ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে একটি শুটিং চলছিল ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের। শুটিং সেটে অপ্রত্যাশিত এক দুর্ঘটনায় প্রয়াণ হল জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২৯ মার্চ রবিবার ঘটনাটি ঘটেছিল, এবং টলিপাড়ার সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। তবে রাহুলের মৃত্যুর পর, বিশেষ করে সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রের আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শ্বেতার শোক ও উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যখন রাহুলের মৃত্যু ঘটেছিল, তখন শ্বেতা একাধিকবার তার সহকর্মীর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সেই পুরো ঘটনা মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। রাহুলের মৃত্যু পরবর্তী ঘটনার সম্পর্কে নেটপাড়ায় নানা মতামত ঘুরপাক খাচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটার সময় শ্বেতা এবং রাহুল একসাথে শট দিচ্ছিলেন। তখনই হঠাৎ রাহুলের অকাল মৃত্যু ঘটে। একটি ভিডিওতে শ্বেতাকে আতঙ্কিত হয়ে বলতে শোনা যায়, “রাহুলদা ঠিক আছো তো?” তার এই দৃশ্য দেখেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, একজন শোকাহত মানুষকে এরকমভাবে ক্যামেরাবন্দি করা কি সঠিক? শ্বেতার গহীন শোক প্রকাশের এই ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকে তাকে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়ে যায়।
কেউ কেউ নাটক বলেন, তো আবার ঘটনার আঘাত হিসেবে ও তুলে ধরে, শ্বেতাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মেসেজ আসতে থাকে। প্রসঙ্গত, রাহুলের মৃত্যুর পর শ্বেতা ব্যাপকভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। দুর্ঘটনার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি, এবং অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করে। বিশেষত, শ্বেতার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ না হওয়া নিয়ে স্টুডিও পাড়ায় নানা গুঞ্জন শোনা যেতে থাকে।
সেসব আলোচনার মধ্যেই, আজ শ্বেতা তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে এলিনর রুজভেল্টের একটি বিখ্যাত উক্তি লেখেন, “তোমার নিজের সায় না থাকলে অন্য কারও সাধ্য নেই তোমাকে তুচ্ছ করার।” এই পোস্টে শ্বেতা কি কারো দিকে ইঙ্গিত করছেন? রাহুলের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত চলছে, আর এরই মধ্যে শ্বেতার এই বার্তা অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে। কিছু মানুষ মনে করছেন, ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কেউ হয়তো তাকে সন্দেহের চোখে দেখছে বা অভিযুক্ত করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুনঃ “আমি মমতাকেই পছন্দ করি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে খুব ভালো…অসহায়দের সাহায্য করেন, দরিদ্রদের পাশে থাকেন” “বাংলা ছবি একেবারেই চলছে না, তার দায় সরকারের নয়” বিধানসভা ভোটের আবহে, সোজাসাপ্টা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়!
আবার কেউ ভাবছেন, শ্বেতা তার বিরুদ্ধে চলমান ট্রোলিংয়ের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। যাই হোক, এই পোস্টের মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় বিষয়টি বেশ গরম হয়ে উঠেছে এবং অনেকেই তার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, এমন এক সময়ে যখন শ্বেতা শোক কাটাতে ব্যস্ত, তাকে কেন জনসমক্ষে আরও বেশি চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছে? রাহুলের অকাল মৃত্যু টলিপাড়ায় একটি অপূরণীয় ক্ষতি, কিন্তু শ্বেতার মানসিক অবস্থাকে বুঝে তার প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা উচিত। শোকের মুহূর্তে তার ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া বা তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কতটা নৈতিক, তা নিয়ে আলোচনা চলছেই।






