রাজবীরের উপর বেজায় চটে গেলেন সোনামণি সাহা। ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে খাওয়া নিয়ে রাজবীর দে-কে কথা শোনানোকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। সোনামণির এমন আচরণ নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, কাউকে একবার খাওয়া নিয়ে কথা বলা এক বিষয়, কিন্তু বারবার একই বিষয় নিয়ে খোঁটা দেওয়া অন্যরকম। রাজবীরকে উদ্দেশ্য করে সোনামণির কথাবার্তায় সেই বিরক্তিই নাকি স্পষ্ট হয়েছে। ঘরের মধ্যে মতের অমিল বা রাগারাগি হতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এভাবে বারবার মন্তব্য করা উচিত কি না, উঠছে সেই প্রশ্ন। এই ঘটনাই এখন দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে, যেখানে সোনামণির আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে নিন্দা করছেন অনেকে।
ঘটনার সূত্রপাত ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে রাজবীরকে ঘিরে সোনামণির বিরক্তি থেকে। রাজবীরের খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁকে ফের কথা শোনাতে দেখা যায় সোনামণিকে। এই আচরণই দর্শকদের একাংশের চোখে ভালো লাগেনি। তাঁদের মতে, একজন প্রতিযোগী কীভাবে বা কতটা খাচ্ছেন, সেই বিষয়টি নিয়ে বারবার মন্তব্য করা যথেষ্ট অস্বস্তিকর। বিশেষ করে একই মানুষকে বারবার খাওয়া নিয়ে খোঁটা দেওয়াকে স্বাভাবিক কথাবার্তা হিসেবে দেখতে চাইছেন না তাঁরা। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই সোনামণির ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকেরা। তাঁদের বক্তব্য, ঝগড়া বা মতবিরোধ থাকলেও কথাবার্তার ক্ষেত্রে একটা সীমা থাকা দরকার।
দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, রাজবীরের সঙ্গে সোনামণির এই কথোপকথনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কড়া মনোভাব দেখা গিয়েছে। তাঁরা বলছেন, কাউকে তাঁর খাওয়া নিয়ে একবার মজা করে কিছু বলা এবং একই বিষয় ধরে বারবার খোঁটা দেওয়া এক নয়। রাজবীরকে নিয়ে এমন মন্তব্য বারবার সামনে আসায় বিষয়টি তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছে। একজন প্রতিযোগীকে তাঁর খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে বারবার কথা শোনানোকে অনেকেই অসভ্য আচরণ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁদের কথায়, ঘরের কাজ, খেলা কিংবা নিয়ম নিয়ে তর্ক হতে পারে, কিন্তু খাওয়ার মতো ব্যক্তিগত বিষয়কে বারবার টেনে আনা ঠিক নয়। সোনামণির আচরণ নিয়ে তাই সমালোচনার সুরই বেশি শোনা যাচ্ছে দর্শকদের আলোচনায়। একই সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরের সম্পর্ক ও সমীকরণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগেও ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে রাজবীরকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর আচরণ নিয়ে বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিরোধের ঘটনাও সামনে এসেছে। কখনও তাঁর কথাবার্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কখনও আবার তাঁর ব্যবহারের ধরন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় চলা এই অনুষ্ঠানে বর্তমানে জীতু, মনামী, ভরত, রাজবীর, নন্দিনী, সৃজলা, সোনামণি, নিরঞ্জন, দুর্নিবার, তনুশ্রী, ঝিলম, দীপেন্দু এবং সোহিনী পাল রয়েছেন। এর আগে রাজবীরের সঙ্গে নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়েও ঘরে একাধিকবার টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। ফলে রাজবীরকে ঘিরে নতুন কোনও ঘটনা সামনে এলেই দর্শকদের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হচ্ছে। এবার সেই আলোচনায় যোগ হয়েছে সোনামণির খাওয়া নিয়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ।
আরও পড়ুনঃ “তৃণমূলের ম*স্তানরা খু*নের হু’মকি দিয়েছিল, ওরা আবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতেও ভয় দেখিয়েছিল…সমাজের আবর্জনা সরাতে যখন নেমেছি বিজেপির কথা ভেবে নয়, তাই বিপদে একাই লড়ব সসম্মানে!” টাকা খেয়ে নিজের নৈতিকতা বিক্রি করিনি! বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে সায়ক-শমীকদের নাম লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বি*স্ফোরক অরিত্র দত্ত বণিক!
সব মিলিয়ে সোনামণি ও রাজবীরের এই পর্ব নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এখন বেশ জোরালো। একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য, “একজন মানুষকে বারবার তাঁর খাওয়া নিয়ে খোঁটা দেওয়া কোনওভাবেই স্বাভাবিক ব্যবহার হতে পারে না।” আরও অনেকে বলছেন, “রাগ বা বিরক্তি থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে একই বিষয় নিয়ে বারবার কথা শুনিয়ে যাওয়া উচিত নয়।” দর্শকদের আরেক অংশের প্রশ্ন, “ঘরের মধ্যে মতবিরোধ হলে খেলা বা কাজ নিয়ে আলোচনা হোক, ব্যক্তিগত খাওয়ার বিষয় কেন বারবার সামনে আসবে?” এই ঘটনায় সোনামণির আচরণকে ঘিরেই তাই আপাতত বেশি আলোচনা হচ্ছে। রাজবীর এই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানান এবং আগামী দিনে দুজনের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেদিকেও নজর রয়েছে দর্শকদের। ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে এই ঘটনার পর তাঁদের সমীকরণে আরও কোনও পরিবর্তন আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।






