বাংলা গানের জগতে কবীর সুমনের (Kabir Suman) প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেক শিল্পীর স্মৃতিতেই উঠে আসে নানা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে সেই স্মৃতিই ভাগ করে নিলেন গায়ক ‘রূপঙ্কর বাগচী’ (Rupankar Bagchi)। তিনি জানালেন, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রথমবার কাছ থেকে সুমনের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সুযোগ পান। তখন একটি টেলিভিশন চ্যানেলে গানের অনুষ্ঠান হত, যেখানে সুমন ছিলেন সঞ্চালক। সেই মঞ্চেই একদিন শিল্পী হিসেবে হাজির হয়েছিলেন রূপঙ্কর।
সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের আলাপ, আর তারপর থেকেই সুমনের গান যেন তাঁর জীবনের এক নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়। কোথাও অনুষ্ঠান হলেই তিনি সময় করে গিয়ে বসে গান শুনতেন, তবে কখনও সামনে গিয়ে প্রশংসা জানানোর প্রয়োজন অনুভব করেননি। রূপঙ্করের কথায়, তিনি বরাবরই সুমনের এক নীরব শ্রোতা। দূর থেকেই তাঁর কাজকে অনুসরণ করতে ভালোবাসতেন। সেই সময় বাংলা গানে যে নতুন ধারার উত্থান হয়েছিল, সেখানে কবীর সুমনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি নচিকেতা চক্রবর্তী বা গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরাও সেই পরিবর্তনের বড় অংশ ছিলেন। এই সব শিল্পীর গানই তাঁর নিজের সংগীতজীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করেন রূপঙ্কর। অনেক বছর পরে আরেকটি বিশেষ মুহূর্ত আসে তাঁর জীবনে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘জাতিস্মর’-এ কবীর সুমনের সুরে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। সেই ছবির সঙ্গীতের দায়িত্বে ছিলেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, তিনিই ফোন করে জানান যে রূপঙ্করকে দুটি গান গাইতে হবে। গান দুটির রেকর্ডিং খুব বেশি সময় নেয়নি।
কয়েকটি টেকের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যায় এবং সুমনের তরফে সংক্ষিপ্তভাবে প্রশংসাও পান তিনি। আবেগঘন কোনও মুহূর্ত বা বড়সড় উদ্যাপন ছিল না, বরং একেবারেই স্বাভাবিক ও সংযত পরিবেশেই কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল। রূপঙ্কর মনে করেন, একজন শিল্পীর কাজই আসল পরিচয়। তাই তিনি কখনও ব্যক্তিগতভাবে কবীর সুমন কেমন মানুষ, তাঁর ব্যক্তিজীবনে কী ঘটছে? এসব জানার চেষ্টা করেননি। এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করার আগ্রহও তাঁর ছিল না। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল শিল্পীর সৃষ্টি। তিনি মনে করেন, অনেক সময় খুব কাছাকাছি চলে গেলে যে মুগ্ধতা বা শ্রদ্ধা থাকে, সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
আরও পড়ুনঃ ‘টলি কুইন’ নয়, দেবের মতে কোয়েল ‘গসিপ কুইন’! এতদিন টলিউডে জুটি হিসেবে ঝড় তুলেছেন, এবার রাজনীতির মঞ্চেও একসঙ্গে নজর কেড়েছেন! অভিনেতার হাসির মাঝেই ফাঁস রহস্য, শুনে চমকে যাবেন!
তাই দূরত্ব বজায় রেখেই তিনি এই শিল্পীদের গান ও কাজকে উপভোগ করতে চেয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শিল্পীদের তুলনা করার প্রবণতাও তাঁর পছন্দ নয়। কবীর সুমন না নচিকেতার মধ্যে কে বড়, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন তিনি কখনও অনুভব করেননি। দু’জনেই তাঁদের নিজস্ব ভঙ্গিতে অনন্য। কেউ গীতিকবিতার আবহে শ্রোতাকে ছুঁয়ে যান, আবার কেউ প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পান গানে। তবে এত বছর পরেও কবীর সুমনের গান যে মানুষের প্রেম, স্মৃতি আর অনুভূতির অংশ হয়ে রয়েছে, সেটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।






‘টলি কুইন’ নয়, দেবের মতে কোয়েল ‘গসিপ কুইন’! এতদিন টলিউডে জুটি হিসেবে ঝড় তুলেছেন, এবার রাজনীতির মঞ্চেও একসঙ্গে নজর কেড়েছেন! অভিনেতার হাসির মাঝেই ফাঁস রহস্য, শুনে চমকে যাবেন!