বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই আমরা অনেক নতুন সঞ্চালিকাকে দেখতে পাই। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, তারা অতিথি বা শিল্পীদের সম্পর্কে পুরো তথ্য জানে না। নাম ভুল বলা, পরিচয় ঠিকমতো না জানানো, এমনকি অনুষ্ঠানের ধারার সঙ্গে খাপ না খাওয়ানো—সবই দর্শকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। এই কারণেই অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মের সঞ্চালিকা বা সঞ্চালকরা কতটা দায়িত্বপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান চালাচ্ছেন।
বাংলা আবৃত্তি ও শ্রুতিনাটকের খ্যাতিমান শিল্পী ঊর্মিমালা বসু সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলা আবৃত্তি ও শ্রুতিনাটকের জগতে পরিচিত। তার স্বামী জগন্নাথ বসুর সঙ্গে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা শিল্পকর্মের সঙ্গে যুক্ত। তাদের জীবন ও কাজের গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে তথ্যচিত্র ‘যুগলেষু’, যা পরিচালনা করেছেন পলাশ দাস। উর্মিমালা বসু রেডিও ও টেলিভিশনেও বহুবার কাজ করেছেন।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখেছেন যে একজন সঞ্চালিকা তার পুরো নামও ঠিকমতো জানতেন না ঊর্মিমালা’র জায়গায় তাকে উর্মিলা নামে সম্মোধন করা হয়েছিল। ঊর্মিমালা বসু জানান, এটা একটি বড় ভুল এবং সঞ্চালিকাদের উচিত আগেই সমস্ত তথ্য জেনে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা।
ঊর্মিমালা বসু আরও জানান, ওই অনুষ্ঠানে সঞ্চালিকা শুধুমাত্র তার নাম ভুল বলেননি, তার পরিচয় ভুলভাবে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, জগন্নাথ বসুর সঙ্গে সঞ্চালিকা করার সময় তাকে “অপুর দুর্গা” বলা হয়েছিল, যা সত্য নয়। আসলে সেই সময় তাকে অলোক রায় ঘটকের সঙ্গে একসাথে বলা হতো। এ কারণে দর্শক ও শিল্পী উভয়ই বিভ্রান্ত হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মোটা থেকে রোগা হয়েছ, ভালো লাগছে! জনতার বডি শেমিংয়ের মাঝেই শ্রাবন্তীর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা! তবে কি এবার ভোটে বিজেপির প্রাক্তন সদস্যই বঙ্গ শাসিকার ভরসা হবেন?
ঊর্মিমালা বসু বলেছেন, “যদি কেউ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য আসে, তার উচিত আগেই সমস্ত তথ্য জেনে আসা। নাহলে এটি দর্শকের সঙ্গে অসৎ আচরণের সমতুল্য, শুধু তাই নয় এটি অশিক্ষার পরিচয়” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান সমাজে কতটা সঞ্চালিকা সত্যিই তাদের কাজের প্রতি যত্নবান এবং শিল্পী ও দর্শকের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা দেখাচ্ছেন। এই ঘটনা দেখিয়েছে, অনুষ্ঠান পরিচালনার মান কতটা গুরুত্বপূর্ণ।






