‘বিগ বস বাংলা’র ঘর থেকে নন্দিনী দত্ত বেরিয়ে যাওয়ার পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রাজবীর দে। যদিও নন্দিনী আসলে সিক্রেট রুমে রয়েছেন, সেই খবর এখনও ঘরের কোনও প্রতিযোগীর জানা নেই। নন্দিনীকে হারানোর ধাক্কাই যে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট, তা নয় বলে মনামী ঘোষকে জানান রাজবীর। কথা বলতে বলতে তিনি ফিরে যান নিজের ছোটবেলার কঠিন দিনগুলিতে। মাত্র ৬ বছর বয়সে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। আলিপুরদুয়ারের একটি হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন রাজবীর। সেই সময় তাঁর পরিবারে নানা সমস্যা চলছিল এবং পারিবারিক অশান্তির প্রভাবও পড়েছিল সকলের উপর। রাজবীর জানান, সেই পরিস্থিতিতে তাঁর বাবা ধীরে ধীরে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন এবং অবসাদেও ভুগছিলেন।
রাজবীরের কথায়, সেই সময় তাঁদের বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। বাড়িতে জলও ছিল না, ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। তখন রাজবীরের মা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তাঁর ভাই মায়ের পেটে ছিল। মা সেই সময় আলিপুরদুয়ারে মামাবাড়িতে চলে এসেছিলেন, কিন্তু তাঁর বাবা সেখানে যাননি। রাজবীরের বক্তব্য অনুযায়ী, বাবার মনে একটা অভিমান এবং আত্মসম্মানের বিষয় কাজ করত। তিনি ভাবতেন, নিজের পরিবারকে যখন ঠিক ভাবে চালাতে পারছেন না, তখন কী ভাবে কারও কাছে সাহায্য চাইবেন। রাজবীর বলেন, তাঁর বাবা নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই রাখতেন এবং কারও কাছে মাথা নত করতে চাইতেন না। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পরিবারের আরও এক নতুন সদস্যের জন্ম হয়। ভাই জন্মানোর পরও সেই কঠিন সময় যে তাঁদের পরিবারের উপর কতটা প্রভাব ফেলেছিল, রাজবীরের কথাতেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এরপরের ঘটনাটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে আসে বলে জানান রাজবীর। তিনি বলেন, তাঁর ভাই তখন মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের। মা তাঁকে পড়াচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় হঠাৎ তাঁর মামা বাড়িতে আসেন। মামা কিছু একটা বলার পর বাড়ির পরিবেশ আচমকাই গম্ভীর হয়ে যায়। এরপর কোনও রকম দেরি না করে রাতেই গাড়ি বুক করে সবাই শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। শিলিগুড়িতে কাকার বাড়িতে পৌঁছনোর পরই রাজবীর জানতে পারেন কী ঘটেছে। বাড়িতে ঢুকেই তিনি দেখেন, মা, কাকি এবং দিদা সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তারপর মামা তাঁকে পাশে ডেকে কানে কানে বলেন, “রাজ তোর বাবা আর নেই।” মাত্র ৬ বছরের রাজবীর সেই খবর শুনে কী ভাবে কেঁদে ফেলেছিলেন, সেই মুহূর্ত এখনও তাঁর মনে গভীর ভাবে রয়ে গিয়েছে।
মনামী ঘোষের সামনে বসেই সেই পুরনো স্মৃতির কথা খুলে বলেন রাজবীর। তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর তাঁর চোখ থেকে গলগল করে জল বেরিয়ে এসেছিল। সেই মুহূর্তটিকেই নিজের জীবনের সবচেয়ে শকিং পয়েন্ট বলে মনে করেন তিনি। রাজবীর বলেন, “ওটা শুনে যে আমার চোখ থেকে যে গলগল করে জল বেরোল, ওটাই ছিল আমার সবথেকে শকিং পয়েন্ট। এখনও মনে পড়ে।” ছোটবেলা থেকেই পরিবারের নানা সমস্যার মধ্যে বড় হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও এদিন মনামীকে জানান তিনি। বিদ্যুৎহীন বাড়ি, জলের অভাব, পারিবারিক অশান্তি এবং বাবাকে হারানোর সেই ঘটনা তাঁর জীবনের সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। নন্দিনী দত্তের বেরিয়ে যাওয়ার পর রাজবীর কিছুটা ভেঙে পড়লেও পরে নিজেকে সামলে নিয়েছেন। অন্যদিকে নন্দিনী যে আসলে বিগ বসের সিক্রেট রুমে রয়েছেন, সেই খবর ঘরের কেউ জানেন না। সেখান থেকেই তিনি নিয়মিত হাউজমেটদের উপর নজর রাখছেন এবং বাড়ির ভিতরের ঘটনাগুলি দেখছেন।
আরও পড়ুনঃ “নরেন্দ্র মোদি কিন্তু মানুষ নন, উনি ঠাকুর…ওনার ভাব সমাধি হয়েছিল, সবার হয় না!” “সাহিত্যের মানুষ বুদ্ধদেবকে শুধু মুখ্যমন্ত্রীর চাকরি দেওয়া হয়েছিল!” বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মুখ্যমন্ত্রিত্ব নাকি পাইয়ে দেওয়া চাকরি, এদিকে ‘চা-ওয়ালা’ প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি দেবতার আসনে বসিয়ে গদগদ পাপিয়া অধিকারী! দু’জনের তুলনা টেনে আর কী বললেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী?
নন্দিনীর গোপন অবস্থান সম্পর্কে অজ্ঞাত রাজবীর এখন বিগ বসের ঘরেই নিজের মতো করে খেলায় মন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে মনামীর সঙ্গে এই কথোপকথনে তাঁর জীবনের একেবারে ব্যক্তিগত অধ্যায় সামনে চলে আসে। নন্দিনীকে হারানোর কষ্টের প্রসঙ্গ থেকেই কথার সূত্রে বাবাকে হারানোর সেই পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যান তিনি। মাত্র ৬ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর সেই ঘটনা আজও তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলির একটি। পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বাবার অসহায়তা এবং নিজের ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতার কথাও অকপটে জানান রাজবীর। অন্যদিকে নন্দিনী সিক্রেট রুমে বসে প্রতিযোগীদের গতিবিধি দেখছেন এবং ঘরের ভিতরের সমস্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। তাই একদিকে রাজবীর যখন মনে করছেন নন্দিনী আর বিগ বসের ঘরে নেই, অন্যদিকে গোপনে সবটাই দেখছেন নন্দিনী। এই মুহূর্তে নন্দিনীর গোপন অবস্থান এবং রাজবীরের অজানা থাকা বিষয়টিই বিগ বসের ঘরে তৈরি করেছে নতুন পরিস্থিতি।






