“এরা তো বুড়ি হয়ে গেছে, আর কোনো কাজ পাবে না,তাই সরকারের গায়ে লেগে থাকতে হয়! যদি টিকিট পায়” — দুর্গোৎসবের কার্নিভালে গিয়ে নোংরা কটা’ক্ষের মুখে অপরাজিতা আঢ্য!

গত রবিবার অর্থাৎ ৫ অক্টোবর, কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর কার্নিভাল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে টলিউডের বহু তারকা ছিলেন সেখানে। বিভিন্ন বড় পুজো কমিটির প্রতিমা ও দলনৃত্যের মধ্যে দিয়ে ছিল উৎসবের আনন্দ। সেলিব্রিটিদের উচ্ছ্বাস, আলোকসজ্জা আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় জমে উঠেছিল গোটা শহর। কিন্তু ঠিক সেই আনন্দমুখর মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

একদিকে রেড রোডে আলো ঝলমলে কার্নিভাল, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে চলছে মৃত্যু মিছিল। লাগাতার বৃষ্টিতে সেখানে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। বহু মানুষ গৃহহীন, বহু এলাকা এখনো জলের তলায়। ঠিক এই সময় কলকাতার টলিউড তারকাদের আনন্দে মেতে ওঠা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখছেন—“উত্তরবঙ্গে মানুষ বাঁচার লড়াই লড়ছে, আর এখানে চলছে আনন্দ উৎসব!”

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। রেড রোডের কার্নিভালে তাঁকে নাচতে ও হাসিমুখে দেখা যায়, আর সেই দৃশ্য ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তীব্র ট্রোল। কেউ বলছেন, “২০২৬-এর ভোটের টিকিট পেতে চলেছেন”, আবার কেউ কটাক্ষ করেছেন—“বাংলার অভিনেত্রীরা এখন মুখ্যমন্ত্রীর চটি চাটা মাল হয়ে গেছে।”

নেটিজেনদের মন্তব্যে যেন ক্ষোভ উপচে পড়ছে। কেউ লিখেছেন, “ফালতু নাচ করে টিআরপি পেতে এরা সব যায়গায় যায়।” আবার আরেকজন লিখেছেন, “উত্তরবঙ্গের মানুষ বন্যায় ভাসছে, ওরা সিনেমা প্রমোশনে ব্যস্ত।” এমনকি কেউ কেউ অশালীন ভাষায় কটাক্ষ করে লিখেছেন, “এরা বুড়ি হয়ে গেছে, কাজ পাবে না, তাই সরকারের গায়ে লেগে থাকতে হয়।”

আরও পড়ুনঃ “আমি আজীবন শাঁখা-সিঁদুর পরেই দেবীবরণ করব”— বিচ্ছেদের পরেও দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৃথা চক্রবর্তী, ট্রোলের জবাবে বললেন নিজের কথা

তবে সমালোচনার মুখে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রথমবার তিনি কার্নিভালে অংশ নিয়েছেন এবং তাঁর ভালোও লেগেছে। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার সিনেমা ‘শ্রী দুর্গা’-র গান রিলিজ হয়েছিল কার্নিভালে, তাই আমি উপস্থিত ছিলাম।” যদিও এই ব্যাখ্যা দিয়েও তিনি ট্রোল থেকে রেহাই পাননি। বরং তাঁর মন্তব্যের পর আরও বাড়ছে সমালোচনার ঝড়।

You cannot copy content of this page