“সেই দৃশ্যের কথা মনে পড়লেই আজও শিউরে উঠি…” অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ধ’র্ষণের ন’গ্ন শুটিং, আচমকা র’ক্তপাত শুরু! কোন ছবির শুটিংয়ের সেই স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় মৌসুমী চ্যাটার্জিকে? ক্যামেরার আড়ালে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল তাঁর সঙ্গে?

বাংলা ও হিন্দি ছবির দর্শকদের কাছে এক চিরসবুজ নাম মৌসুমী চ্যাটার্জি (Moushumi Chatterjee)। ১৯৪৮ সালের ২৬ এপ্রিল কলকাতায় জন্ম তাঁর, প্রকৃত নাম ছিল ইন্দিরা চ্যাটার্জি। পরবর্তীতে নাম বদলে হয়ে ওঠেন ‘মৌসুমী’। পরিচালক তরুণ মজুমদার-এর হাত ধরে ‘বালিকা বধূ’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ। সেখান থেকেই শুরু এক দীর্ঘ যাত্রা—যা তাঁকে নিয়ে যায় টলিউড থেকে বলিউডের শীর্ষে।

অভিনয়জীবনের শুরুটা যতটা স্বপ্নময় ছিল, ব্যক্তিগত জীবন ততটাই চ্যালেঞ্জে ভরা। খুব অল্প বয়সেই তাঁর বিয়ে হয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্র জয়ন্তর সঙ্গে। তখনও তিনি কিশোরী। ‘বালিকা বধূ’-র শুটিং চলাকালীনই সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে কাঁধে। পরে বলিউডে পা রাখেন ১৯৭২ সালে ‘অনুরাগ’ ছবির মাধ্যমে। ছবির পরিচালক ছিলেন শক্তি সামন্ত। সেখানে এক অন্ধ মেয়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয় এবং ছবিটি সেরা ছবির পুরস্কারও পায়।

সত্তরের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় নায়িকা। অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, ঋষি কাপুর, জিতেন্দ্র সহ বহু তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন। পর্দার বাইরে তাঁকে ঘিরে নানা গুঞ্জন উঠলেও তিনি কখনও তা গুরুত্ব দেননি। বরং স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী সবসময় তাঁকে সমর্থন করেছেন। হাসিখুশি, প্রাণবন্ত স্বভাবের জন্য তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা পরিচিতি পেয়েছিলেন।

তবে ক্যারিয়ারের মাঝেই এক কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। ‘রোটি কাপড়া অর মাকান’ ছবিতে তাঁর একটি ধর্ষণের দৃশ্য শুট করার কথা ছিল। তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। দৃশ্যটির শুটিং চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রক্তপাত শুরু হয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সৌভাগ্যবশত সন্তানের কোনও ক্ষতি হয়নি। বহু বছর পরেও সেই দিনের আতঙ্ক তিনি ভুলতে পারেননি।

আরও পড়ুনঃ কাছে নেই মা আর দাদা, রঙের উৎসবে মন খারাপ ছোট্ট মেয়ের! অ’গ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্যে আটকে শুভশ্রী ও ইউভান, দোল রঙহীন রাজ ও ইয়ালিনীর! কবে কলকাতায় ফিরছেন মা-ছেলে? ‘সব ঠিক থাকলে…’ জানালেন রাজ চক্রবর্তী!

মৌসুমী জানিয়েছেন, ওই দৃশ্য তাঁর মানসিক ও শারীরিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ঝুঁকি নিয়েই তিনি কাজটি করেছিলেন, কিন্তু আজও সেই অভিজ্ঞতা মনে পড়লে শিউরে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি কাজ কমিয়ে পরিবারে বেশি সময় দেন। ‘জাপানিজ ওয়াইফ’ ও ‘গয়নার বাক্স’-এর মতো ছবিতে তাঁকে আবারও দেখা গেলেও, ব্যক্তিগত জীবনের বড় আঘাত—২০১৯ সালে মেয়ে পায়েলের মৃত্যু—তাঁকে আরও গুটিয়ে দেয়। তবুও বাংলা ও হিন্দি সিনেমায় তাঁর অবদান আজও দর্শকদের মনে অমলিন।

You cannot copy content of this page