ইম্পার বৈঠকে একটি শব্দবন্ধই যেন বদলে দিল টলিপাড়ার অন্দরের সমীকরণ। বৈঠকে দেবের মুখ থেকে উচ্চারিত একটি মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে। সেই মন্তব্য প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে বলেই দাবি, যাঁকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে আজও অনেকেই ইন্ডাস্ট্রি বলে সম্মান জানান। বাইরে থেকে দেবের ভদ্রতা ও সৌজন্যের যে পরিচিত ভাবমূর্তি, সেই ধারণায় এই শব্দটি বড় ধাক্কা দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্যের কথায়, একজন শিল্পী এবং সহকর্মীর প্রতি এমন ভাষা প্রয়োগে সবাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। অনেকের মতে, প্রসেনজিতের পাল্টা প্রতিক্রিয়া না এলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার মতো ছিল না।
ঘটনার রেশ এখানেই থামেনি। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দেব নাকি জিৎকেও রেয়াত করেননি। টলিউডে শান্ত স্বভাবের অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত জিৎ দীর্ঘ দুই বছর পর পুজোয় ফিরছেন নতুন ছবি নিয়ে। সেই প্রসঙ্গেই দেবের মন্তব্য, টানা দু বছর ধরে কাজ করার পর হঠাৎ করে জায়গা চাওয়ার বিষয়টি তাঁর ভালো লাগেনি। দেবের এই বক্তব্যে জিৎ গভীরভাবে অপমানিত হয়েছেন বলে দাবি ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন পুজোর বক্স অফিস নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন এই মন্তব্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
বৈঠকে উত্তেজনা বাড়ে প্রযোজক পিয়া সেনগুপ্তের সঙ্গে কথোপকথনে। দেবের দাবি ছিল, পিয়া নিজে প্রযোজনা না করেও প্রোডাকশন সংক্রান্ত বিষয়ে মত দিচ্ছেন। উত্তরে পিয়া স্পষ্ট জানান, তাঁর কাজই তাঁর পরিচয়। এই বাক্য বিনিময়ের পর দেবের প্রতিক্রিয়াও পরিস্থিতিকে আরও তপ্ত করে তোলে। একই সঙ্গে সুরিন্দর ফিল্মসের কর্ণধার নিসপাল সিং রানার সঙ্গেও দেবের তর্ক হয় বলে জানা গেছে, যা প্রযোজক মহলে ক্ষোভের জন্ম দেয়। একের পর এক বাকবিতণ্ডায় গোটা বৈঠক কার্যত অশান্ত হয়ে ওঠে।
এই প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত সংযত ভাষায় জানান, এই বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। তাঁর শিক্ষা ও সংস্কৃতিই তাঁকে এই অবস্থান নিতে শিখিয়েছে বলে জানান তিনি। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, অতীতেও দেব কোনও মন্তব্যের পর ফোন করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এবারও হয়তো তেমনটাই প্রত্যাশা করছেন প্রসেনজিৎ। তবে দেবের তরফে এখনও কোনও ফোন বা বার্তা এসেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই।
আরও পড়ুনঃ “আমি কোলে নয়, মাটিতে পড়ে থাকি…কেউ নেবে না আমার মনের দায়, তবে ভালো আছি!” ধারাবাহিক ছাড়ার পরও কি চাপে খুদে অভিনব? শিশুশিল্পীর পোস্টে লুকোনো য’ন্ত্রণা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে! উঠছে প্রশ্ন, কাকে উদ্দেশ্য করে এমন বার্তা?
সব মিলিয়ে ইম্পার এই বৈঠক এখন টলিপাড়ার নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আগামী ছয় মাসের বাংলা ছবির মুক্তির ক্যালেন্ডার প্রকাশ হলেও বৈঠকের উত্তাপ সেই ঘোষণাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই অস্বস্তির প্রভাব কি আসন্ন ছবিগুলির মুক্তি ও পুজোর বক্স অফিস লড়াইয়ে পড়বে। দেব এখনও এই বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তাঁর প্রতিক্রিয়া এলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর টলিপাড়ার।






