ছেলের পৈতে উত্তম কুমারকে নিমন্ত্রণ করেও আসতে মানা করেছিলেন নির্মল কুমার! কেন নিয়েছিলেন এমন সিদ্ধান্ত, মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকীতে আসল কারণ ফাঁস করলেন অভিনেতার পুত্র ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়?

বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা ছিলেন নির্মল কুমার। শত শত বাংলা ছবিতে কখনও বাবার চরিত্রে, আবার কখনও শ্বশুরের ভূমিকায় তাঁকে দেখা গিয়েছে। তিনি অভিনেত্রী মাধুরী মুখোপাধ্যায়ের স্বামীও ছিলেন। ‘জীবন মৃত্যু’ ছবির প্রযোজক এবং অভিনেতা হিসেবে টালিগঞ্জে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল। জীবনের প্রথম ছবিতেই তিনি উত্তম কুমারকে অভিনয়ে নিয়েছিলেন। পরে কাজের সূত্রে মহানায়কের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এমনকী প্রথম ছবিতে নির্মল কুমারকে অভিনয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন উত্তম কুমারই।

ছোট থেকেই বাবার সঙ্গে উত্তম কুমারের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক খুব কাছ থেকে দেখেছেন নির্মল কুমারের ছেলে ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাই বাবাকে ঘিরে থাকা একটি মজার স্মৃতি প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। ‘টাইম এন্ড টাইট পডকাস্ট উইথ সৌরভ’-এ নিজের পৈতের সময়কার সেই ঘটনা তুলে ধরেন অভিনেতা। ভাস্কর জানান, তাঁর পৈতের অনুষ্ঠানে উত্তম কুমারের আসার কথা ছিল। অন্য নিমন্ত্রিতদের মতো মহানায়কের কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ। উত্তম কুমার আসবেন, এই খবরও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচিত মহলে ছড়িয়ে পড়েছিল। তখনই নির্মল কুমার বুঝতে পেরেছিলেন, মহানায়ককে ঘিরে তাঁর বাড়িতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে নির্মল কুমারের যথেষ্ট ধারণা ছিল। তাই অনুষ্ঠানের দিন তাঁকে দেখতে বাড়িতে মানুষের অতিরিক্ত ভিড় হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। শুধু ভিড় নয়, মানুষের ঠেলাঠেলি থেকে কোনও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে বলে চিন্তা করেছিলেন। সেই কারণেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে উত্তম কুমারের বাড়িতে যান নির্মল কুমার। সঙ্গে ছিল পৈতের অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণপত্রও। কার্ড হাতে তুলে দেওয়ার পরই তিনি মহানায়ককে অনুরোধ করেন, যেন তিনি অনুষ্ঠানের দিন তাঁর বাড়িতে না আসেন। নিমন্ত্রণ করেও এমনভাবে উত্তম কুমারকে আসতে বারণ করার নেপথ্যে ছিল একমাত্র নিরাপত্তার চিন্তা।

নির্মল কুমার উত্তম কুমারকে এমনও জানিয়েছিলেন যে অনুষ্ঠানের সমস্ত খাবার তিনি তাঁর বাড়িতে পাঠিয়ে দেবেন। প্রয়োজনে কাঁচা খাবারও পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনওভাবেই যেন উত্তম কুমার সেদিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা না করেন, সেই অনুরোধই করেছিলেন নির্মল কুমার। তাঁর এই সিদ্ধান্ত সেই সময় অনেকের কাছেই অবাক করার মতো মনে হতে পারত। তবে নির্মল কুমার জানতেন, উত্তম কুমারকে একবার চোখের সামনে দেখার জন্য মানুষ কতটা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়ির সামনে মানুষের ভিড় এবং ঠেলাঠেলি শুরু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। বন্ধু এবং সহকর্মী উত্তম কুমারকে তাই আগেভাগেই পরিস্থিতির কথা বুঝিয়ে অনুষ্ঠানে না আসার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ টাস্ক চলাকালীন নিশ্চিন্তে ঘুম! ‘বিগ বস’-এর সদস্যদের পাশে নেই অনিন্দ্য, অভিনেতার আচরণে বেজায় চটেছেন দর্শক! সবার আগে তাঁকেই এলিমিনেট করার দাবি উঠছে, আপনারাও কি তাই চাইছেন?

ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্মৃতির মধ্য দিয়ে উত্তম কুমারের সেই সময়কার জনপ্রিয়তার একটি ছবি আরও একবার সামনে এসেছে। একজন অতিথিকে নিমন্ত্রণ করেও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে এমন চিন্তা করতে হয়েছিল নির্মল কুমারকে। কারণ মহানায়ককে ঘিরে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা যে কোনও সময় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা তিনি বুঝেছিলেন। তাই ছেলের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বন্ধুকে পাশে পেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। উত্তম কুমারের সঙ্গে নির্মল কুমারের সম্পর্ক যে কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল, এই ঘটনাতেও তারই আভাস মেলে। একইসঙ্গে বোঝা যায়, মহানায়ককে ঘিরে মানুষের আবেগ ও জনপ্রিয়তা তখন কতটা তীব্র ছিল। জন্মশতবার্ষিকীর আবহে ভাস্করের মুখে উঠে আসা এই পুরনো ঘটনাই ফের আলোচনায় এসেছে।

You cannot copy content of this page