“আমার মেকআপ রুমে ঢুকেই দেখি, তরুণরা পায়ের উপর পা তুলে সিগারেট খাচ্ছে!” “আজকাল কেউ সিনিয়রদের কদর করে না, আর কাজ করতে চাই না!”— অভিমানী শকুন্তলা বড়ুয়ার স্বীকারোক্তি! অবহেলা, অপমানে কাজ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর!

টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ‘শকুন্তলা বড়ুয়া’ (Shakuntala Barua) বাংলা সিনেমা এবং টেলিভিশনের পরিচিত মুখ। একসময় উত্তমকুমারের মতো কিংবদন্তি অভিনেতার সঙ্গেও বড়পর্দা ভাগ করেছেন তিনি। নায়িকা থেকে শুরু করে পার্শ্ব চরিত্র, সব জায়গাতেই তার অভিনয় দক্ষতা নজর কেড়েছে দর্শকের। বহু ছবির পাশাপাশি ধারাবাহিকতেও তাকে দেখতে অভ্যস্ত দর্শকরা। অভিনয়ের সঙ্গে সংসার সামলানো এবং গান গাওয়ার মতো প্রতিভাও তার জীবনের এক বড় অংশ হয়ে থেকেছে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। যদিও কিছুদিন আগে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগেছিলেন তিনি। গলায় একটি মাংসপিণ্ড ধরা পড়ায় তাকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন এটি ক্যা’ন্সারের মতো মারাত্মক নয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। সেই লড়াই থেকে আজ অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি এবং নতুন ছবির শুটিংও শেষ করেছেন।

Shakuntala Barua Opens Up About Her Health And Cancer Recovery After Throat Surgery

মিঠুন চক্রবর্তী ও দেবের সঙ্গে প্রজাপতি ২ ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তার জন্য ছিল বিশেষ। দীর্ঘ বিরতির পর সেটে ফিরে কাজ করার আনন্দ তিনি উপভোগ করেছেন। তবে বড়পর্দার অভিজ্ঞতার বাইরে এসে সম্প্রতি তিনি জানালেন নিজের আক্ষেপের কথা। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন আর তাকে ধারাবাহিকে ডাকা হয় না। শেষবার তিনি অভিনয় করেছিলেন ‘ক্ষীরের পুতুল’ ধারাবাহিকে। তার পরে নানা জায়গা থেকে কাজের প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে কোনো ডাক আসেনি।

এত অভিজ্ঞতার পরেও এভাবে কাজের বাইরে থেকে যাওয়া তার কাছে বেদনাদায়ক। তিনি জানান, আগে ধারাবাহিকে অভিনয় করতে তার ভীষণ ভালো লাগত, কিন্তু এখন সেই জগৎ থেকে তিনি অনেকটা দূরে সরে গিয়েছেন। শুধু কাজের অভাব নয়, ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শকুন্তলা। তার দাবি, শুটিং সেটে অনেক সময় তাকে যথেষ্ট সম্মান দেওয়া হয় না। একান্ত ইচ্ছা ছিল আলাদা মেকআপ রুমের, অন্তত সমবয়সী কারও সঙ্গে শেয়ার করার মতো পরিবেশ।

কিন্তু বর্তমানে ছোটদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে থাকা বা তাঁদের অবহেলার চোখে দেখা তাকে ব্যথিত করে। তিনি বলেছেন, অনেক সময় এমন হয়েছে যে মেকআপ রুমে ঢুকেই দেখেছেন অল্প বয়সী অভিনেতারা অবলীলায় পায়ের ওপর পা তুলে সিগারেট খাচ্ছে। এই আচরণ তার কাছে অসম্মানের। টলিউডের মতো ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে অভিজ্ঞতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত, সেখানে এভাবে অবজ্ঞা পাওয়া নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। শকুন্তলা বড়ুয়া আজও বিশ্বাস করেন এখনও তিনি কাজ করতে সক্ষম।

আরও পড়ুনঃ মিঠির অদ্ভুত আচরণে হতবাক স্বতন্ত্র! বর্ষার ব্যঙ্গের জবাবে মিটিল দিল কড়া শিক্ষা, এই সাহসী প্রতিক্রিয়ায় জব্দ হয়েছে চন্দ্রও! প্লুটোর স্মৃতি বুকে নিয়ে মৌয়ের বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত!

তবে সেই সুযোগ না মেলার যন্ত্রণা তিনি আড়াল করেন না। তার স্পষ্ট বক্তব্য, অভিজ্ঞ অভিনেতাদের জন্য আলাদা মর্যাদা থাকা উচিত, যাতে নতুন প্রজন্মও তাদের থেকে শিক্ষা নিতে পারে। অভিনয়ের এই দীর্ঘ যাত্রায় সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোই দেখেছেন তিনি। তবুও শকুন্তলা বড়ুয়ার আশা, আগামী দিনে হয়তো আবারও কোনও বিশেষ চরিত্রে তিনি নিজের জাদু ছড়াতে পারবেন এবং দর্শকদের ভালোবাসা ফিরে পাবেন। অভিমান ও আক্ষেপের মাঝেও শকুন্তলা বড়ুয়ার কণ্ঠে আজও অভিনয়ের প্রতি অটুট টান স্পষ্ট।

You cannot copy content of this page