“ভারতবর্ষে অভিনেত্রী হওয়ার জন্য যা লাগে, তার কিছুই আমার নেই, ছোট চোখ, বোঁচা নাক” জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীর আত্মসমালোচনায় অবাক নেটপাড়া! নিজেকে নিয়ে কেন এমন মন্তব্য করলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী? চেহারা নিয়ে কি আক্ষেপ রয়েছে তাঁর?

বাংলা অভিনয় জগতের অন্যতম পরিচিত এবং সম্মানিত অভিনেত্রী ‘সুদীপ্তা চক্রবর্তী’ (Sudipta Chakraborty)। থিয়েটার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র, তিন ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। জনপ্রিয় ধারাবাহিক থেকে শুরু করে বড় পর্দার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি নজর কাড়ে। শুধু দর্শকই নন, সমালোচকরাও বরাবর তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। বাংলা বিনোদন জগতে এমন অভিনেত্রীর সংখ্যা খুব বেশি নয়, যাঁরা একইসঙ্গে বাণিজ্যিক এবং বিষয়ভিত্তিক দুই ধরনের কাজেই সমান স্বচ্ছন্দ।

অভিনয়জীবনে সুদীপ্তা চক্রবর্তী একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘বাড়িওয়ালি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং সেই কাজের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর সম্মান পান। এছাড়াও ‘রাজকাহিনী’, ‘উড়নচণ্ডী’, ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’, ‘ধনঞ্জয়’, ‘বাঘা যতীন’ এবং ‘ভূতপরী’র মতো ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ছোট পর্দার দর্শকদের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়। অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা, সঞ্চালনা এবং শিল্পসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ফলে শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, একজন বহুমুখী শিল্পী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের চেহারা এবং সৌন্দর্য নিয়ে অকপট মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সুদীপ্তা। অভিনেত্রী বলেন, ভারতবর্ষে একজন অভিনেত্রী বা নায়িকা হওয়ার জন্য যে ধরনের সৌন্দর্যকে সাধারণত গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার কোনওটিই নাকি তাঁর মধ্যে নেই। নিজের কথাতেই তিনি জানান, তাঁর “না আছে পটল চেরা চোখ, না আছে সুস্পষ্ট নাক বা পর্যাপ্ত উচ্চতা।” এরপর নিজের স্বভাবসুলভ হাস্যরস বজায় রেখেই তিনি বলেন, “এই নিয়েই কিভাবে যে চালিয়ে যাচ্ছি…”। সাক্ষাৎকারের এই অংশটি দ্রুত সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

তবে অভিনেত্রীর এই আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্যের জবাবে নেটিজেনদের বড় অংশ তাঁর পক্ষেই মত দিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, অভিনয় জগতে শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্যই শেষ কথা নয়। কারও মতে, রূপের চেয়ে প্রতিভা, অভিনয়ের সাবলীলতা এবং চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষমতাই একজন শিল্পীর আসল শক্তি। কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, মেকআপ অনেক কিছু মেকআপ করে চেহারার পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও অভিনয় দক্ষতা তৈরি করা যায় না। তাঁদের মতে, সুন্দর দেখতে অভিনেত্রীর অভাব নেই, কিন্তু পর্দায় এত স্বাভাবিক এবং সহজ অভিনয় সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না।

আরও পড়ুনঃ ঠিক যেন একই ছাঁচে তৈরি! ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’র দুর্গাবতী নাকি ‘সন্ধ্যাতারা’র বিজয়ার ছায়া! সাজ থেকে স্বভাব সবই একরকম, স্টার জলসাকে কি ফের কপি করল জি বাংলা? দুই ধারাবাহিকের মাতৃ চরিত্র নিয়ে দর্শকদের দ্বন্দ্ব, আপনাদের মতে সেরা কে?

সামাজিক মাধ্যমে এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সুদীপ্তা চক্রবর্তীকে ঘিরে প্রশংসার ঢেউ দেখা যাচ্ছে। অনেক দর্শক মনে করছেন, নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে এতটা খোলামেলা কথা বলার সাহস খুব কম শিল্পীরই থাকে। একইসঙ্গে তাঁরা এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় জগতে টিকে থাকা এবং বারবার নিজের কাজের মাধ্যমে প্রশংসা অর্জন করা কোনও সহজ বিষয় নয়। তাই বাহ্যিক সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট মানদণ্ডে নিজেকে বিচার করলেও, একজন অভিনেত্রী হিসেবে সুদীপ্তা চক্রবর্তীর সাফল্য এবং গ্রহণযোগ্যতা যে বহু আগেই প্রমাণিত হয়েছে, সেই কথাই আবারও তুলে ধরছেন তাঁর অনুরাগীরা।

You cannot copy content of this page