“মানুষ বদনাম করার চেষ্টা করবেই…গল্প বানাক, ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়ে আমার নয়!” তৃণা সাহার ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে তোলপাড় নেটপাড়া! ‘পরশুরাম’ বিতর্কে, অভিনবের উদ্দেশ্যেই বার্তা অভিনেত্রীর? নাকি ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তির ইঙ্গিত?

ছোটপর্দার পরিচিত মুখ ‘তৃণা সাহা’ (Trina Saha) আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার কোনও নতুন ধারাবাহিক বা চরিত্রের জন্য নয়, বরং একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ঘিরে। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেই তিনি গতকাল এমন একটি বার্তা শেয়ার করেন, যা পড়ে অনেকেই ভাবছেন, নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনও নির্দিষ্ট কারণ আছে। পোস্টে তিনি মূলত নীরব থাকার শক্তির কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সবাইকে সব সময় জবাব দিতে হয় না! কেউ ভুল বুঝতেই চাইলে তাকে বোঝানোর দায় নিজের নয়।’

এই কয়েকটি কথাই যেন নেটমাধ্যমে নতুন করে জল্পনার আ’গুন জ্বেলে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই টলিপাড়ায় কানাঘুষো চলছে ‘পরশুরাম: আজকের নায়ক’ ধারাবাহিকের সেটে নিত্য অশান্তি নিয়ে। অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, শিশু-অভিনেতা অভিনব বিশ্বাসের সঙ্গে নাকি কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিনব কিছুদিন আগে সমাজ মাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ করেছিলেন যে শুটিং ফ্লোরে তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয় না, সব সময় তাচ্ছিল্য করা হয়! যদিও সেই পোস্ট বেশিক্ষণ থাকেনি, তবু তা নজর এড়ায়নি কারও।

অনেকেই তখন ধারণা করেছিলেন, তাঁর সেই বক্তব্য তৃণার উদ্দেশেই। তবে, বিষয়টি নিয়ে তখন সরাসরি কেউ কিছু বলেননি। অন্যদিকে, তৃণা এতদিন পুরো বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিলেন। তাই হঠাৎ তাঁর এমন বার্তা অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে। কেউ বলছেন, তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতেই এই পোস্ট করেছেন। আবার কারও মতে, তিনি হয়তো বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন যে সব সময় বিতর্কে জড়ানো তাঁর স্বভাব নয়। নীরব থাকাকে কেউ দুর্বলতা ভাবলে সেটা ভুল।

সেটাও হয়তো তাঁর কথার মধ্যে পরোক্ষভাবে উঠে এসেছে। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। নীল ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিয়ে এবং সম্পর্ক ভাঙনের গুঞ্জন মাঝেমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ঘোরাফেরা করছে। যদিও দু’জনেই বারবার জানিয়েছেন, এই সব খবরের কোনও ভিত্তি নেই। তবু, আজও নেটপাড়ার কৌতূহল থামেনি। তাই সাম্প্রতিক পোস্টটিকে কেউ কেউ ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গেও জুড়ে দেখতে চাইছেন, যদিও তার কোনও প্রমাণ নেই এই মুহূর্তে।

আরও পড়ুনঃ “সব পরীক্ষায় আমি বেশি লিখতাম, সবার থেকে বেশি নম্বর পেতাম…এটাই আমার বাজে অভ্যাস!” নিজের ঢাক নিজেই পেটালেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়! ‘ভাগ্যিস এখন বিদ্যাসাগর বেঁচে নেই, না হলে বিদ্যাসাগরের জায়গায় হিরণময় নামই আসত’ বলছেন নেটিজেনরা!

যদিও, এর মধ্যেই আবার খবর মিলেছে যে দ্বন্দ্ব কাটিয়ে অভিনব আবার ধারাবাহিকে ‘লাট্টু’ চরিত্রে অভিনয় শুরু করছে। তবে, সব মিলিয়ে তৃণার পোস্টের কয়েকটি সংযত বাক্য এখন চর্চায় এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি, কোনও অভিযোগও তোলেননি। তবু তাঁর কথার ভঙ্গি অনেককে ভাবাচ্ছে। হয়তো সময়ই বলবে, এই নীরবতার পেছনে আসল কারণ কী? আপাতত তাঁর অনুরাগীরা অপেক্ষায় সেই উত্তরের। তিনি কি আর কিছু বলবেন, নাকি চুপ থাকাই তাঁর জবাব?

You cannot copy content of this page