বাংলার ‘দুর্গা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের তলায় ঠাঁই হবে ‘সিঙ্ঘম’ অজয় পাল শর্মার! বাংলায় নির্বাচন মিটতেই, আইপিএস অফিসারকে অপ’মান ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রীর?

বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় যখন রাজনৈতিক মঞ্চে একের পর এক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, তখনই সিঙ্ঘম আর পুষ্পা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এবং উত্তরপ্রদেশের সিঙ্ঘম অজয় পাল শর্মার মধ্যে সংঘর্ষের কারণে আলোচনা আরও তুঙ্গে। অজয় পাল শর্মা, যিনি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, সম্প্রতি জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

তারপরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ উঠেছে সিঙ্ঘমের বিরুদ্ধে। তবে, এই বিতর্কের মধ্যে অন্য একটি ঘটনার জন্ম দিলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী, যিনি তৃণমূলের ব্যারাকপুর প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী। শুভশ্রী গাঙ্গুলী নিজের ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে সিঙ্ঘম অজয় পাল শর্মা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন। সাংবাদিকরা যখন তাঁকে সিঙ্ঘম সম্পর্কে জানতে চান, তখন শুভশ্রী সপাটভাবে বলেছিলেন, “আমি একজন নেতার স্ত্রী হয়ে নই। একজন আমজনতা হয়ে বলতে চাই, সিঙ্ঘম বা সিংহ, মা দুর্গার পায়ের তলায় থাকে।

আমাদের এখানে মা দুর্গা রয়েছে, তারই রাজ চলবে।” তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করেছেন, যদিও মমতার নাম তিনি নেয়নি। শুভশ্রীর এই কথা একদিকে যেমন তৃণমূলের শক্তির বহিঃপ্রকাশ, তেমনই একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বক্তব্যও। রাজ চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়িয়ে শুভশ্রী আরও বলেছিলেন, বাংলায় সিঙ্ঘমের মতো শক্তির কোনো প্রয়োজন নেই। রাজ চক্রবর্তীও তার সঙ্গ দিয়ে বলেন, “বার বার বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা বিজেপি সরকারের।

আরও পড়ুন: “বাংলার আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই…এবারের ভোট তাদের জন্য, যাদের এবার ভোট নেই” ‘এসআইআর’-এ বাদ পড়া ৯১ লক্ষ ভোটারের অধিকার নিয়ে সরব, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী! দ্বিতীয় দফার শেষে কী বার্তা পিয়া চক্রবর্তীর?

এর জবাব বাংলার মানুষ দেবে। সকাল থেকেই অবশ্য জবাব দেওয়া শুরু হয়েছে।” রাজ বলেন, “এখানে শান্ত রাজ চলে, দিদির রাজ চলে, বাংলা সংস্কৃতির রাজ চলে। এখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত চলে, লেখা চলে, কবিতা চলে। আমরা এভাবেই বড় হয়েছি।” রাজের এই মন্তব্যে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচিতির প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা তৃণমূলের মূল চিন্তা ধারাকে তুলে ধরে। এদিকে, সিঙ্ঘম অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, তিনি তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে হুমকি দিয়েছেন।

এই ঘটনা ঘটানোর পরে একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই পরিস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এই সিঙ্ঘম বিতর্কের মধ্যে শুভশ্রী এবং রাজ চক্রবর্তীর মন্তব্যগুলি রাজনৈতিক মঞ্চে আরও একটি তীব্র আলোচনার সূত্রপাত করেছে। রাজনীতির পাশাপাশি এই কথোপকথন টলিউডের প্রভাবকেও তুলে ধরে, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় একসাথে মিশে যায়। এখন, যখন বাংলা রাজনীতির এই উত্তেজনা শিখরে পৌঁছেছে, তখন শুভশ্রী এবং রাজের বক্তব্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিচিতির মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সিঙ্ঘমের হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা বাংলার শান্তিপূর্ণ সংস্কৃতির পক্ষে কথা বলেছেন।

You cannot copy content of this page