“সিনেমায় সুযোগ নেই, স্বাধীনভাবেই গান নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন…জনপ্রিয় হলেও আজও সারেগামাপা রেওয়াজ করেন” অনুপম রায়ের জন্মদিনে, শিল্পীর অচেনা দিক সামনে আনলেন সরোদবাদক প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়!

আজ ২৯ মার্চ বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অনুপম রায়ের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে সরোদবাদক প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায় তার ব্যক্তিগত ও শিল্পী জীবন নিয়ে কিছু স্মৃতি শেয়ার করেছেন। প্রত্যুষের কথায়, প্রথমবার তিনি অনুপমকে শুনেছিলেন ছবির বিখ্যাত গান “অটোগ্রাফ” দিয়ে। তখন শুধুমাত্র এই একটিই গান জানা ছিল, আর ওর সঙ্গে কখনও দেখা হয়নি। ২০১২ সালে ন্যাশভিলের বঙ্গমেলায় তাদের প্রথম দেখা হয়, যেখানে অনুপমের গান পরিবেশনা ছিল এবং প্রত্যুষের সরোদও ছিল। সেদিন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকরা শুধুমাত্র অনুপমের গান শুনতেই এসেছিলেন এবং গানগুলো মুখস্থভাবে গাইছিলেন। প্রত্যুষ দেখেই অনুপমের জনপ্রিয়তার পরিধি উপলব্ধি করেছিলেন।

সেই সময় অনুপম ‘হেমলক সোসাইটি’ ছবির জন্য একটি গান তৈরি করেছিলেন। গানে লোপামুদ্রা মিত্র ও রূপঙ্কর বাগচী কণ্ঠ দিয়েছিলেন এবং প্রত্যুষের সরোদও দরকার ছিল। কাজের জন্য প্রথম আলাপ তখনই গড়ে ওঠে। প্রত্যুষ অনুপমের ভঙ্গিমায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। গান শোনার সময় অনুপম সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে সামনে বসে ছিলেন এবং পরিবেশনার পর নিজে সরোদটি তুলে নিয়ে গাড়িতে রাখার অভ্যাস দেখিয়েছিলেন। এই ধরণের বিনয়ী আচরণ গানের জগতে খুবই বিরল। প্রত্যুষ মনে করতেন, অনুপমের শিক্ষার মান এবং রুচি সত্যিই প্রশংসনীয়।

Anupam Roy, bangla singer, Prattyush Banerjee, nashville bangla mela, bengali music, birthday special, bengali artist, অনুপম রায়, বাংলা গায়ক, প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ন্যাশভিল বঙ্গমেলা, বাংলা সঙ্গীত, জন্মদিন, বাংলা শিল্পী

পরবর্তীতে অনুপম প্রত্যুষের কাছে গান শেখার জন্য ফোন করেছিলেন। তিনি জানালেন, যদিও গানের গুরু নন, কিন্তু রাগ, তাল ও গানের খামতি বোঝার জন্য তার সাহায্য প্রয়োজন। প্রত্যুষ প্রথমে রাজি হননি, কিন্তু অনুপমের দৃঢ় মনোভাব দেখে তাকে শেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। অনুপম সহজাতভাবে গান করতেন এবং নতুন কিছু শিখতে ইচ্ছুক ছিলেন। তার অগ্রজ শিল্পীর প্রতি সম্মান এবং শেখার মনোভাব প্রত্যুষকে মুগ্ধ করেছিল। সে ইলেকট্রনিক তানপুরা কিনে নিজে প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং শেখানো ব্যায়ামও নিয়মিত অনুশীলন করেন।

প্রত্যুষ উল্লেখ করেছেন, অনুপম শুধু একজন ভালো শিল্পীই নন, বরং একজন ধারাবাহিক শিক্ষার্থীও। তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত নাম ভুলে নতুন করে শিখতে পারেন এবং সবকিছু আন্তরিকভাবে করে থাকেন। সময়মতো নতুন গান শেখা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা তার নিয়মিত অভ্যাস। শিল্পীর এই মনোভাব তাঁর কম্পোজিশনে এবং গানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অনুপমের ধারাবাহিকতা, জনপ্রিয়তা এবং নতুন চেষ্টায় কখনও কোনো ক্ষয় ঘটে নি। তিনি সিনেমার সুযোগ না পেলেও পরীক্ষামূলক গান চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ “একটা ভাইরাল হলেই হয় না, ১২-১৫ বছর রেওয়াজ ছাড়া প্রকৃত শিল্পী হওয়া সম্ভব নয়” স্পষ্ট বার্তা মনোময় ভট্টাচার্যের! সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তায় উঠে আসা নতুন প্রজন্ম কি সত্যিই গভীরতায় পৌঁছতে পারছে? নাকি ‘লাইক-ভিউ’-এর ঝলকে আড়াল হচ্ছে আসল প্রতিভা?

প্রত্যুষ বলেন, অনুপমের সঙ্গে কাজের সময় যেমন ‘পিকু’ ছবিতে অভিজ্ঞতা স্মরণীয়, তেমনি অমিতাভ বচ্চনের ছবিতে তার সরোদ থিমও চিরস্মরণীয়। এই সমস্ত কাজের মাধ্যমে অনুপমের সংগীত জগতে অবদান এবং শেখার আগ্রহ পরিস্ফুট হয়েছে। তিনি মেধাবী, নিয়মিত এবং ধারাবাহিকভাবে নিজের শিল্পকে উন্নত করতে সক্ষম। অনুপমের এই বৈশিষ্ট্য শুধু তাঁরই নয়, বরং বাংলা গানের প্রেমীদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

You cannot copy content of this page