অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ‘সায়ক চক্রবর্তী’র (Sayak Chakraborty) আজকের পরিচয় অনেকটাই সোশ্যাল মিডিয়াকে ঘিরে। সেই পথ চলাতেই তৈরি হয়েছে কিছু গভীর সম্পর্ক, যার মধ্যে ‘দেবলীনা নন্দী’র (Debolina Nandy) নাম আলাদা করে বলতেই হয়। বন্ধুত্বটা কেবল অনলাইনের নয়, ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্তে একে অন্যের পাশে থেকেছেন দু’জনেই। তাই দেবলীনাকে হাসপাতালে শুয়ে থাকতে দেখে সায়কের আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। ছবিটা প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়ায়, কিন্তু এর পেছনের গল্পটা যে এতটা গভীর, তা অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেননি।
সায়কের পোস্টে দেবলীনাকে নাক দিয়ে নল লাগানো অবস্থায় দেখা যাওয়ায় প্রশ্নের ঝড় ওঠে। তিনি শুধু এটুকুই লেখেন যে এখন সে একটু ভালো আছে। এই সংক্ষিপ্ত কথার আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘদিনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি আর অব্যক্ত কষ্ট। তার আগের রাতেই দেবলীনার ফেসবুক লাইভে উঠে আসা কিছু কথা আসলে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে সমস্যাগুলো হঠাৎ তৈরি হয়নি। পেশাগত স্বপ্ন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, বিয়ের পর প্রত্যাশা মিলিয়ে এক অদ্ভুত টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
লাইভে দেবলীনা যে প্রশ্নগুলো তুলেছিলেন, সেগুলো অনেক নারীরই চেনা। কেন পেশা আর পরিবার নিয়ে সিদ্ধান্তের ভারটা প্রায়শই মেয়েদের কাঁধেই পড়ে, কেন বিয়ের পর তাদের কাছ থেকেই বেশি ছাড় চাওয়া হয়, এই প্রশ্নগুলোই যেন জমে উঠেছিল দীর্ঘদিন। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, মায়ের প্রতি ভালোবাসা, নিজের কাজের স্বাধীনতা, সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে তিনি যে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। এই জায়গাতেই পরদিন নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নেন তিনি!
এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতি উজাড় করে দিলেন সায়ক। হাসপাতালে দেবলীনাকে দেখে এসে তিনি জানালেন, কী হয়েছে? সায়কের ভাষায়, “আমার একদমই মনে হয় না যে নিজের জীবনের থেকে ঊর্ধ্বে ভালোবাসা বা সম্পর্কের গুরুত্ব থাকা উচিৎ। আগে তো নিজেকে ভালো রাখতে হবে, তবেই না অন্যকেও ভালোবাসা যাবে! কিন্তু আমরা অন্যকে নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি একটা সিদ্ধান্তে চলে আসি, সমালোচনা করি। আমরা ভাবি যে এগুলো আবার কেউ করে নাকি!
এমনকি আমারও একই কথা, এইটার কী মনে? নিজেকে শেষ করে দেওয়া কোনও সমাধান হতে পারে না! জীবন যখন আছে, তখন লড়াই করতেই হবে। এবার আসি দেবলীনার কথায়, ও কিন্তু এতদিন লড়াই করেই এসেছে! এটা আমি বা আপনি হয়তো বাইরে থেকে বুঝতে পারব না, তাই বলেই ফেলছি যে কেন করল? কী এমন সমস্যা? এগুলো যার উপর দিয়ে যায়, সে শুধুমাত্র বোঝে যে কেমন ভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়! সবাই আমরা বাঁচতেই ভালোবাসি আর সেখানে একটা বৈবাহিক সম্পর্কে যখন এমন কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় দীর্ঘদিন ধরে, তখনই এমন করতে পারে!
আমি বহুবার বলেছিলাম দেবলীনাকে, সমস্যা হচ্ছে যখন বেরিয়ে আসতে। কারণ টিকিয়ে রাখার জায়গাটা আর নেই। সবটা তো আর বলতে পারি না, তবে তোমরা যদি ওর লাইভটা দেখে থাকো তো বুঝে যাবে। বিয়ের আগে থেকেই অল্পস্বল্প এইসব সমস্যা চলছিল, আমি বলেছিলাম যে একটু ভেবে দেখ! কিন্তু হয় না, ভালোবাসা অন্ধ। যার কপালে যেটা আছে তো হবেই! তারপর বিয়ে হতেই চরম আকার নিল সমস্যাগুলো, দীর্ঘ এক বছরের প্রতিদিন এই সমস্যা গুলোর মধ্য দিয়ে ওকে যেতে হয়েছে। দেখুন সবটা আমি বলতে পারব না যে কী হয়েছে? বা ও নিজের সঙ্গে কী করেছে?
আরও পড়ুনঃ “শেষ কথা…আর পারছি না নিতে, সবকিছু শেষ করে দেবো!” লাইভে বার্তার পরই হাসপাতালে দেবলীনা! নাকে নল লাগানো অবস্থার ছবি, প্রকাশ্যে আনলেন পরম বন্ধু সায়ক! আশঙ্কাজনক পোস্ট ঘিরে চরম উদ্বেগ! কী ঘটেছে গায়িকার সঙ্গে?
কারণ, জীবনটা ওর আর নিজের থেকেই বলবে যদি বলার হয়। আমি হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম, এখন ভালো আছে। দেবলীনা যেটা করেছিল, সেখান থেকে ডাক্তার ওকে বের করে আনতে পেরেছে।” সব মিলিয়ে এই ঘটনায় একটাই বিষয় সামনে এসেছে, বাইরে থেকে কাউকে দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কতটা সহজ, আর ভিতরের লড়াইটা কতটা অদৃশ্য। সায়কের কথায় কোথাও অভিযোগ নেই, আছে শুধু বন্ধুর প্রতি দায়িত্ববোধ আর জীবনের প্রতি একরাশ বিশ্বাস। দেবলীনা এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।






