“হঠাৎ চোখের সামনে সাদা আলো হয়ে গেল…” এতদিন পরে সামনে এল পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়ের অকাল মৃ’ত্যুর প্রকৃত ঘটনা! মুখ খুললেন একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী মালবিকা সেন! কীভাবে প্রাণ হারান অভিনেতা? অজানা তথ্য এবার সামনে!

আজও আলোচনায় তাঁর নামটা উঠলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে মঞ্চের আলো, আবার কারও মনে পড়ে ছোটপর্দার পরিচিত মুখ। মুম্বইয়ের নিশ্চিত চাকরি ছেড়ে পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায় (Pijush Ganguly) যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, সেটার কেন্দ্রেই ছিল অভিনয়। কলকাতায় ফিরে এসে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন একজন সংবেদনশীল অভিনেতা হিসেবে। নাটকের মঞ্চ থেকে শুরু করে টেলিভিশন আর সিনেমা, সব জায়গাতেই তাঁর কাজ ছিল চোখে পড়ার মতো। সহকর্মীরা আজও বলেন, কাজের জায়গায় তিনি ছিলেন চুপচাপ কিন্তু চরিত্রে ঢুকলে সম্পূর্ণ বদলে যেতেন!

তাঁর কাজের পরিধিও ছিল বিস্তৃত। ব্রাত্য বসু থেকে শুরু করে অনেকের সঙ্গেই মঞ্চ ভাগ করেছেন তিনি। ছোটপর্দার দর্শকরা তাঁকে বিশেষ করে আজও মনে রেখেছেন ‘জল নূপুর’ ধারাবাহিকের পরীর স্যারের চরিত্রে। পাশাপাশি ‘ল্যাপটপ’, ‘গয়নার বাক্স’ বা ‘ইতি শ্রীকান্ত’-এর মতো ছবিতে তাঁর উপস্থিতি ছবিগুলিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছিল। অভিনয়ের বাইরেও ছবি আঁকা, গান শোনার অভ্যাসেই ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। কিন্তু এই সৃষ্টিশীল জীবনের মাঝেই নেমে আসে এক ভয়ানক মোড়!

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের দুর্গাপুজোর সপ্তমীর দিনে যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে এতদিন নানান কথা শোনা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল যে সেদিন একটি এক্সপ্রেসওয়েতে, সাঁতরাগাছি সেতুর কাছে সংঘর্ষে ভেঙে পড়ে তাঁদের গাড়ি। পীযূষ গুরুতর আহত হন, পাশে থাকা অভিনেত্রী তথা বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মালবিকা সেন (Malabika Sen) তুলনামূলকভাবে রক্ষা পান। দীর্ঘদিন পর অবশেষে সামনে এলো, কি করতে গিয়ে ঘটেছিল সেই দুর্ঘটনা আর কেমন করেই বা ঘটেছিল! এদিন মালবিকা সেন নিজেই জানিয়েছেন সবটা।

ঘটনাটি ঘটার সময় একমাত্র তিনিই ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বললেন, “২০১৫ সালে আমাদের ‘মহামায়া’ নামের একটা বড় প্রজেক্টের কথা ছিল। আমার স্বামী অনেক বিনিয়োগকারীও এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন ছিল একটা এমন জায়গা, যেখানে দুর্গাপুজোর আবহ ফুটিয়ে তোলা যায় আর সেই জন্য একটা জায়গাতে আমাদের রেইকি করতে যাওয়ার কথা ছিল। সেইদিন তাই আমি, পীযূষ দা আর আমাদের ফটোগ্রাফার সেখানে গিয়েছিলাম। একটা খুব সুন্দর জায়গা, চারিদিকে কাশফুল।

ফেরার পথে ফটোগ্রাফারকে নামিয়ে দিয়ে আমরা একটা হাইওয়ে দিয়ে ফিরছিলাম। তখন আমি মনে হয় ফোনে কিছু একটা করছিলাম, হঠাৎ চোখের সামনে সাদা আলো হয়ে গেল আর তারপর কিছু মনে নেই। যখন চোখ খুলল, জানতে পারলাম আমি হাসপাতালে আর পীযূষ দার খুব খারাপ অবস্থা। তার দু’দিন পরেই তো উনি চলে গেলেন। তবে, সেদিন কোনও বড় গাড়ি নয়, বরং ছোট মালগাড়ি ধাক্কা মেরেছিল সেটুকু বুঝেছি। ঠাকুরের আশীর্বাদে আমার খুব বেশি ক্ষতি হয়নি।”

আরও পড়ুনঃ নতুন বছরের শুরুতেই ফের চর্চায় সাহেব-সুস্মিতা, লুকোনোর চেষ্টা করেও ফাঁস হয়ে গেল আসল সত্যি! নতুন বছরের প্রথম দিনেই কি অস্বীকারের পর্ব শেষ? ২০২৬-এ সাতপাকে বাঁধা পড়ার পরিকল্পনা করছেন তাঁরা?

তাঁর কথাগুলোর মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে সেই দিনের আতঙ্ক আর হঠাৎ হারানোর শূন্যতা! চিকিৎসার পর মালবিকা ফিরলেও পীযূষের শরীর সঙ্গ দেয়নি। ২৫ অক্টোবর গভীর রাতে, হাসপাতালে তাঁর মৃ’ত্যু হয়। বয়স তখন মাত্র পঞ্চাশ এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নাটক, টেলিভিশন আর চলচ্চিত্র জগত জুড়ে নেমে আসে নীরবতা। আজও সহকর্মী আর দর্শকদের স্মৃতিতে পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে গেছেন তাঁর কাজের মধ্য দিয়েই। স্ত্রী এবং ছেলেকে ফেলে যাওয়া মানুষটি, পুরস্কার বা সম্মানের চেয়ে বেশি করে মনে রাখার মতো হয়ে আছেন তাঁর চরিত্রগুলোর জন্য।

You cannot copy content of this page