ছোটপর্দার অভিনেত্রী শ্রীমা ভট্টাচার্যের (Shreema Bhattacherjee) জীবন যেন বারবার ফিরে যায় একই অভিজ্ঞতার কাছে। একদিকে ক্যামেরার সামনে ঝলমলে আলো, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে ব্যথা-বেদনার ছাপ, এই দুইয়ের টানাপোড়েনের মাঝেই পথ চলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি জানিয়েছেন, শুটিং সেটেই আবারও নতুন করে চরম পরিণতির মুখে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে লুকোনো যন্ত্রণা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, তবু অভিনেত্রীর শক্তি যেন আরও বেশি করে ফুটে উঠেছে প্রতিটি কথায়।
প্রসঙ্গত, পটায়ায় একটি শুটিং চলাকালীন হঠাৎ ঘটে যায় সেই অঘটন। টানা বৃষ্টির মধ্যে স্কুটিতে একটি দৃশ্যের শুটিং করা হচ্ছিল। ভিজে রাস্তায় চাকা পিছলে গেল আচমকাই! মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে আঘাত পান সারা শরীরে শ্রীমা। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, আবারও আঘাত লাগে তাঁর পায়ের সেই একই স্থানে— যেখানে এর আগে বহুবার আঘাতের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আগের ক্ষত আবার নতুন করে বড় আকার নিতে পারে।
পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল যে চারপাশে থাকা সবাই চিন্তায় পড়ে যায়। কিন্তু এর পর যা ঘটল, তা শুনলে যে কেউ আঁতকে উঠবেন। আহত পা নিয়েই একা একা গোটা থাইল্যান্ড ঘুরে বেড়িয়েছেন অভিনেত্রী! যে অবস্থায় বিশ্রামে থাকার কথা, সেই অবস্থাতেই বিদেশের অচেনা রাস্তায় তিনি হাঁটলেন, চললেন, নিজের মতো করে জীবনকে আঁকড়ে ধরলেন। ব্যথার সঙ্গে লড়াই করে কাজ আর ভ্রমণ সম্পূর্ণ করেন তিনি।
শ্রীমার কথায়, তাঁর কাছে এটি নিঃসন্দেহে জীবনের অন্যতম কষ্টকর অভিজ্ঞতা। আসলে এর আগেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। ‘বসু পরিবার’ ধারাবাহিকের প্রোমো শুটিংয়ের সময় বিয়ের দৃশ্যে ঘটেছিল দুর্ঘটনা। প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন পায়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই সময় দীর্ঘদিন তাঁকে ক্রাচের ভরসায় হাঁটতে হয়েছিল। সেই পুরোনো ব্যথার রেশ এখনও শরীরে রয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ “তাপসকে নিয়েও বলেছিল, জয়ের মৃত্যুর পরও একই আর্থিক কষ্টের গল্প শোনাচ্ছেন চিরঞ্জিত!”— অভিনেতার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী! মৃ’ত অভিনেতাদের পরিবারকে আঘাত দিয়েই কি আলোচনায় থাকতে চান তিনি?– ক্ষোভ তপস পত্নীর!
এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সেই সমস্যা যেন এখনও তাঁর সঙ্গী। গত বছরের দুর্গাপুজোয় কেবল দশমীর দিন জোর করে বাইরে বেরিয়েছিলেন তিনি। এ বছর তাই একটাই প্রার্থনা শ্রীমার, পুজোর দিনগুলো যেন আর শয্যাশায়ী হয়ে না কাটে। জীবন যতই কঠিন হোক না কেন, ভক্তদের ভালবাসা আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকেই তিনি ভরসা হিসেবে মেনে চলেছেন।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত মতামত, মন্তব্য বা বক্তব্যসমূহ সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি মাত্র। এটি আমাদের পোর্টালের মতামত বা অবস্থান নয়। কারও অনুভূতিতে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, এবং এতে প্রকাশিত মতামতের জন্য আমরা কোনো প্রকার দায়ভার গ্রহণ করি না।