“আর দেখা হবে না আমাদের…” অভিনেত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পরই রাহুলের মৃ’ত্যু! শুটিং ফ্লোরে বলা কোন কথায় ছিল অশ’নি সংকেত? প্রযোজনা সংস্থাকে নিয়ে মুখ খুলে কি জানালেন সহ অভিনেত্রী সোমাশ্রী চাকি?

দিঘার সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির (Rahul arunoday Banerjee)। তালসারি সৈকতে জলে তলিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ তল্লাশির শেষে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা বিনোদন দুনিয়া। কাজের ফাঁকেই এমন অকাল প্রয়াণ কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

এই ঘটনার পর ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে টলিউড। বিভিন্ন শিল্পী সংগঠন, বিশেষ করে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রী ‘Justice for Rahul’-এর দাবিতে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তাঁদের দাবি, শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক এবং ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক।

এরই মাঝে মুখ খুললেন অভিনেত্রী সোমাশ্রী চাকি (Somashree Chaki)। এই দুর্ঘটনার আগে শেষবার রাহুলের সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছিল, সেই স্মৃতি ভাগ করে নিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। সোমাশ্রী জানান, তাঁদের শুটিংয়ের প্যাকআপ হয়ে গিয়েছিল এবং সেদিনই কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। রাস্তায় থাকাকালীনই তাঁরা এই দুঃসংবাদ পান। তিনি বলেন, “আমরা স্পটে ছিলাম না তখন, তাই ঠিক কীভাবে ঘটনা ঘটেছে বলতে পারব না। তবে মাত্র দু’ঘণ্টা আগেই একসঙ্গে শুটিং শেষ করেছি।”

শেষ কথোপকথনের প্রসঙ্গে সোমাশ্রী আরও বলেন, শুটিং শেষ হওয়ার আগে তাঁরা একসঙ্গে ছবি ও ভিডিও তুলেছিলেন। সেই সময়ই রাহুল হেসে বলেছিলেন, “আর দেখা হবে না আমাদের।” তখন সেটিকে সাধারণ মজার ছলে বলা কথা হিসেবেই নিয়েছিলেন সবাই। কারণ তাঁদের দল সেদিনই কলকাতায় ফিরছিল, আর রাহুলদের পরের দিন ফেরার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই কথাই যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। কান্নাভেজা গলায় অভিনেত্রী বলেন, এই স্মৃতি তাঁকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ কল্পনা থেকে বাস্তব, মাসি হলেন ঋতাভরী? দিদিমা শতরূপার পোস্টে ইঙ্গিত, বড় মেয়ে চিত্রাঙ্গদার ঘরে কি এল পুত্র সন্তান?

এছাড়াও অভিনেত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বরই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, সেই শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তার মধ্যেই কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রিয় সহকর্মী রাহুলের আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে ভেঙে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।” পাশাপাশি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রোডাকশনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকে রাহুলের মেজো জেঠিমার চরিত্র করছিলেন কিন্তু এই ঘটনার পর ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও এখনো কোনও সিদ্ধান্ত বা বার্তা তাঁদের কাছে পৌঁছয়নি বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page