গত দু’দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন একটাই নাম ঘুরছে বারবার—সায়ক চক্রবর্তী। চক্রবর্তী পরিবারকে ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। একদিকে প্রাক্তন বৌদি সুস্মিতা রায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, অন্যদিকে পুরনো ঘটনাগুলিও টেনে এনে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা। ফলে বিষয়টি এখন আর ব্যক্তিগত পরিসরে আটকে নেই, বরং জনসমক্ষে বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
সায়কের নাম অবশ্য নতুন করে বিতর্কে আসেনি। এর আগেও একাধিকবার তিনি শিরোনামে উঠে এসেছেন। কিছুদিন আগেই গো-মাংস সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। আবার গায়িকা দেবলীনার দাম্পত্য জীবনের অশান্তির সময়ও সায়ক সরব হয়েছিলেন। তখন তিনি বারবার প্রকাশ্যে এসে নিজের মতামত জানিয়েছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার দাবি করেছিলেন। ফলে অনেকেই তাঁকে একজন ‘সোজাসাপ্টা’ এবং ‘ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো’ মানুষ হিসেবেই দেখেছিলেন।
কিন্তু এবার সেই ভাবমূর্তিতেই ধাক্কা লাগছে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে একাধিক অভিযোগ, যা সরাসরি প্রশ্ন তুলছে সায়কের আচরণ নিয়ে। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, যে ছেলে একসময় দেবলীনার পক্ষ নিয়ে গলা তুলেছিলেন, সেই তিনিই কি নিজের পরিবারে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিতে চুপ ছিলেন? এমনকি অভিযোগ উঠছে, দাদার সংসারের নানা বিষয়ে তিনি নাকি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা একজন পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।
আরও বড় প্রশ্ন উঠছে সুস্মিতা রায়ের অভিযোগ ঘিরে। তাঁর দাবি, দাদার সংসারে যখন তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব দায়িত্ব পালন করছিলেন—ছোট থেকে বড় জিনিস, পোশাক থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী—সব কিছুই তিনি সামলাতেন, তখন সায়ক কেন নীরব ছিলেন? কেন সেই সময় কোনও প্রতিবাদ শোনা যায়নি তাঁর মুখে? এখানেই নেটপাড়ার প্রশ্ন আরও তীব্র হচ্ছে। এছাড়াও এই অভিযোগ সামনে আসতেই অনেকেই সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন—তাহলে কি ন্যায়বোধ শুধু বাইরে দেখানোর জন্য? নিজের ঘরের ক্ষেত্রে কি সেই একই মানদণ্ড প্রযোজ্য নয়?
আরও পড়ুনঃ “মাথায় সমস্যা, মানুষ গ্যাসের জন্য কত কষ্ট করছে আর ইনি হাসি আটকে রাখতে পারছে না!” “প্রশ্নটা কি হাসার নাকি যে ও হাসছে?” মধ্যপ্রাচ্যের যু’দ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের গ্যাস সংকট, হাসতে হাসতে উড়িয়ে দিলেন সুস্মিতা? সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে অভিনেত্রী!
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়ছেন সায়ক চক্রবর্তী। তাঁর আগের বক্তব্য, বর্তমান বিতর্ক, এবং প্রাক্তন বৌদির অভিযোগ—সব কিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক জটিল সমীকরণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ালেও, প্রশ্নের চাপ কিন্তু কমছে না। বরং সময় যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য ও অভিযোগ সামনে আসছে। এখন দেখার, এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব আদৌ আসে কি না, নাকি বিতর্ক আরও গভীর দিকে গড়ায়।






