“সকাল ১০:৩৭-এ ফোনে কথা হয়েছিল আমার সঙ্গে…গাফিলতি নয়, খু’ন…” এক বছরেরও বেশি ম’দ্যপান ছেড়েছিলেন রাহুল, অভিনেতার মৃত্যু নিয়ে বি’স্ফোরক বন্ধু সৌরভ পালধি! সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা, নাকি ইচ্ছে করেই চাপা দেওয়া হচ্ছে আসল সত্য? প্রশ্ন তুললেন তিনি!

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকেই একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসছে। ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, আদৌ এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে রয়েছে গাফিলতি, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে বিভিন্ন মহলে। ঘটনার পর থেকে একাধিক বয়ান সামনে আসায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই মুখ খুললেন নাট্যব্যক্তিত্ব, পরিচালক এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সৌরভ পালধি, আর তাঁর কথাতেই যেন আরও ঘনীভূত হয়েছে রহস্য।

সৌরভের কথায়, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাঁর সরাসরি দাবি, “এটা গাফিলতি নয়, ইনডিরেক্ট খুন।” তিনি বলেন, কেউ ইচ্ছে করে রাহুলকে জলে ঠেলে দেয়নি ঠিকই, কিন্তু যে ধরনের অব্যবস্থা ছিল, তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, এই গাফিলতি একটি সিস্টেমের ব্যর্থতা, যা এড়ানো যেত। ঠিকঠাক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না বলেই তাঁর দাবি।

ঘটনার পর থেকে বারবার বয়ান বদলানো নিয়েও সরব হয়েছেন সৌরভ। তাঁর অভিযোগ, কেউ বলছে জলের দৃশ্য ছিল না, আবার কেউ বলছে ছিল, এভাবে একের পর এক ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। তাঁর কথায়, “যদি সত্যি ঘটনা হত, তাহলে সবার বক্তব্য এক হত। এতগুলো আলাদা আলাদা কথা আসছে মানেই কিছু লুকোনোর চেষ্টা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ‘ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা’ পুরো বিষয়টাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলছে।

রাহুলকে ‘ইনটক্সিকেটেড’ বলা হচ্ছে, এই অভিযোগে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন সৌরভ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত দেড় বছরে তিনি রাহুলকে কখনও সেই অবস্থায় দেখেননি। তাঁর দাবি, এই ধরনের অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে, যাতে আসল বিষয় থেকে নজর ঘোরানো যায়। সৌরভের কথায়, “সকাল ১০:৩৭ এ কথা হয়েছে আমার সঙ্গে ফোনে, তারপর আর খবর পাইনি।” তিনি আরও বলেন, “লোকটা আর নেই, এখন ওকে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো।” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সহকর্মীর সম্মান নিয়েও কতটা সংবেদনশীল তিনি।

আরও পড়ুনঃ “গরিব মানুষদের মর্যাদা ফেরত দিয়েছিল বামেরাই…যেই সরকারই থাকুক ভাতা বন্ধ হবে না, পাল্টাতে চাইলে পাল্টে দিন” বিধানসভা ভোটের আবহে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি, তার মাঝেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিলেন অভিনেতা চন্দন সেন?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে। সৌরভের মতে, ঘটনার পর যেভাবে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, “একটা ‘সরি’ বা দায় স্বীকার করলে হয়তো এতটা ক্ষোভ তৈরি হত না।” তাঁর অভিযোগ, এই গাফিলতির কারণেই বহু কলাকুশলীর কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সেই দায়ও প্রযোজনা সংস্থাকেই নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তদন্তের মাধ্যমে পুরো সত্য সামনে আসবে এবং যাঁদের দায় আছে, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You cannot copy content of this page