একটা সময় বাংলা সিনেমার পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল আলাদা আকর্ষণ। ৮০ ও ৯০-এর দশকে বাণিজ্যিক ছবির অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন পাপিয়া অধিকারী। খুব অল্প বয়স থেকেই অভিনয়ের জগতে পা রাখা এই অভিনেত্রী নিজের দক্ষতা আর পরিশ্রমে ধীরে ধীরে তৈরি করেছিলেন আলাদা পরিচয়। বড় পর্দা থেকে মঞ্চ সব জায়গাতেই তিনি সমান সাবলীল।
মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাপিয়া। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাকালীনই তাঁর অভিনয় জীবন আরও দৃঢ় হয়। ১৯৮৫ সালে ‘সোনার সংসার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক, তারপর একের পর এক সফল ছবি। ‘শোষণে কান্দছে লক্ষ্মী’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য রাজ্য সরকারের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান তিনি। বাংলা ছাড়াও তামিল ও ভোজপুরি ছবিতে কাজ করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন।
শুধু অভিনয় নয়, জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। ২০২১ সালে টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। যদিও রাজনীতির ময়দান সম্পূর্ণ আলাদা, তবুও নিজের পরিচিতি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন পাপিয়া। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজের কাজেও যুক্ত থাকার ইচ্ছেই তাঁকে এই পথে নিয়ে আসে।
তবে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর মধ্যে অন্যতম ‘দেবীবরণ’ ছবির ‘বিবি পায়রা’ গান। আজও সেই গান শুনলেই নস্টালজিয়ায় ভেসে যান দর্শকরা। কিন্তু এই গানের পেছনের গল্পটা অনেকেই জানেন না। তখন পাপিয়ার বয়স মাত্র ২১-২২। চেন্নাইয়ে কাজের ব্যস্ততার মাঝেই কলকাতা থেকে ডাক আসে নতুন ছবির জন্য। প্রথমদিকে তাঁকে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন গীতিকার গৌরী প্রসন্ন মজুমদার, এ কি অভিনয় করতে পারবে?
আরও পড়ুনঃ স্বামী রাহুলের মৃ’ত্যুর শোক বুকে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই প্রিয়াঙ্কার! চোখের জল ফেলারও সময় পাননি, অসুস্থ শাশুড়ি ও ছেলের দায়িত্ব সামলে ফিরেছেন কাজে! অভিনেত্রীর পেশাদারিত্ব নিয়ে মুখ খুললেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়! জানালেন, কীভাবে শুটিং করেছেন প্রিয়াঙ্কা?
সেদিন শুটিংয়ের সেটে এক মজার ঘটনা ঘটে। পাপিয়া নিজেই পরে জানিয়েছেন, সেই সময় সেটে ফিশ ফ্রাই ভাজা হচ্ছিল। ছোটবেলার মতোই মনে মনে ভাবছিলেন, যদি কোনও কারণে কাজটা না হয়, তাহলে সেই ফিশ ফ্রাইও আর খাওয়া হবে না! শেষমেশ সব দ্বিধা কাটিয়ে তাঁকেই সুযোগ দেওয়া হয়। আর সেই সুযোগই তৈরি করে দেয় ইতিহাস। ‘বিবি পায়রা’ গান শুধু জনপ্রিয়ই হয়নি, পাপিয়ার ক্যারিয়ারের মাইলস্টোন হয়ে ওঠে। আজ এত বছর পরেও সেই গান, সেই চরিত্র আর সেই স্মৃতি একইভাবে জায়গা করে রেখেছে দর্শকদের মনে।





