টলিউডের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই অভিনেতা ‘ভিভান ঘোষ’কে (Vivaan Ghosh) ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর একটি পোস্ট থেকেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়, যেখানে ‘চিরসখা’ (Chiroshokha) ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘বেকার ভাতা’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি কার্যত ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সারাদিন ধরে নানান মন্তব্য, কটাক্ষ এবং ব্যাখ্যার পর অবশেষে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে যেমন ছিল আবেগ, তেমনই ছিল নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা!
এদিন তিনি বলেন, “আমি এমনিতেই প্রেসারের ওষুধ খাই আর রাহুলদার খবরটা পেয়ে খুব ভেঙে পড়েছিলাম শারীরিক আর মানসিক ভাবেও। মনে হচ্ছিল ওইদিন দুটো ওষুধ লাগবে, একটায় হবে না। আমাদের ১২ বছরের সম্পর্ক, বিগত তিন মাস ধরে প্রায় একই জায়গায় শুটিং করছিলাম। ওইদিনের ঘটনার পর সবার মুখের হাসিটাই হারিয়ে গেছে। আমি তেমন অবস্থায় ছিলাম না যে শেষবার দেখতে যাবো। নিশ্চই তদন্ত হওয়া দরকার যে কেন হয়েছে এটা, তাই বলে এতগুলো লোকদের স্বস্তি দিয়ে কি সেটা সম্ভব না উচিৎ?
অভিযুক্ত পাঁচজন ছাড়াও তো ১০০ জনের কাছাকাছি এই প্রযোজনা সংস্থার অধীনে কাজ করে। সবার কী দোষ ছিল? কাল বৈঠকে বলা হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মহীন যারা রয়েছে তাদের আবার কাজে ফেরানো হবে। ব্যান কালচার তুলে দেওয়া হবে, কিন্তু আমরা তো কিছু না করেই ব্যান হয়ে গেলাম! আমাদের ধারাবাহিকের শুটিং আগের বছর পুরীতে হয়েছিল সেই সময় আমরাও জলে শুটিং করেছিলাম, কোনও সমস্যাই হয়নি। তাছাড়াও ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ শিল্পীদের যথেষ্ট সম্মান দেয়। না হলে টলিউডের বর্ষীয়ান শিল্পীরা কেন অভিনয় করে এই প্রযোজনা সংস্থায়?
আমায় যারা বলছেন অন্য কোথাও কাজ পাবো না বলে বা পাইনা বলে এরকম বলছি, আমার তো এটাই প্রথম লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ধারাবাহিকে অভিনয়! এর আগে আমার তেমন আলাপও ছিল না, আমি কথা বলছি টেকনিশিয়ানদের বা পর্দার পেছনে যারা থাকে তাদের জন্য। আমার মুখ চেনা সবার, আজ নয় কাল আমি কাজ পেয়েই যাব। কিন্তু তারা? আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, যারা কাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা যেন আবার পর্যালোচনা করে দেখেন এই সিদ্ধান্ত। একটা গাড়ি এক্সিডেন্ট করলে নিশ্চয়ই ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নেওয়া হয় না!
তেমনি একটা ভুলের জন্য এতগুলো মানুষ শাস্তি পেতে পারে না। ইন্ডাস্ট্রি থেকে যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমিও সহমত। তবে ধারাবাহিক বন্ধ করে দেওয়ার দরকার কি খুব ছিল?” এই দীর্ঘ বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, তাঁর ক্ষোভ বা মন্তব্য শুধুমাত্র নিজের কাজ নিয়ে নয়, বরং বৃহত্তর একটি কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা নিয়েও। বিশেষ করে যারা পর্দার আড়ালে কাজ করেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ স্পষ্ট। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃ’ত্যু যে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে, সেটাও তাঁর কথায় বারবার উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, তাঁর পোস্ট ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়, তাতে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে। সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতেই সংবাদ মাধ্যম থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অনেকেই যখন কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন, তখন তিনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন? উত্তরে তিনি বলেন, “যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নই! যতদিন না তদন্তের নিষ্পত্তি হচ্ছে আমি অন্য কোনও ধারাবাহিকে অভিনয় করব না! ততদিন আমি লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং ম্যাজিক মোমেন্টস এর সঙ্গেই আছি!
আরও পড়ুনঃ “দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমি শুধু ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর যত্ন পেয়েছি” “রাহুলের মৃ’ত্যুতে আমি কিছু বলতে পারিনি কারণ চাইনি…কাউকে কৈফিয়ত দেব না” অকপট রাজন্যা মিত্র! ‘কাজ ছেড়ে দেওয়াটা শুধুই নাটক ছিল, আসলে আপনিও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দলে!’ কটাক্ষে মুখর নেটপাড়া!
অন্যের খারাপ দিনে নিজেকে বাঁচানোর চিন্তা আমি করি না, আবার পাশে দাঁড়ানোই আমার স্বভাব! জানি এগুলো বললে হয়তো আমাকেও ব্যান করে দিতে পারে।” এই ঘটনার পর টলিউডে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট। একদিকে শিল্পীদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কাজ হারানোর আশঙ্কা, দুটোই পাশাপাশি চলছে। ভিভানের বক্তব্যে যেমন প্রতিবাদ আছে, তেমনই আছে সহমর্মিতা। ফলে তাঁর এই মন্তব্য বিতর্ক বাড়ালেও, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অস্বস্তি আর অনিশ্চয়তার ছবিটাও আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।






