“আমি ৬০ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি, এবারের ভোট অত্যন্ত দুঃখের” মেয়ে কোয়েল মল্লিক রাজনীতির ময়দানে পা রাখতেই, কেন এমন বললেন বাবা রঞ্জিত মল্লিক? কোন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করলেন তিনি?

আজ সকাল থেকেই কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে ভোটগ্রহণ। বুথগুলোতে জনতার লাইন বেশ লম্বা, যেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি টলিউডের সেলেবরাও ভোট দিচ্ছেন। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ টালিগঞ্জ গলফ ক্লাব রোডের বাঙুর হাইস্কুলে ভোট দিতে এসেছিলেন টলিউড অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক এবং তার স্ত্রী কোয়েল মল্লিক। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে তিনি ভোট দিয়ে আসছেন এবং কখনও তা মিস করেননি। তবে এবারের ভোটে তার গলায় একটি আক্ষেপের সুর শোনা গেল। রঞ্জিত মল্লিকের মতে, এবারের ভোট তার কাছে এক ধরনের দুঃখের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে।

ভোট দিয়ে বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রঞ্জিত মল্লিক। তিনি জানান, “আমি কখনই ভোট মিস করি না, এবং প্রতিবার ভোট দেবই। এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে মনে করি। তবে এবারের ভোটটা আমার কাছে অনেক দুঃখের। কারণ, অনেক মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এরকম পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে রঞ্জিত মল্লিক একটি বড় সমস্যা তুলে ধরেছেন, যেখানে ভোটারের সংখ্যা কম এবং কিছু মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তবে তিনি আশাবাদী যে ভোটগ্রহণ শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হবে। তিনি আরো বলেন, “আমি চাই, ভোট শান্তিপূর্ণ হোক এবং যেন কোনো ধরনের অশান্তি না ঘটে। দেশের ভবিষ্যত উন্নতির জন্য সকলের মতামত প্রয়োজন।” তার এই মন্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ফুটে উঠেছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রঞ্জিত মল্লিকের এই দুঃখ প্রকাশ তার জন্য গণতন্ত্রের প্রতি একধরনের অশান্তি বা উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে ধরা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: স্বস্ত্রীক ভোট দিতে গিয়েও না পেরে, ফিরে গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী! কী ঘটেছে, ক্ষুব্ধ হয়ে জানালেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ?

এদিন, রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ভোট দিতে এসেছিলেন তার মেয়ে কোয়েল মল্লিকও। কোয়েল তার বক্তব্যে বলেন, “ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমরা সবাই চাই দেশের উন্নতি হোক, আর মানুষের জীবনযাত্রা আরও ভালো হোক। সবার জন্য একটি ভালো ভবিষ্যৎ কামনা করি।” তিনি আরও বলেন, “যেদিন থেকে আমি ভোট দিতে শুরু করেছি, সেই দিন থেকে আমার অভিজ্ঞতা বেড়েছে। আমি সবসময় চেয়েছি দেশের এবং মানুষের উন্নতি হোক, এবং সবাই সুখে থাকুক।”

কোয়েল মল্লিকের বক্তব্যে গণতন্ত্রের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও মানুষের জন্য তার চিন্তা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। ভোট দেওয়ার গুরুত্ব এবং দেশের উন্নতির প্রতি তার দৃষ্টি যে কত গভীর, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। রঞ্জিত মল্লিক এবং কোয়েল মল্লিকের একসঙ্গে ভোট দেওয়া একে অপরকে সমর্থন করার পাশাপাশি দেশপ্রেমেরও এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাদের মতো সেলেবরা যখন গণতন্ত্রের মূল্যায়ন করেন, তখন সাধারণ মানুষও আরো অনুপ্রাণিত হন।

You cannot copy content of this page