“ছোট বয়সে পালিয়ে বিয়ে, তারপর বেঙ্গালুরুতে, প্রোডিউসারের সঙ্গে সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে-ডিভোর্সের পরেই ফের নতুন সংসার!” সুস্মিতাকে নিয়ে সামনে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য! তবে কেন এমন একজন মহিলার সঙ্গেই দাদার বিয়ে ঠিক করেছিলেন সায়ক? “শুধুমাত্রই কি টাকার জন্য”, প্রশ্ন তুলছে সমাজ মাধ্যম!

চক্রবর্তী পরিবারকে ঘিরে বিতর্ক যেন এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের একটি বিতর্কিত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। এবার কেন্দ্রবিন্দুতে সায়ক চক্রবর্তীর প্রাক্তন বৌদি তথা অভিনেত্রী সুস্মিতা। তাঁর নতুন বিয়ে, পুরনো সম্পর্ক, আর ফেসবুক লাইভে করা বিস্ফোরক অভিযোগ—সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরেও এই নিয়ে চলছে চাপানউতোর।

অভিনেত্রীকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উঠেছে একাধিক অভিযোগ। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। একাধিক বিয়ে, সম্পর্কের জট, প্রোডিউসারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—এসব বিষয় এখন সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্র। নেটপাড়ার একাংশ বলছে, সুস্মিতার জীবনে সম্পর্কের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আবার অন্য একাংশের দাবি, একজন মহিলার ব্যক্তিগত জীবনকে এভাবে টেনে এনে বিচার করা একেবারেই অনুচিত। ফলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সুস্মিতার জীবনে একাধিক সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কগুলির প্রভাব তাঁদের দাম্পত্যে পড়েছিল। সব্যসাচীর অভিযোগ, টাকার প্রতি আকর্ষণ এবং স্বার্থের জন্যই বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সুস্মিতা। এমনকি তিনি দাবি করেছেন, তাঁদের বিয়ের সময়েও অভিনেত্রীর অতীত সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। পরে ধীরে ধীরে অনেক তথ্য সামনে আসে, যা তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়। তবে সমস্ত অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সুস্মিতা নিজেই, এবং তা করেছেন সরাসরি ফেসবুক লাইভে এসে।

তাঁর বক্তব্য একেবারে ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনওভাবেই ‘চক্রবর্তী পরিবার’-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন না, বরং নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তাঁকে দীর্ঘদিন মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি তিনি দাবি করেন, তাঁকে অপমানজনক পরিস্থিতিতে ফেলতে ইচ্ছাকৃতভাবে নানা অস্বাভাবিক প্রস্তাব দেওয়া হতো। লাইভে তিনি আরও বলেন, তাঁর সামনে অন্য মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক করা হতো, এমনকি আপত্তিকর ভিডিও দেখানো পর্যন্ত হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়—তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল যাতে সম্পর্ক ‘বাঁচাতে’ তৃতীয় ব্যক্তিকে যুক্ত করা যায়। এই সমস্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। তাঁর প্রশ্ন, “এই সব কি স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনের অংশ?” সুস্মিতার দাবি, তিনি কখনও বিয়ে ভাঙতে চাননি। বরং তিনি একটি স্বাভাবিক সংসার এবং সন্তান চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছাকেই নাকি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, ২০১৯ সালে একটি সন্তান হারানোর পরও তাঁকে ‘বাঁজা’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।

এই মানসিক আঘাত নিয়েও তিনি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যেখানে তাঁর পক্ষে আর থাকা সম্ভব হয়নি। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি তথাকথিত টাইমলাইন, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, অল্প বয়সে পালিয়ে বিয়ে করা থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় বিয়ে, তারপর এক প্রোডিউসারের সঙ্গে সম্পর্ক, এরপর সব্যসাচীর সঙ্গে বিবাহ—এইভাবে একাধিক অধ্যায় রয়েছে তাঁর জীবনে।

এমনকি অভিযোগ উঠেছে, ধনী ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তিনি আবার সব্যসাচীর কাছে ফিরে আসেন। যদিও এই সমস্ত তথ্যের সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি, তবুও নেটপাড়ায় এগুলো নিয়েই চলছে তুমুল আলোচনা। সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক বিয়ে। ডিভোর্সের অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন করে বিয়ে এবং মা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ—এই বিষয়টি অনেকের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন, একজন নারীর নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আবার অন্যরা এটিকে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো বলে ব্যাখ্যা করছেন।

এরই মাঝে সামনে এসেছে আরও কিছু অভিযোগ, যেখানে বলা হচ্ছে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে তিনি নাকি নিজের সীমা ছাড়িয়েছিলেন। এমনকি থ্রিসাম-এর মতো পরিস্থিতিতেও জড়িয়েছিলেন—এমন দাবিও ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও এই অভিযোগগুলির কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ছে প্রতিনিয়ত। সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক জটিল পরিস্থিতি, যেখানে সত্য-মিথ্যা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। একদিকে একজন মহিলার ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ “এক ব্যক্তির সঙ্গে শারী’রিক সম্পর্কে ছিল সায়ক, তাঁর যৌ*নাঙ্গ ছিঁ’ড়ে দিয়েছিল!” “টাকার পি’শাচ ও, টাকার জন্য সবকিছু করতে পারে!” সব্যসাচীর পর এবার সায়ক, একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সরব সুস্মিতা রায়! ফাঁস গোপন কু’কীর্তি, জনপ্রিয় ভ্লগারের ভাবমূর্তিতে ফের প্রশ্ন চিহ্ন!

দুটির মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ, যারা স্পষ্ট উত্তর খুঁজছে। তবে সবকিছুর শেষে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে, তা হল সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে। নেটপাড়ার একাংশের সরাসরি প্রশ্ন—কেন তিনি নিজের দাদার সঙ্গে এমন একজন মেয়ের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, যার অতীত নিয়ে এত বিতর্ক? শুধুমাত্র কি অর্থের লোভ, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর কোনও কারণ? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। কিন্তু একের পর এক বিস্ফোরক দাবি, পাল্টা অভিযোগ আর সোশ্যাল মিডিয়ার উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এই বিতর্ক যে আরও অনেক দূর গড়াবে, তা এখনই স্পষ্ট।

You cannot copy content of this page