মুখ খুললেই যাঁদের নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, টলিপাড়ায় সেই তালিকায় ‘কাঞ্চন মল্লিক’ (Kanchan Mullick) এবং ‘শ্রীময়ী চট্টোরাজ’-এর (Sreemoyee Chattoraj) নাম সবার উপরেই থাকে। কাজের বাইরের জীবন, সম্পর্কের শুরু, বয়সের ফারাক মিলিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত গল্প বারবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। কিন্তু এই চর্চার আড়ালে যে অভিজ্ঞতাগুলো জমে ছিল, তা এতদিন খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে কাঞ্চন যখন স্ত্রী শ্রীময়ীকে ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন, তখন সেই ব্যক্তিগত কথোপকথনের ফাঁকেই উঠে আসে সম্পর্কের অন্য এক বাস্তব ছবি।
সাক্ষাৎকারে কাঞ্চন জানান, বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, ভিতরে ভিতরে তাঁদের দুজনের জীবন ততটাই আলাদা স্বভাবের। খাবারের পছন্দ থেকেই শুরু, যেখানে তিনি মাংসপ্রেমী, সেখানে শ্রীময়ী নিরামিষ খাবারেই বেশি স্বচ্ছন্দ। আবার একান্ত সময়ে কীসে বিরক্ত হন, সেই প্রশ্নে কাঞ্চন অকপটভাবে স্বীকার করেন, ক্লান্ত দিনের শেষে তাঁর অতিরিক্ত বকবকানি নাকি স্ত্রী একেবারেই সহ্য করতে পারেন না! ছোট ছোট এই কথাগুলোতেই ধরা পড়ে দাম্পত্যের স্বাভাবিক রসায়ন, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি বোঝাপড়াও সমান জরুরি।
তবে, এই স্বাভাবিকতার বিপরীতেই রয়েছে তাঁদের সম্পর্ক ঘিরে তৈরি হওয়া কটাক্ষের দীর্ঘ ইতিহাস। শ্রীময়ী নিজেই আগের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, সম্পর্কের শুরুর দিকে তাঁকে এমন ভাষায় চিহ্নিত করা হতো, যা একজন নারীর সম্মানকে সরাসরি আঘাত করত। কোথাও একসঙ্গে গেলে ‘মাল’ শব্দ শুনতে হয়েছে তাঁকে, তাও আবার কাঞ্চনের পরিচিতদের থেকেই! সময় বদলেছে, অবস্থান বদলেছে কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি।
কাঞ্চন অবশ্য এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, শ্রীময়ী আদৌ কোনও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না। তবে ছোট ছোট বিষয় নিয়ে তিনি খুব বেশি ভাবেন আর এটাই তাঁর স্বভাব। এই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে এক ধরনের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা, যেখানে স্ত্রীর মানসিক গঠনকে বোঝার আগ্রহটা স্পষ্ট। এদিকে সম্পর্কের বাইরে যতই সমালোচনা থাকুক, নিজেদের ঘরের ভিতরে যে তাঁরা দুজনেই আলাদা করে একে অপরকে পড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তা এই কথোপকথনে ধরা পড়ে।
আরও পড়ুনঃ “আমার ঠিকানা এরপর বৃদ্ধাশ্রম!” অভিনয়ে জীবনে সাফল্য, সংসারে অশা’ন্তি নেই! তবুও কেন নিজের বাড়িতে থাকার জায়গা হচ্ছে না ইন্দ্রানী হালদারের? হঠাৎ এই মন্তব্যে, কীসের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী?
এদিন শেষে যখন কাঞ্চনকে জানতে চাওয়া হয়, তাঁর মতে ‘সুন্দর’ শব্দের অর্থ কী? তখন তাঁর উত্তর ছিল যথেষ্ট পরিণত। কাঞ্চনের কথায়, “এটা খুবই জটিল একটা শব্দ! তবে, আমায় ব্যাখ্যা করতে বললে বলবো, যার ভেতরটা সুন্দর তাঁর বাইরেটাও সুন্দর। মনটা সুন্দর না হলে, শরীর সুন্দর হয়ে লাভ নেই।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, বাহ্যিক সৌন্দর্য বা সমাজের চোখে গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে তাঁর কাছে মানুষের ভেতরের গঠনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ভাবনাতেই হয়তো এত বিতর্কের মাঝেও এই সম্পর্ক আজ নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে।






“তুমি নাকি ডিভোর্স স্পেশালিস্ট!” বারবার দোষারোপ, কটা’ক্ষে বি’দ্ধ সায়ক! নেটিজেনের খোঁচায় এমন জবাব দিলেন ভ্লগার-অভিনেতা, মুহূর্তে বদলে গেল আলোচনা! কী বললেন তিনি?