অভিনয় জগত হোক কিংবা রাজনৈতিক ময়দান—যে কোনও ক্ষেত্রেই যদি কোনও তারকার সঙ্গী ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা তৈরি হয়। অনেকেই ভাবেন, সেই সম্পর্কের জোরেই হয়তো বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়, দরজা খুলে যায় সহজে, বা প্রভাব খাটানো যায় নানা ক্ষেত্রে। দর্শকমহলের এই প্রত্যাশা বা সন্দেহ নতুন কিছু নয়। বরং তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন যত বেশি আলোচনায় আসে, ততই এই প্রশ্নগুলো সামনে আসে।
টলিউডের চর্চিত জুটি কাঞ্চন মল্লিক এবং শ্রীময়ী চট্টরাজও সেই আলোচনার বাইরে নন। অসমবয়সি বিয়ে থেকে শুরু করে তাঁদের ব্যক্তিগত সমীকরণ—সবকিছু নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে টেলিভিশনের পর্দা পর্যন্ত চর্চা চলেছে। একদিকে জনপ্রিয় অভিনেতা ও বর্তমান বিধায়ক কাঞ্চন, অন্যদিকে অভিনেত্রী শ্রীময়ী—এই দুই পরিচয়ের মিলনে তাঁদের সম্পর্ক বরাবরই কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
কাঞ্চন মল্লিকের অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলা এবং রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রীময়ী চট্টরাজও নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকের মন জয় করেছেন। তবে সম্পর্কের সূত্রে তাঁদের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা—শ্রীময়ী কি আদৌ কোনওভাবে কাঞ্চনের প্রভাব ব্যবহার করেন?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গেই খোলামেলা জবাব দিয়েছেন শ্রীময়ী। অভিনেত্রীর কথায়, “আমরা ছ’মাস জমিদার, ছ’মাস জমাদার—কাঞ্চনের কোনও আলাদা ক্ষমতা নেই।” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে বা অন্য কোনও কাজে তিনি কখনও কাঞ্চনের পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানকে ব্যবহার করেননি। এমনকি কাঞ্চন যে একজন বিধায়ক, সেই পরিচয়ের ক্ষমতাও তিনি ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নেননি। তাঁর সাফ কথা, “ক্ষমতা তো নেই, কীসের ক্ষমতা নেব!”
আরও পড়ুনঃ “কথা বলতে পারে না, হাঁটতেও পারে না…অন্তত ছেলেটা আমার কাছেই আছে এটাই অনেক” আবেগঘন পৌলমী বসু চ্যাটার্জি! এক রাতেই কেন থমকে গিয়েছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাতি রণদীপ বসু-র স্বপ্নময় জীবন? বিবাহবিচ্ছেদের ঝড় পেরিয়ে বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে কেমন আছেন তিনি?
অন্যদিকে কাঞ্চন নিজেও জানিয়েছেন, তিনি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। অভিনয় জগতে তাঁর শুরুটা ছিল একেবারে নিম্নস্তর থেকে। ধাপে ধাপে পরিশ্রম করে আজকের জায়গায় পৌঁছেছেন। তাই তাঁদের সম্পর্কের ভিত প্রভাব নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং পরিশ্রম—এটাই যেন এই তারকা দম্পতির স্পষ্ট বার্তা।






