বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন বায়োপিক ‘গুনগুন করে মহুয়া’। এই ছবিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ শুধু মহুয়ার অভিনয় জীবন নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অধ্যায়ও উঠে আসতে পারে এই ছবিতে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জোরকদমে চলছে ছবির শুটিং। প্রযোজক রানা সরকার এবং পরিচালক রাজদীপ ঘোষের এই উদ্যোগকে ঘিরে টলিপাড়ায়ও আলোচনা শুরু হয়েছে। মহুয়ার জীবন, তাঁর সাফল্য এবং অকালে চলে যাওয়ার ঘটনাকে নতুনভাবে পর্দায় তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে বলেই জানা যাচ্ছে।
১৯৫৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহুয়া রায়চৌধুরী। বাংলা ছবির জগতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই তাঁর জীবন থেমে যায়। কীভাবে তাঁর শরীরে আগুন লেগেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন এবং আলোচনা রয়েছে। শুধু অভিনয় নয়, ব্যক্তিগত জীবন এবং টলিপাড়ার বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও বহুবার চর্চা হয়েছে। সেই কারণেই তাঁর জীবনভিত্তিক ছবি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ অনেক বেশি। এই ছবিতে রঞ্জিত মল্লিকের আদলে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্যকে।
সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রোহন জানান, “আমাকে হঠাত্ করেই রানাদা জানান, এই চরিত্রের জন্য আমাকে ভাবছেন। এর মধ্যে বেশ ভালো কিছু বায়োপিকে বিভিন্ন অভিনেতাকে দেখেছি। যেমন ‘অপরাজিত’-তে জিতু কমলকে দেখেছি বা ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবিতে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে দেখেছি। এই ছবিতে আমি সেরকম একটা চরিত্র করার প্রস্তাব পেলাম।” এমন একটি চরিত্রে সুযোগ পাওয়ায় তিনি যে যথেষ্ট আনন্দিত, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট। রঞ্জিত মল্লিক সম্পর্কে নিজের অনুভূতির কথাও ভাগ করে নিয়েছেন রোহন।
তিনি বলেন, “রঞ্জিত মল্লিককে আমার মা খুব পছন্দ করতেন। উনি ভীষণ পজিটিভ একজন মানুষ। উনি যেসব চরিত্র করেছেন, সেগুলোও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পজিটিভ। ব্যক্তিগত জীবনেও, ওঁর মধ্যে যে পজিটিভিটি আছে, তা নজরকাড়া। হয়তো সেটাই আমার মধ্যে, আমার লুকের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন রানাদা।” রোহনের মতে, এমন একজন জনপ্রিয় অভিনেতার আদলে তৈরি চরিত্রে অভিনয় করা নিঃসন্দেহে বড় দায়িত্বের বিষয়। সেই দায়িত্ব তিনি যথাসম্ভব ভালোভাবে পালন করতে চান বলেও জানিয়েছেন। ছবিটি নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথাও খোলাখুলি জানিয়েছেন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ নিরাপত্তা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি যশের! হঠাৎ কেন এমন পদক্ষেপ? কী এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন অভিনেতা?
তাঁর কথায়, “আমি খুব এক্সাইটেড, কারণ ছবিটা ভালো হবে, সেই প্রত্যাশা রয়েছে। ছোটবেলায় শুনতাম, আমার ছোটপিসিকে মহুয়া রায়চৌধুরীর মতো দেখতে। তাই ওঁকে নিয়ে বাড়িতে অনেক কথা হতো। আমি মহুয়া রায়চৌধুরীর সব ছবি দেখিনি। তবে যতটুকু দেখেছি, তাতে বলতে পারি, খুব সুন্দরী ছিলেন আর দারুণ অভিনেত্রী ছিলেন। আমার এটাও মনে হয়, সকলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকে না। মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনের বিভিন্ন মোড় নিয়ে সেই কৌতূহল আছে। তাই সব কিছু মিলিয়ে আমি খুশি যে এমন একটা চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেলাম।” এখন দর্শকদের অপেক্ষা, ছবিতে মহুয়া এবং রঞ্জিত মল্লিকের সম্পর্ক ও সমীকরণের নানা দিক কীভাবে তুলে ধরা হয় তা দেখার জন্য।






