নিট (NEET) আন্দোলন এবং তার জেরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনও জোর চর্চা চলছে। আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। এই আবহেই গোটা বিষয়টি নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের আবেগ এবং পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়েই কেন্দ্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর মতে, সরকার চাইলে অন্য সিদ্ধান্তও নিতে পারত, কিন্তু তা করেনি বলেই এই ঘটনাকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
রুদ্রনীল বলেন, “এখন যদি সরকার দাম্ভিক হত, সরকার যদি নিজের জেদকে বজায় রাখত তা হলে এ সবের প্রয়োজনই হত না। কারণ, যা যা শর্ত দেওয়া হয়েছিল সে সব মিটে গিয়েছে। সরকার এর পরেও এই পদক্ষেপ না করলেও পারত।” তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ছাত্রসমাজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, একজন অভিভাবকের মতো আচরণ করেই সরকার দেশের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী চাইলে পদত্যাগ না-ও করতে পারতেন, আবার প্রধানমন্ত্রীও সেই পদত্যাগ গ্রহণ না-ও করতে পারতেন, কিন্তু তাঁরা তা করেননি।
একই সঙ্গে আন্দোলনের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রুদ্রনীল। তাঁর অভিযোগ, এই আন্দোলনের নামে অনেক জায়গায় এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যার সঙ্গে প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, “ছাত্র আন্দোলনের নামে পুলিশ খ্যাপানো, শিক্ষাকে আন্দোলনের বাইরে রেখে হিন্দুবিরোধী ধারা ৩৭০-এর পক্ষে কথা বলা, বিভাজনের রাজনীতি, ‘টুকরে টুকরে’ হওয়ার স্লোগান, জাতীয় পতাকা উল্টো করে লাগানো বা পায়ের নিচে ফেলা, এই গুলো ঘটেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যে ভাবে কখনও পুলিশ, কখনও সাংবাদিককে পেটানো হয়েছে বা আটকানোর চেষ্টা করেছেন, তার থেকেই স্পষ্ট, শিক্ষার্থী আন্দোলনের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী নন!”
রুদ্রনীলের দাবি, যাঁদের ছাত্র আন্দোলনকারী বলা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আদৌ ছাত্র নন। তাঁর বক্তব্য, “খোঁজ নিলে দেখা যাবে, আন্দোলনকারীর অধিকাংশ হয়তো স্কুলের গণ্ডিই পেরোননি!” তিনি বলেন, তাঁদের কথা বলার ধরন এবং আচরণ দেখেই তাঁর এমন মনে হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকৃত ছাত্রছাত্রীরা কখনও দেশের বিভাজনের স্লোগান দেবেন না বা ধর্মের ভিত্তিতে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখবেন না। এমনকি তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, দেশের ক্ষতি করতে চাওয়া কোনও বিদেশি শক্তিও এই আন্দোলনের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে থাকতে পারে এবং নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করতে চেয়েছে।
সাংবাদিকদের ভূমিকাও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি থেকে শুরু করে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় বহু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকরাই সেই তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর কথায়, “দিল্লি থেকে বাংলা, সর্বত্র অন্যান্য দলের সদস্য প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনকে তাঁদের মতো করে দলীয় রঙে রাঙিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। সাংবাদিকরা সেই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। একই সঙ্গে দেখিয়েছেন, আন্দোলনকে সামনে রেখে ‘ছাত্র’র ছদ্মবেশে এক দল কী ভাবে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এই সত্য প্রকাশ্যে আসার কারণেই সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
আরও পড়ুনঃ লিলি, রত্না, অনামিকা যখন ছোটপর্দা থেকে দূরে, তখন ৯১ বছরেও ব্যতিক্রমী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়! সম্প্রতি ‘সংসারের সংকীর্তন’-এর সেটে মিলেছে দেখা, এবার কি নিয়মিত ধারাবাহিকে? ছোটপর্দায় ফেরার ইচ্ছা নিয়ে কী জানালেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী?
সব মিলিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, কেন্দ্রের ভূমিকা এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রকৃতি, এই তিনটি বিষয় নিয়েই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবেদনশীলতার পরিচয় দেয়। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনের আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও তাঁর এই মন্তব্যের সঙ্গে সকলেই একমত নন, তবুও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।






