“অভিনেতার ‘অহংকার’ জিনিসটা থাকা দরকার, নিজেকে সহজলভ্য ভাবলে হবে না!” “জনতাকে শুধু সম্মান করো, ইন্ডাস্ট্রিতে অসম্মানের যোগ্য লোকের অভাব নেই!” নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সুদীপা বসুর! মন্তব্যে পরোক্ষভাবে খোঁচা দিলেন কাদের?

আজকের বিনোদন জগতে প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনই বদলেছে তারকাদের আচরণ, কাজের ধরণ আর দর্শকের সঙ্গে দূরত্বের হিসেব। জনপ্রিয়তা এখন অনেক দ্রুত আসে, কিন্তু সেই সাফল্য সামলানোর মানসিক প্রস্তুতি সবার সমান থাকে না। ফলে পেশাদারিত্ব, ভদ্রতা আর আত্মসম্মানের সীমারেখা কোথায় টানতে হয়, সেই জায়গাতেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি! ঠিক এই বাস্তব প্রেক্ষাপটেই উঠে এসেছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ‘সুদীপা বসু’র (Sudipa Basu) কিছু পর্যবেক্ষণ। যা শুধু ইন্ডাস্ট্রি নয়, তার বাইরের মানুষকেও ভাবাবে!

সম্প্রতি, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের আচরণ আর পেশাদার মানসিকতা নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বহু অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের আমি দেখেছি, যারা নিজেদের খুব সহজলভ্য করে তোলে। অভিনেতার অহংকার থাকাটা খুব দরকার! তা বলে ভুল অহংকার নয়!” তাঁর মতে, শিল্পীর আত্মসম্মান থাকা জরুরি, কিন্তু সেটি যেন কখনও ঔদ্ধত্যে না গড়ায়। জনপ্রিয়তা আর সম্মান, দুটোরই একটা ভারসাম্য থাকে এবং সেই সীমারেখা বুঝতে পারাটাই আসল শিক্ষা।

এই প্রসঙ্গেই তিনি ভক্তদের সঙ্গে ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন। সুদীপা জানান, “একজন মানুষ এলো তোমার সঙ্গে ছবি তুলতে বা হাত মেলাতে, তুমি তার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করলে সেটা ওই অহংকারের মধ্যে পড়ে না।” অর্থাৎ, ব্যক্তিত্ব আর দুর্ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য বোঝা দরকার। দর্শকই শিল্পীকে তৈরি করেন, এই সহজ সত্যটা ভুলে গেলে চলবে না বলেই তাঁর মত! তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “এই অহংকার কোনদিন শাহরুখ খানও দেখায়নি। জনতা হচ্ছে জনার্দন, ওনার আছেন বলেই তুমি আছো!

কাজেই ওদেরকে তুমি সব সময় সম্মান করো।” এই কথাগুলো বলার সময় তাঁর কণ্ঠে ছিল অভিজ্ঞতার দৃঢ়তা। তবে, সম্মান দেওয়া মানেই সবকিছু চুপচাপ মেনে নেওয়া নয়, এই দিকটিও তিনি স্পষ্ট করেছেন! সুদীপা বলেন, “অসম্মান করার মতো লোক কিছু কম নেই ইন্ডাস্ট্রিতে, তাদের সেটা করতেই পারো দরকার পড়লে আর সেখানে দ্বিধাবোধ করবে না!” যেখানে প্রাপ্য নয় সেখানে আপস না করার মানসিকতাও দরকার, বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, নম্রতা ও দৃঢ়তার সহাবস্থানই একজন প্রকৃত পেশাদার শিল্পীর চিহ্ন।

আরও পড়ুনঃ “টাকা দিলেই শিল্পীর সময় বা ভাবনা কেনা যায় না…এক ঘণ্টা আগে বলে, আমি উঠতে পারব না!” শিল্পের শহরেই শিল্পীর অপমান! অনুষ্কা শঙ্কর-অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টে, আগাম পারিশ্রমিক দিলেও মঞ্চে হয়নি স্থান! আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হতেই, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জী!

উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবনের নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে আজ আবার অভিনয়ে সক্রিয় সুদীপা। টলিউডে বহু বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এই উপলব্ধিগুলো এসেছে বলে জানান অভিনেত্রী। বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি দেখেছেন সময় বদলেছে, কাজের ধরন বদলেছে, কিন্তু কিছু মৌলিক মূল্যবোধ একই রয়ে গেছে। তারকাখ্যাতি যতই বাড়ুক, মাটিতে পা রেখে চলার শিক্ষা না থাকলে সেই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না, এমন ইঙ্গিতই ছিল তাঁর কথায়।

You cannot copy content of this page