“একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ভালো লাগা তৈরি হলেও, সময়ের সঙ্গে সবকিছুর মানে বদলায়” সাহেবের বেগম হচ্ছেন সুস্মিতা! মঞ্চেই না, এবার বাস্তবের অর্ধাঙ্গিনী হতে চলেছেন অভিনেত্রী? প্রেমের মরশুমে, কীসের ইঙ্গিত দিলেন জুটি?

মেগা শেষ হয়ে গেলেও সাহেব ভট্টাচার্য ও সুস্মিতা দে’কে ঘিরে দর্শকের কৌতূহল একটুও কমেনি। পর্দার রসায়ন থামলেও বাস্তবে তাঁদের নাম জড়িয়ে প্রেমচর্চা এখনও অব্যাহত। ‘কথা’ শেষ হওয়ার পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক মাস, তবু সাহেব-সুস্মিতাকে নিয়ে গুঞ্জনের আগুন নিভছে না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহল—সর্বত্রই একটাই প্রশ্ন, তাঁরা কি শুধুই সহ-অভিনেতা?

এই জল্পনার মাঝেই ফের একসঙ্গে ধরা দিলেন সাহেব ও সুস্মিতা। তবে ছোট পর্দা কিংবা ওটিটি নয়, এবার তাঁদের প্রত্যাবর্তন থিয়েটারের মঞ্চে। নতুন করে জুটি বাঁধার খবর সামনে আসতেই ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। অনেকেই ভাবছিলেন, হয়তো কোনও ওয়েব সিরিজের ইঙ্গিত মিলছে। কিন্তু বাস্তবটা আরও গভীর, আরও চ্যালেঞ্জিং।

অবন্তী চক্রবর্তীর নির্দেশনায় নতুন নাটক ‘সিরাজ’-এর হাত ধরে মঞ্চে ফিরছেন এই জনপ্রিয় জুটি। নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার ভূমিকায় সাহেব ভট্টাচার্য, আর সিরাজের বেগম লুৎফুন্নেসার চরিত্রে অভিনয় করছেন সুস্মিতা দে। বেঙ্গল টকিজ প্রযোজিত এই নাটকের প্রথম শো ১৭ জানুয়ারি জিডি বিড়লা সভাঘরে। নাটকে আরও রয়েছেন বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্পিতা গঙ্গোপাধ্যায়, সেঁজুতি রায় মুখোপাধ্যায় ও পম চট্টোপাধ্যায়।

মঞ্চে ফেরার প্রসঙ্গে সাহেব ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, থিয়েটার তাঁর বহু দিনের ইচ্ছে হলেও ব্যস্ততার কারণে এতদিন শুরু করা হয়ে ওঠেনি। এখন কাজের মাঝখানে যে সময়টুকু পেয়েছেন, সেটাকেই কাজে লাগাতে চান তিনি। সাহেবের কথায়, সে এবং সুস্মিতা কেউই প্রথাগতভাবে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেননি, সেই কারণেই থিয়েটার করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। অভিনেতার মতে, থিয়েটারই একজন শিল্পীকে ভেতর থেকে গড়ে তোলে, অভিনয়ের গভীরতা শেখায়। সুস্মিতাও জানিয়েছেন, নতুন নাটকে কাজ করতে পেরে তিনি ভীষণ খুশি এবং এই অভিজ্ঞতাকে নিজের অভিনয় জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন।

আরও পড়ুনঃ “অভিনেতা হতে চাইনি আমি, চেয়েছিলাম অন্য জীবন” ভাগ্যের খেলায়, অভিনয়ই হয়ে উঠল দেবশঙ্কর হালদারের পরিচয়! অনিচ্ছার মাঝেই লুকিয়ে, সাফল্যের গল্প! জানেন, কীভাবে রঙ্গমঞ্চেই থিতু হলেন তিনি?

এদিকে নাটকে সাহেবের বিপরীতে সিরাজের বেগমের চরিত্রে সুস্মিতাকে নেওয়া নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অনেকেরই কৌতূহল, সাহেব কি ইচ্ছে করেই এই চরিত্রটি সুস্মিতাকে দিয়েছেন? যদিও এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি দু’জনের কেউই। বরং তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে চলতে থাকা গুঞ্জন প্রসঙ্গে দুজনেই একপ্রকার নীরব থাকতেই স্বচ্ছন্দ। সাহেব জানিয়েছেন, এ কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুর মানে বদলায়। তাই এখন যেভাবে সব চলছে, সেভাবেই থাকতে দিতে চান তাঁরা। প্রেমের সীলমোহর কবে পড়বে—সেই উত্তর আপাতত অজানাই থেকে গেল।

You cannot copy content of this page