“আজ আছি, কালই হয়ত থাকব না!” ‘বাহামণি’ হয়ে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে, শেষ হতেই হঠাৎ একাধিক ধারাবাহিক থেকে ছাঁটাই! ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পেতে লড়াই, লাইমলাইটের বাইরে কঠিন বাস্তবতা নিয়ে মুখ খুললেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী! নেপথ্যে কি কারোর পরিকল্পিত চক্রান্ত?

বাংলা বিনোদন জগতে সম্পর্ক মানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—এই ধারণাটা বহুদিনের। কাজের অনিশ্চয়তা, জনপ্রিয়তার ওঠানামা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে অনেক সম্পর্কই মাঝপথে থমকে যায়। তবু এই ভিড়ের মধ্যেই কিছু সম্পর্ক থাকে, যেগুলো চুপচাপ নিজের মতো করে এগিয়ে চলে। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও স্বর্ণ শেখরের সম্পর্কও ঠিক তেমনই। চর্চার আলো নয়, বরং বিশ্বাস, বোঝাপড়া আর দীর্ঘদিনের সঙ্গই এই সম্পর্কের মূল ভিত।

এই গল্পের শুরুটা আজ থেকে অনেক বছর আগে, একেবারে স্কুলজীবনে। ক্লাস ফোরে পড়ার সময় থেকেই সুদীপ্তা ও স্বর্ণ শেখরের পরিচয়, তখন অবশ্য সেই সম্পর্কের নাম ছিল শুধুই বন্ধুত্ব। পরে তাঁদের প্রথম দেখা হয় ‘মেমসাব’ ছবির শুটিং ফ্লোরে। স্বর্ণ তখন ইতিমধ্যেই ছবির শুটিং শুরু করেছেন, আর খুদে সুদীপ্তা সেদিনই প্রথম পা রাখেন শুটিং সেটে। নতুন পরিবেশ, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর চাপ—সব মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মনে অনেক প্রশ্ন ছিল। সেই সময় স্বর্ণের কাছ থেকেই তিনি কিছু পরামর্শ নেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে ওঠে।

বন্ধুত্বের সেই জায়গা পেরিয়ে কখন যে ভালোবাসা এসে দাঁড়ায়, তা বুঝতেই পারেননি তাঁরা। সেই সময়ের স্মৃতি আজও স্বর্ণ শেখরের কাছে অমূল্য। তিনি একবার কাজের সূত্রে দার্জিলিংয়ে টানা ২০ দিনের জন্য গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে সুদীপ্তা তাঁর ব্যাগের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রেখে দিয়েছিলেন ২০টি চিঠি—প্রতিটি কাজের দিনের জন্য একটি করে। প্রতিদিন নতুন চিঠি খুঁজে পাওয়ার সেই অনুভূতি যেন দূরত্বের মাঝেও কাছাকাছি থাকার এক নীরব আশ্বাস ছিল। স্বর্ণ জানান, সেই সব চিঠি তিনি আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গেই বর্তমান সময়ের সম্পর্ক নিয়ে স্বর্ণ শেখরের একেবারে বাস্তব উপলব্ধি সামনে আসে। তাঁর মতে, আজকের জেনারেশন হয়তো এই চিঠির আবেগ পুরোপুরি বুঝবে না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বড় খরচ, দামি উপহার বা বাহুল্যের প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট যত্ন, বিশ্বাস আর একে অপরের পাশে থাকার ইচ্ছাই আসল। সুদীপ্তার কথাই কোট করে তিনি বলেন, “ভালো থাকা একটা থেরাপি, ভালো থাকতে জানতে হয়।” এই দর্শনেই দু’জনেই বিশ্বাস করেন—সম্পর্ক হোক বা জীবন, সব কিছুর মধ্যেই ভারসাম্যটাই সবচেয়ে জরুরি।

আরও পড়ুনঃ “শরীরে যেন চুম্বক লাগানো, সবাই শুধু এনাকেই চু’মু খায়!” “ট্রেন্ডিং সবাই হে’নস্থা করেছে, বিশ্ব সুন্দরী নাকি!” যার যখন সময় খারাপ, উনি চলে আসেন ফুটেজ খেতে! সায়ক ও শমীককে নিয়ে বি’স্ফোরক অভিযোগ তুলে বিতর্কে স্যান্ডি সাহা, পাল্টা কটাক্ষে একহাত নিলেন নেটিজেনরা!

অভিনয়ের জগৎ যে কতটা অনিশ্চিত, সেটা সুদীপ্তা ও স্বর্ণ শেখর দু’জনেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আজ কাজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে—এই বাস্তবতাকে অস্বীকার না করে বরং মেনে নিয়েই তাঁরা নিজেদের পথ বেছে নিয়েছেন। সুদীপ্তা বিশ্বাস করেন, ভালো কাজের জন্য অপেক্ষা করাটাও এক ধরনের সাহস, আর সব সুযোগে আপস না করাটাই একজন শিল্পীর দায়িত্ব। স্বর্ণ শেখরের কাছেও প্রতিযোগিতা নয়, বরং নিজের দক্ষতাকে প্রতিদিন একটু একটু করে শানিত করে যাওয়াই সবচেয়ে জরুরি। লাইমলাইট বা মুহূর্তের জনপ্রিয়তা নয়, দীর্ঘদিন টিকে থাকার মানসিক প্রস্তুতিই তাঁদের কাছে আসল। এই অনিশ্চিত পেশায় ভালো থাকা তাই শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, বরং মানসিক শক্তি ধরে রাখার একমাত্র উপায়—আর সেই জায়গাতেই একে অপরের পাশে থাকাই তাঁদের সবচেয়ে বড় ভরসা।

You cannot copy content of this page