“এক টুকরো মাং*সের এত দাম? বোতাম খুললে পেমেন্ট আরও বেশি!” “দর্শকদের সঙ্গে বেই’মানি করতে পারব না গুরু!” কেঁচো খুঁড়তে কেউটে? মা-বাবার নামে টাকা নিয়েছেন সুকান্ত, সায়ক-শমীক সহ একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের অভিযোগ! ‘বিপ্লবী না দালাল, অরাজনৈতিক ইমেজ রেখে টাকাও খাবে’ শ্রীলেখা, কিরণ ও মৃন্ময়ের চাঁচাছোলা মন্তব্য ভাইরাল!

বাংলার কয়েকজন কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিবেদনে বিজেপির হয়ে প্রচারমূলক বিষয় তৈরি করতে কয়েকজনের পারিশ্রমিকের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সেই তালিকায় উঠে আসে শমীক অধিকারী, সায়ক চক্রবর্তী, সুকান্ত কুণ্ডু, আরজে প্রিয়াঙ্কা ওরফে প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং ইতি কর্মকারের নাম। ‘ক্যানডিড ক্লে’ নামে পরিচিত ইতি কর্মকারের নামও এই প্রসঙ্গে সামনে এসেছে। প্রকাশিত টাকার অঙ্ককে ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা এবং সমালোচনা। এর পরেই সমাজ মাধ্যমে একাধিক তারকা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের বক্তব্য জানাতে শুরু করেন। অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র, কিরণ দত্ত এবং মৃন্ময় দাসও এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ঘটনাটি সামনে আসার পর অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র সমাজ মাধ্যমে নিজের বক্তব্য লেখেন। তিনি এই ঘটনাকে একটি পরিচিত গল্পের সঙ্গে তুলনা করে বিষয়টির তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। শ্রীলেখার বক্তব্যের অর্থ ছিল, পুরো ঘটনার পিছনে আসল সত্য কী, তা তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসা দরকার। তাঁর কথায়, ‘‘কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরিয়ে আসার মতো বিষয় এটি। তদন্ত করে সত্যটা সামনে আনা এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার হওয়া দরকার।’’ শুধু যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাঁদের নিয়েই নয়, এই ধরনের কাজের সুযোগ যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। অর্থাৎ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেই মত শ্রীলেখার। তাঁর এই বক্তব্যও বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে কিরণ দত্তও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রচারের জন্য তিনি কখনও কোনও ভিডিও তৈরি করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না বলেই জানান তিনি। কিরণ নিজের দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমি কোনওদিন একটি ভিডিওও বানাইনি, ভবিষ্যতেও বানাব না। তোমরা আমাকে এই বিশ্বাসটুকু রাখতেই পারো।’’ এর পর তাঁর পোস্টের মন্তব্যের জায়গাতেও নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করেন তিনি। নিজের শিকড়ের কথা উল্লেখ করে কিরণ জানান, নদিয়ার একটি ছোট জায়গা থেকে উঠে এসে দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছেন, সেটিকে তিনি খুব মূল্য দেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি নদিয়ার ছোট জায়গার ছেলে। তোমরা আমাকে যে জায়গা দিয়েছ এবং আমার খারাপ সময়ে যেভাবে পাশে থেকেছ, তার সঙ্গে আমি ইচ্ছে করেও বেইমানি করতে পারব না গুরু।’’

নিজের প্রাপ্তিকে যথেষ্ট বলে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, ‘‘আমি যা পেয়েছি, তা অনেক বেশি। তাই এভাবেই ভালো আছি।’’ এদিকে মৃন্ময় দাস, যিনি ‘সিনেবাপ’ নামে পরিচিত, নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে টাকা নিয়ে প্রচার করা এবং নিজেদের নিরপেক্ষ হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টি। মৃন্ময়ের কথায়, ‘‘একজন আড়াই লাখ টাকার জন্য ব্রাহ্মণ সেজে মাংস নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার চেষ্টা করল, আর একজন তেরো লাখ টাকা নিয়ে দুটো বোতাম খুলল।’’ এর পরেই তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘‘বোতাম খুললে সত্যিই বেশি টাকা পাওয়া যায়।’’ বিরোধী রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার করা নির্মাতাদের নিয়েও আগে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা নিজে কোনও দোষের বিষয় নয়, কিন্তু সেই মতাদর্শ থাকলে প্রকাশ্যে সংশ্লিষ্ট দলের হয়ে প্রচার করাই উচিত।

আরও পড়ুনঃ “একজন মানুষকে বারবার খাওয়া নিয়ে খোঁটা দেওয়া কীসের ভদ্রতা?” “রাগ থাকলেও এমন অসভ্য আচরণ মেনে নেওয়া যায় না!” “ওই বাড়ির কোন কিছু আপনার ব্যক্তিগত নয়!” বিগ বস বাংলার ঘরে রাজবীরকে খাওয়া নিয়ে কথা শোনানোয় সোনামণিকে তুলোধোনা দর্শকদের!

একই সঙ্গে নিজেকে অরাজনৈতিক হিসেবে দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য টাকা নেওয়া এবং দর্শকদের আবেগকে কাজে লাগানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মৃন্ময়। এই বিতর্কের মধ্যেই সায়ক চক্রবর্তী এবং শমীক অধিকারীর নামও ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। এর আগে পার্ক স্ট্রিটের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে সায়কের তৈরি করা একটি ভ্লগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার আলোচনা পুরোপুরি থামার আগেই নতুন অভিযোগের প্রসঙ্গে তাঁর নাম সামনে এসেছে। অন্যদিকে শমীক অধিকারীও এর আগে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। তাঁর বান্ধবীর আনা শ্লী*লতাহানি এবং ধ*র্ষণের অভিযোগের ঘটনায় জেল খেটে বেরোনোর পর ফের তাঁকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে টাকা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ভিডিও তৈরির অভিযোগ যাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছে, তাঁদের কারও কাছ থেকেই এখনও কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য কী, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

You cannot copy content of this page