বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। সংস্কৃতি জগতের বহু মানুষ এই ঘটনায় প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন। প্রায় আট বছর আগে লেখা একটি কবিতাকে ঘিরেই আইনি জটিলতায় জড়ান শ্রীজাত। শনিবার সেই মামলায় নদিয়ার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজিরা দেন তিনি।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। আইনজীবী রোমিত শীল অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শ্রীজাত নিজের ফেসবুক পেজে ‘অভিশাপ’ নামে একটি কবিতা পোস্ট করেছিলেন। অভিযোগ ওঠে, ওই কবিতার কয়েকটি লাইন হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। পাশাপাশি শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও সামনে আসে।
আরও পড়ুন: “নিজের স্ট্রাগলের গল্পে এখন সবাই স্টেশনকে টেনে আনে….বাড়ি মফস্বল হলে সত্যিই কি স্টেশনে রাত কাটাতে হয়?” ইন্ডাস্ট্রির শিল্পীদের অতিরঞ্জিত সংগ্রামের গল্প নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তনিমা সেন!
মামলার শুনানির সময় আদালত থেকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হননি কবি। এরপর গত ২০শে এপ্রিল আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়। যদিও পরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে কমিশনের তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়।
শনিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাকারীর পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হলেও, দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কৃষ্ণনগর ও কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না কবি। পাশাপাশি তাঁকে দু’হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দিতেও বলা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাহিত্য ও রাজনৈতিক মহলে মতভেদ তৈরি হয়েছে। একাংশের দাবি, এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন। অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ গুরুত্ব পেয়েই আদালত পদক্ষেপ করেছে। উল্লেখ্য, ‘অভিশাপ’ কবিতাকে ঘিরে অতীতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং শ্রীজাতকে নিয়ে বিক্ষোভ, অভিযোগ ও হুমকির ঘটনাও সামনে এসেছিল।






