy content of this page