“ভগবানকে নিজে এসেও যদি বলে তোমরা ভুল, অন্ধভক্তরা বলবে আপনি নিশ্চই মুসলিম!” পড়ুয়াদের বিক্ষোভে যোগ দিয়েই, চিন আর পাকিস্তান থেকে ফান্ডিংয়ের অভিযোগে পেলেন মৃ’ত্যু হু’মকি! ‘হ্যাটস অফ, চুমু…’ ভিডিও করে বি*স্ফোরক শ্রীলেখা মিত্র! ইনবক্সে ক্রমাগত ভয়ানক বার্তা, কারা চুপ করাতে চাইছে অভিনেত্রীকে?

শুক্রবার কলকাতায় পড়ুয়াদের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের কটাক্ষ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শনিবার সকালে একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, অনেকেই অভিযোগ করছেন যে তিনি নাকি এই ধরনের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে টাকা পান। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার পর থেকে তাঁকে মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শ্রীলেখা। বিষয়টি নিয়ে নিজের ক্ষোভ এবং বিস্ময় দুটোই প্রকাশ করেছেন তিনি।

ভিডিওতে শ্রীলেখা বলেন, “আমি খুব একটা কমেন্ট সেকশন দেখি না। তবে একজন আমাকে পাঠাল, তারপর আমিও দেখলাম। কাল একটা বাইট দিয়েছিলাম, লোকজন লিখছে, যেহেতু আমার হাতে এখন কাজ নেই, তাই এই প্রোটেস্টে যাওয়ার জন্য ফরেন ফান্ডিং আমাকে স্পনসর করে, এসব প্রোটেস্ট অ্যাটেন্ড করতে।” এরপর তিনি ব্যঙ্গের সুরে আরও বলেন, “এতদিন ককরোচ জনতা পার্টিকে চিন আর পাকিস্তান থেকে ফান্ডিং পাচ্ছিল। এখন বলতে শুরু করেছে ব্যক্তিগতভাবে এসবে যাওয়ার জন্য আমি বিদেশ থেকে টাকা পাই। উফফফ টু মাচ! এত ইনোভেটিভ। এতটা ইনোভেটিভ তো ককরোচ জনতা পার্টির স্লোগান বা পোস্টারও নয়। তার চেয়েও বেশি ইনোভেটিভ অন্ধভক্তরা।” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এরপর বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশে আরও একটি কটাক্ষ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “মানে ভগবান যদি এসে বলে না এটা তোমরা ভুল করছ, অন্ধভক্তরা ভগবানকে বলবে, না আপনি চুপ করুন আপনি নিশ্চয়ই মুসলিম। বা আপনাকে পাকিস্তান থেকে ফান্ডিং করা হচ্ছে। হ্যাটস অফ। চুমু।” ভিডিওর পাশাপাশি পোস্টের ক্যাপশনেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শ্রীলেখা। তিনি লেখেন, “অন্ধভক্তরা প্রোপোগন্ডায় না চলে, ফ্যাক্টস নিয়ে কথা বলো। ওদের নতুন জিনিস, শ্রীলেখা মিত্রকে পাকিস্তান বা চিন থেকে ফান্ডিং করা হচ্ছে। ভক্তরা, একটু বুদ্ধি বাড়াও। ব্রেইনওয়াশড ডুডস!” তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: ২৪ জুলাই হোক বা ৩ সেপ্টেম্বর, বাঙালির কাছে এক বিশেষ দিন! ৪৭ বছর পরেও কেন ফুরিয়ে যায়নি মহানায়কের জাদু? উত্তম কুমারের জীবন নিয়েই বড় কারণ সামনে আনলেন নাতবউ দেবলীনা কুমার! জানালেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও কেন আজও এতটা প্রাসঙ্গিক তিনি?

শুধু বিদেশি ফান্ডিংয়ের অভিযোগ নয়, পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। একটি আলাদা পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইনস্টাগ্রামে তাঁকে মৃত্যু হুমকিও দেওয়া হয়েছে। সেই পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, “ইনস্টাগ্রামে এই মাত্র মৃত্যু হুমকি আসল। ব্লক করলাম, তাতেই ডিলিট হয়ে গেল। যাহ! আরে ভয় পেলে কি আর জবলেস হতাম রে।” যদিও এই ধরনের হুমকিতে তিনি ভয় পাচ্ছেন না বলেই স্পষ্ট করেছেন। বরং নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিতও দেননি অভিনেত্রী।

রাজনৈতিক এবং সামাজিক নানা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব শ্রীলেখা মিত্র। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ডের সময়ও তিনি সরাসরি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। সেই সময়ও তাঁকে নানা ধরনের হুমকি, এমনকি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানা যায়। পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে বিকৃত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছিল, যা নিয়ে তখনও বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

সম্প্রতি আবারও অন্য একটি ঘটনায় শ্রীলেখার নাম খবরের শিরোনামে উঠে আসে। বারুইপুরের খুন ও ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে সমাজমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে খবর প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যেই পড়ুয়াদের আন্দোলনে যোগ দেওয়া, বিদেশি ফান্ডিংয়ের অভিযোগ, পালটা কটাক্ষ এবং মৃত্যু হুমকির দাবি ঘিরে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেত্রী। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়াতেও জোর চর্চা চলছে।

You cannot copy content of this page