“শুটিং শেষে কেন সমুদ্রে নামলি? হঠাৎ কী এমন ফুর্তি হলো?” রাহুল অরুণোদয়ের ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যু নিয়ে মুখ খুললেন প্রবীণ অভিনেত্রী ছন্দা চট্টোপাধ্যায়! “যে যার মতো চলছে, বেশি বললে কেউ শুনবে না” নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশ্যে কি বার্তা তাঁর?

কয়েকদিন কেটে গেলেও এখনও স্তব্ধ টলিপাড়া। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে শোক আর প্রশ্ন দুটোই সমানভাবে রয়ে গেছে। ওড়িশার তালসারি সৈকতে শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনা আজও যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউই। সময় এগোলেও, সেই ঘটনার রেশ এখনও তাজা, আর তার মধ্যেই এবার এই বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন প্রবীণ অভিনেত্রী ছন্দা চট্টোপাধ্যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে জোয়ারের সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় অভিনেতার ব্যক্তিগত কোনও ভুল ছিল না বলেই তদন্তে উঠে আসছে প্রাথমিক ইঙ্গিত। তবে ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে শুটিং সেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল কি না, কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের সময় সতর্কতা নেওয়া হল না। অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও তুলেছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ খুললেন প্রবীণ অভিনেত্রী ছন্দা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, রাহুলকে তিনি একেবারে ছোটবেলা থেকে চেনেন। একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতিও রয়েছে। সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়েই যেন বারবার ফিরে আসছিল পুরনো দিনগুলো। তাঁর গলায় স্পষ্ট ছিল শোক আর অবিশ্বাস, এভাবে হঠাৎ করে সব শেষ হয়ে যাবে, তা যেন এখনও মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

শুধু শোক নয়, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বর্তমান প্রজন্ম নিয়েও কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছন্দা চ্যাটার্জি। তাঁর মতে, এখনকার সময়ে অনেকেই অস্থির হয়ে পড়েছে, ধৈর্যের অভাব স্পষ্ট। যদিও তিনি সরাসরি কাউকে দোষারোপ করেননি, তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেই দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই ধরনের দুর্ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয় এবং এগুলো ভাবলে মনটা ভারী হয়ে যায়।

রাহুলের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ছন্দা চট্টোপাধ্যায়ের গলায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আক্ষেপের সুর। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “শুটিং শেষে কেন সমুদ্রে নামতে হল? হঠাৎ এমন কী ফুর্তি হলো?” যদিও তিনি সরাসরি কোনও অভিযোগ করেননি, তবে তাঁর এই কথাতেই ফুটে উঠেছে এক ধরনের বিস্ময় আর কষ্ট। ছোটবেলা থেকে চেনা এক অভিনেতাকে এভাবে হারানোর যন্ত্রণা যেন এই প্রশ্নগুলোর মধ্যেই বারবার ফিরে এসেছে। তাঁর কথায় বোঝা যায়, এই ঘটনা এখনও মেনে নিতে পারছেন না তিনি, আর সেই কারণেই বারবার উঠে আসছে এমন কিছু না বলা প্রশ্ন, যার উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।

আরও পড়ুনঃ “মেকআপ রুমে ভিড়, এই বয়সে বাইরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সংসারটা তো চালাতে হবে” “আমি তো সিনিয়র আর্টিস্ট, আমার কি কাজের প্রয়োজন নেই?” ১৪ ঘণ্টা শুটিং, ঠিক মতো ডেটও দেয় না? শুটিং ফ্লোরের ক’ষ্টকর অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কল্যাণী মণ্ডল!

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বিশেষ কোনও উপদেশ দিতে চান না বলেই জানিয়েছেন তিনি। “যে যার মতো চলছে, বেশি বললেও কেউ শুনবে না” এই সংক্ষিপ্ত কথাতেই যেন লুকিয়ে রয়েছে এক শিল্পীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। রাহুলের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি টলিপাড়ার জন্য এক বড় শিক্ষা হয়ে থাকতে পারে যেখানে প্রতিভার সঙ্গে নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page