এক সময় যাঁরা “শুধুই বন্ধু” ছিলেন, আজ তাঁরা স্বামী-স্ত্রী! কথা হচ্ছে ‘কাঞ্চন মল্লিক’ (Kanchan Mullick) ও ‘শ্রীময়ী চট্টরাজ’ (Sreemoyee Chattoraj) কে নিয়ে। একটা সময় ছিল যখন কাঞ্চন মল্লিকের নাম শুনলেই মজার ডায়লগ মনে পড়ত, আর এখন? মনে পড়ে ‘শ্রীময়ী চট্টরাজ’। কারণ এই এক নামেই নাকি আজকাল কাঞ্চনের জীবনের ‘মার্কারের দাগ’ পড়েছে! টলিপাড়ায় কান পাতলেই শোনা যায়— বন্ধু হিসেবে শুরু, তারপর রোড শোতে একসঙ্গে ফুচকা খাওয়া, মেকআপ রুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প—সব মিলিয়ে একেবারে সিরিয়ালের বাইরে আরেকটা সিরিয়াল শুরু করে ফেলেছিলেন দু’জনে!
আর এখন শ্রীময়ীকে দেখলেই নেটিজেনদের কমেন্ট বক্সে ঝড় ওঠে— “আবার কার সর্বনাশ করবেন?” বিয়ে না করেও ঘরোয়া ভাব, প্রেম না বলেও প্রেমের ঘনিষ্ঠতা—এ যেন ‘নির্বাচনী প্রচার’-এর আড়ালে নতুন ধারাবাহিকের স্ক্রিপ্ট! কাঞ্চনের প্রাক্তন স্ত্রী পিঙ্কির অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রীময়ীই নাকি তাঁদের সংসার ভাঙার নেপথ্যে। যদিও শ্রীময়ী একাধিকবার নিজেকে ‘বন্ধু’ বলেই দাবি করেছেন।কিন্তু সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো আর তাঁদের একান্ত ‘বন্ধুত্ব’ দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নেটিজেনরা বলে উঠেছেন— “বন্ধুত্ব মানে বুঝি এখন সংসার কেড়ে নেওয়া?” এখন তো ট্রোলাররা প্রায় রোজই জিজ্ঞেস করে বসেন— “নেক্সট সিজনে কবে বিয়ে পর্ব?” টলিপাড়ার এই বহুচর্চিত জুটি শুরুতে বন্ধুত্বের ছাতার নিচে নিজেদের সম্পর্ক ঢেকে রেখেছিলেন, যদিও গসিপ আর গুজব তাঁদের কখনও ছাড়েনি। বারবার তাঁরা মিডিয়ার সামনে জানিয়েছেন— “আমরা শুধু ভালো বন্ধু”, কিন্তু শেষমেশ যে সেই বন্ধুত্বই সাতপাক ঘুরে গিয়ে বিবাহে পরিণত হবে, তা বোধহয় তখন কেউ কল্পনাও করেনি!
২০২৩-এ পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানার পর, কাঞ্চন মল্লিক নতুন সংসার শুরু করেন অভিনেত্রী শ্রীময়ীর সঙ্গে। তবে শ্রীময়ী-কাঞ্চনের এই সম্পর্ক নিয়ে যেমন প্রেমের গল্প ছড়িয়েছে, ঠিক তেমনি জড়িয়েছে তীব্র বিতর্ক আর ট্রোলিংও। কাঞ্চনের প্রাক্তন স্ত্রী পিঙ্কি বারবার ইঙ্গিত করেছেন, এই সম্পর্কের কারণেই তাঁদের সংসার ভেঙেছে। অন্যদিকে, কাঞ্চন ও শ্রীময়ী বারবার বলেছেন— তাঁদের সম্পর্ক দোষের কিছু নয়। কিন্তু মানুষ কি সবসময় বিশ্বাস করে তারকাদের বয়ান?
নেটদুনিয়ার ‘গণজুরি আদালত’ তো তৎপর, আর সেখানে শ্রীময়ী প্রায়শই কাঠগড়ায়! সম্প্রতি এক নেটিজেন সরাসরি শ্রীময়ীকে কাঞ্চন-পিঙ্কির বিবাহবিচ্ছেদের কারণ বলে কটাক্ষ করেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেন শ্রীময়ীই নাকি কাঞ্চনের ছেলের জীবন থেকে বাবাকে সরিয়ে দিয়েছেন। এসব শুনে শ্রীময়ীর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে, আর তিনি গর্জে ওঠেন— “নিজের প্রোফাইল লক করে রেখে অন্যের দেওয়ালে গিয়ে বিষ ছড়াচ্ছেন? সাহস থাকলে সামনে এসে বলেন!”
শুধু তাই নয়, অভিনেত্রী জানিয়ে দেন, এবার তিনি সাইবার সেলে রিপোর্ট করবেন এই ধরনের ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে। আসলে তারকারা যে কেবল স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী অভিনয় করেন, তা নয়— বাস্তব জীবনেও অনেক সময় তাঁরা ড্রামার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে পড়েন। কিন্তু ট্রোলারদেরও যেন আলাদা এক স্ক্রিপ্ট থাকে! যেখানে কোনো প্রমাণ দরকার নেই, যুক্তির বালাই নেই, শুধু কল্পনার চিত্রনাট্যে কাদা ছোঁড়া চলে অবলীলায়। আর শ্রীময়ীর কপালে সেই কাদা লেগেছে প্রচুর।
আরও পড়ুনঃ মেয়ে না বউ? সম্পর্কের জট ছিঁড়ে শুভলক্ষ্মীকে আকাশের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব সেবন্তীর! তবে কি এবার নতুন জীবনের পথে শুভ?
এখন প্রশ্ন— তিনি কি এই সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে যাবেন, নাকি প্রত্যেকবারই গর্জে উঠবেন? সব মিলিয়ে কাঞ্চন-শ্রীময়ীর ‘বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে’ গড়া দাম্পত্য জীবন এখন একেবারে ট্রোলের টার্গেট জোনে। প্রেম, বিচ্ছেদ, বিয়ে— সবটাই এক একটা এপিসোডের মতো, আর দর্শক সেই ধারাবাহিকের রেটিং বাড়াচ্ছেন নিজেদের মন্তব্যে! এখন দেখার, শ্রীময়ী এই সোশ্যাল স্ট্রাগলেও ঠিক ‘লিড রোলে’ থাকতে পারেন কিনা।